খুঁজুন
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

এসি ছাড়াই গরমে ঠান্ডা থাকবে ঘর—জানুন ১৫টি সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:২০ পূর্বাহ্ণ
এসি ছাড়াই গরমে ঠান্ডা থাকবে ঘর—জানুন ১৫টি সহজ উপায়

গ্রীষ্ম এলেই বাংলাদেশের বেশিভাগ ঘরবাড়িতে শুরু হয় তাপের সঙ্গে লড়াই। দুপুরের প্রখর রোদ, গরমে ভারী হয়ে থাকা বাতাস আর ঘরের ভেতর জমে থাকা তাপ অনেক সময় জীবনযাপনকে অস্বস্তিকর করে তোলে।

অনেকেই এই সমস্যার সমাধান হিসেবে এয়ার কন্ডিশনার বা এসির কথা ভাবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সবার পক্ষে এসি কেনা বা নিয়মিত চালানো সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ বিলের চাপ, পরিবেশগত প্রভাব এবং যন্ত্রের খরচ—সব মিলিয়ে অনেকেই বিকল্প উপায় খুঁজে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘর ঠান্ডা রাখতে সব সময় এসির প্রয়োজন হয় না। ঘরের নকশা, বাতাস চলাচল, রঙ, আসবাবপত্রের ধরন কিংবা দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস বদলালেই অনেক ক্ষেত্রে ঘরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এমন কিছু সহজ কৌশল আছে, যেগুলো অনুসরণ করলে বড় অঙ্কের খরচ ছাড়াই ঘরকে অনেকটা শীতল রাখা যায়। একই সঙ্গে এসব পদ্ধতি পরিবেশবান্ধবও।

নিচে এমনই ১৫টি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো, যেগুলো অনুসরণ করলে গরমের দিনেও ঘরকে তুলনামূলকভাবে ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব।

১. জানালা কখন খুলবেন, কখন বন্ধ রাখবেন

ঘরের জন্য প্রাকৃতিক আলো জরুরি হলেও গরমকালে সূর্যের আলো যত বেশি ঢুকবে, ঘর তত গরম হবে। তাই দিনের বেলায় বিশেষ করে পশ্চিম ও উত্তরমুখী জানালা বন্ধ রাখা ভালো।

রান্না করলে ঘরের তাপমাত্রা বাড়ে। তাই গরমে এমন খাবার খাওয়া ভালো যা অল্প সময়েই রান্না হয়।

১২. বৈদ্যুতিক যন্ত্র

মোবাইল চার্জার, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ অনেক যন্ত্র তাপ উৎপন্ন করে।

ব্যবহার শেষে প্লাগ খুলে রাখা ভালো।

১৩. গাছ লাগানো

বাড়ির আশপাশে বড় গাছ থাকলে তা প্রায় ৭০ শতাংশ রোদ আটকে দিতে পারে।

ঘরের ভেতরে মানিপ্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা বা অ্যারিকা পাম রাখা যেতে পারে।

১৪. ডিহিউমিডিফায়ার

ডিহিউমিডিফায়ার ঘরের আর্দ্রতা কমায়। বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি ঘরকে তুলনামূলক আরামদায়ক করে।

১৫. শরীর ঠান্ডা রাখা

ঘর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার খাওয়া, ঠান্ডা পানিতে গোসল এবং সুতির ঢিলেঢালা পোশাক পরা এতে সহায়ক।

সব মিলিয়ে, কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন ও সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে এসি ছাড়াও ঘরকে অনেকটা শীতল রাখা সম্ভব। এতে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়, তেমনি পরিবেশও থাকে নিরাপদ।

সূত্র : বিবিসি

যুক্তির লড়াইয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ, আলফাডাঙ্গায় চ্যাম্পিয়ন পাইলট স্কুল

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
যুক্তির লড়াইয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ, আলফাডাঙ্গায় চ্যাম্পিয়ন পাইলট স্কুল

‘রুখবো দুর্নীতি, গড়বো দেশ—হবে সোনার বাংলাদেশ’ এই অদম্য প্রত্যয় বুকে ধারণ করে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা। তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বে সততা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা ছড়িয়ে দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্যোগে এবং আলফাডাঙ্গা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এ বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করা হয়।

​রোববার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল (পাইলট) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে উপজেলার ৪টি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই মেধা-লড়াই শুরু হয়। যুক্তি, তথ্য আর পাল্টা যুক্তির মননশীল লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্বাগতিক প্রতিষ্ঠান আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল (পাইলট) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

নক-আউট পর্বের প্রথম ম্যাচে ‘ক’ গ্রুপে বিতর্কের বিষয় ছিল— ‘অভাব নয়, সীমাহীন লোভই দুর্নীতির প্রধান কারণ’। এতে প্রস্তাবনার পক্ষে লড়াই করে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিপক্ষে অবস্থান নেয় হেলেঞ্চা উচ্চ বিদ্যালয়।

​অন্যদিকে ‘খ’ গ্রুপে বিতর্কের বিষয় নির্ধারণ করা হয়— ‘দুর্নীতির মূল কারণ হলো আইনের শাসনের অভাব’। এই ম্যাচে পক্ষে ছিল কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমি এবং বিপক্ষে যুক্তি পেশ করে জাটিগ্রাম এম.এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

​দুই গ্রুপের সেরা দুই দলকে নিয়ে মুখোমুখি করা হয় গ্র্যান্ড ফাইনালে। চূড়ান্ত পর্বের রোমাঞ্চকর বিতর্কের বিষয় ছিল— ‘দুর্নীতিই বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রধান অন্তরায়’। শব্দের জাদুতে হলরুম মাতানো এ ম্যাচে বিচারকদের রায়ে বিজয়ের হাসি হাসে আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল (পাইলট) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জয়ী দলের বিতার্কিকরা হলেন— আদিবা আক্তার অর্পা (নবম শ্রেণি), সুমাইয়া সামিন (নবম শ্রেণি) ও ফাহমিদা শাদ দিবা (অষ্টম শ্রেণি)। এছাড়া আসরে অনন্য সাধারণ নৈপুণ্য দেখায় কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির সাবরিনা, ফাহমিদা ও মোহাম্মাদ; হেলেঞ্চা উচ্চ বিদ্যালয়ের মার্জিয়া মার্জান তরী, মাশরুবা জাহান ও লামিয়া আক্তার এবং জাটিগ্রাম এম.এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গোধুলী, মাইশা ও মাশরুবা।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল হক সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ।

​বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ আলো করে ছিলেন দুদকের সহকারী পরিদর্শক মো. শামীম আহমেদ, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশরাফুর রহমান, আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুল ইসলাম এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মো. তাজমিনউর রহমান (তুহিন) ও শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস । মিলন কুমার সরকারের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সুশাসন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ সমাজকে এখন থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনাই শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

​পুরো প্রতিযোগিতায় বিচারকের কড়া দায়িত্বে ছিলেন আলফাডাঙ্গা মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ডা. শায়লা সুলতানা, ভূগোলের প্রভাষক ডা. উম্মে সালমা এবং দুদকের সহকারী পরিদর্শক মো. শামীম আহমেদ। ঘড়ির কাঁটার নিখুঁত হিসাব বা সময় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গৌর দাস গৌতম।

​অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজয়ী ও বিজিত বিতার্কিকদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার সামগ্রী তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এ সময় হলরুমে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

‘ফেন্সী বাবু’

জাহাঙ্গীর আলম
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
‘ফেন্সী বাবু’

নিত্যদিনই মাদক খেয়ে
ঘুম ঢুলঢুল চোখে,
ফেন্সিতে পেট ভরেন তিনি
জানে সর্ব লোকে।

শতেক খানিক ডিলার তাহার
হাজার খানেক খোর,
কেউবা ডাকাত কেউবা নেতা
কেউবা আবার চোর।

গুরুর আশির্বাদে সবাই
খায় চিবিয়ে গাঁজা,
ফেন্সী খোর এই ফেন্সী বাবু
এই শহরের রাজা!

হঠাৎ দেখি ফেন্সী বাবুর
খুব গর্জন মুখে,
নেশা মেশা উড়িয়ে দেবে
নিজের গ্রাম থেকে।

খুবতো হলো মিটিং মিছিল
রাখবো না আর নেশা,
যে যার মতো যাও পালিয়ে
ছাড়ো এমন পেশা।

সবার মাঝে কানাঘুষা
ডিলার উনি নিজে,
এই লোকেতেই বলছে কি সব
বলছে এসব কি-যে।

হাস্যকর এই ভাষণ মাষণ,
অভিনয়ে ভরা,
ওনার লোকে ওনার কাছে
দেবে নাকি ধরা?

খুব হেসেছি খুব হেসেছি
ক্যামনে এটা হয়?
ফেন্সি ডিলার এখন দেখি
আজব কথা কয়!

মাদক সেবী কখোনো কি
মাদক নির্মুল করে?
আগে নিজে হও ভাল হও
এসব মিটিং পরে।

মিটিং শেষে বাসায় গিয়ে
ফেন্সিতে দেও ঢোক,
ফেন্সি তোমার কাছে এখন
উচ্চ দামী কোক।

চাকরির ইন্টারভিউতে বেতনের প্রশ্নের উত্তর দেবেন যেভাবে

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
চাকরির ইন্টারভিউতে বেতনের প্রশ্নের উত্তর দেবেন যেভাবে

চাকরির ইন্টারভিউতে অনেক কঠিন প্রশ্নের জন্য প্রার্থীরা প্রস্তুতি নেন। নিজের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আগেভাগেই চর্চা করেন। কিন্তু একটি প্রশ্নের মুখে পড়েই অনেকের আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে যায়; আর সেটি হলো ‘আপনার প্রত্যাশিত বেতন কত?’

প্রশ্নটি শুনতে সহজ মনে হলেও এটি চাকরির ইন্টারভিউয়ের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি। খুব কম বললে নিজের মূল্য কমিয়ে ফেলার ঝুঁকি থাকে, আবার বেশি বললে নিয়োগদাতার আগ্রহ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।

ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, বেতনসংক্রান্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়ার জন্য প্রয়োজন প্রস্তুতি, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং আত্মবিশ্বাসী যোগাযোগ।

কেন নিয়োগদাতারা বেতন নিয়ে প্রশ্ন করেন?

অনেকেই মনে করেন, শুধু বেতন নির্ধারণের জন্যই এ প্রশ্ন করা হয়। বাস্তবে নিয়োগদাতারা আরও কয়েকটি বিষয় বোঝার চেষ্টা করেন—

– প্রার্থী নিজের বাজারমূল্য সম্পর্কে কতটা সচেতন

– প্রতিষ্ঠানের বাজেটের সঙ্গে তার প্রত্যাশা সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না

– অর্থের পাশাপাশি চাকরির অন্যান্য দিক নিয়ে তার আগ্রহ কতটুকু

– আলোচনায় তিনি কতটা পেশাদার

ক্যারিয়ারবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ইনডিড-এর মতে, বেতন নিয়ে আলোচনা প্রার্থীর পেশাদার প্রস্তুতি ও বাস্তবসম্মত প্রত্যাশারও একটি পরীক্ষা।

ইন্টারভিউয়ের আগে বাজার যাচাই করুন

বেতন নিয়ে কথা বলার আগে সংশ্লিষ্ট পদে বাজারে সাধারণত কত বেতন দেওয়া হয়, সে বিষয়ে ধারণা থাকা জরুরি। একই পদে ঢাকায় যে বেতন দেওয়া হয়, মফস্বল শহরে তা ভিন্ন হতে পারে। আবার বহুজাতিক কোম্পানি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা কিংবা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামোও এক নয়।

নির্দিষ্ট অঙ্ক নয়, যুক্তিসঙ্গত একটি পরিসর বলুন

ইন্টারভিউ বোর্ড যদি সরাসরি প্রত্যাশিত বেতন জানতে চায়, তাহলে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার পরিবর্তে একটি যৌক্তিক পরিসর উল্লেখ করা ভালো।

উদাহরণ: ‘আমার অভিজ্ঞতা, দায়িত্বের পরিধি এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে একটি প্যাকেজ প্রত্যাশা করছি। তবে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় আলোচনার সুযোগ রয়েছে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উত্তর নমনীয়তা প্রকাশ করে এবং আলোচনার পথও খোলা রাখে।

খুব দ্রুত বেতনের বিষয়ে কথা তুলবেন না

ইন্টারভিউয়ের শুরুতেই বেতন নিয়ে আগ্রহ দেখানো অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। প্রথমে নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্ভাব্য অবদান তুলে ধরার চেষ্টা করুন। নিয়োগদাতা যখন বেতন প্রসঙ্গ তুলবেন, তখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলাই বেশি পেশাদার আচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিষ্ঠানের কাছে আপনার মূল্য প্রমাণের আগেই বেতন নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা করলে আপনি শুধু অর্থকেন্দ্রিক—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে।

বর্তমান বেতন জানতে চাইলে কী বলবেন?

বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই নিয়োগদাতারা বর্তমান বেতন সম্পর্কে জানতে চান। এ ক্ষেত্রে তথ্য গোপন না করাই ভালো। তবে শুধু বেতনের অঙ্ক বলেই থেমে গেলে চলবে না।

উদাহরণ: ‘বর্তমানে আমার মোট মাসিক প্যাকেজ ৪৫ হাজার টাকা। তবে নতুন পদে দায়িত্ব ও কাজের পরিধি বেশি হওয়ায় আমি কিছুটা উন্নত প্যাকেজ প্রত্যাশা করছি।’ এ ধরনের উত্তর বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা দুইটিই পরিষ্কার করে।

কম বেতন প্রস্তাব পেলে কী করবেন?

প্রথম প্রস্তাবই চূড়ান্ত নয়। নিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠানই আলোচনার সুযোগ রেখে প্রাথমিক প্রস্তাব দেয়। তাই ভদ্র ও পেশাদার ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরা যেতে পারে।

উদাহরণ: ‘প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ। তবে আমার অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বের পরিধি বিবেচনায় কিছুটা উন্নত প্যাকেজ হলে আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব।’ এ ধরনের উত্তর আলোচনার সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু সম্পর্কের অবনতি ঘটায় না।

যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

প্রস্তুতি ছাড়া ইন্টারভিউতে যাওয়া

অবাস্তব অঙ্ক দাবি করা

খুব কম বেতন চাওয়া

আবেগপ্রবণ হওয়া

‘যা দেবেন তাই চলবে’ বলা

শেষ কথা

চাকরির ইন্টারভিউতে বেতনের প্রশ্নের কোনো একক সঠিক উত্তর নেই। তবে সঠিক প্রস্তুতি, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং আত্মবিশ্বাসী যোগাযোগ আপনাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে পারে।

মনে রাখতে হবে, বেতন শুধু অর্থের বিষয় নয়; এটি আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং পেশাগত মূল্যেরও প্রতিফলন। তাই বেতনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় বিনয়ী থাকুন, কিন্তু নিজের মূল্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

তথ্যসূত্র: ক্যারিয়ার ইনডিড, লিংকডইন, স্যালারি ডটকম ও পেস্কেল