খুঁজুন
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২

ভোটের দিনেই ‘কারচুপি’, সালথায় সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক বিএনপির দুই সমর্থকসহ ৩ জন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
ভোটের দিনেই ‘কারচুপি’, সালথায় সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক বিএনপির দুই সমর্থকসহ ৩ জন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে ভোটগ্রহণের দিন সালথা উপজেলায় ভোট কারচুপি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ইউসুফদিয়া, নারানদিয়া ও জয়ঝাপ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—কালাম মাস্টার, আমজাদ হোসেন ও মো. রবিউল। স্থানীয়দের দাবি, এর মধ্যে কালাম মাস্টার ও রবিউল বিএনপির সমর্থক ও আমজাদ রিকশার সমর্থক।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে প্রভাব বিস্তার, ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দায়িত্বরত সেনা সদস্যরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন।

জানা গেছে, আটক কালাম মাস্টার গট্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটগণ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর-২ আসনে শুরু থেকেই ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং রিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আল্লামা শাহ আকরাম আলী। দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোটগ্রহণ চলাকালে যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মাথার বালিশে হলুদ দাগ কেন হয়, এটা কি কোনও রোগের সংকেত?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
মাথার বালিশে হলুদ দাগ কেন হয়, এটা কি কোনও রোগের সংকেত?

ঘুম থেকে উঠে বালিশে চোখ পড়তেই যদি হলুদ দাগ নজরে আসে, তখন অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। কেউ ভাবেন, এটা হয়তো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, আবার কেউ ভয় পান; এটা কি শরীরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত?

বাস্তবতা হলো, বালিশে হলুদ দাগ খুবই সাধারণ একটি বিষয়। তবে এটিকে একেবারে অবহেলা করাও ঠিক নয়। কারণ, এই দাগ আপনার স্বাস্থ্য ও ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

কেন হয় বালিশে হলুদ দাগ?

বালিশে হলুদ দাগ মূলত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমে থাকা বিভিন্ন উপাদানের কারণে তৈরি হয়। বালিশের কাভার কিছুটা সুরক্ষা দিলেও, ভেতরের বালিশ এসব শোষণ করে নেয়। ফলে ধীরে ধীরে দাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুধু দাগই নয়, এই জমে থাকা উপাদানগুলো বালিশে আর্দ্র ও উষ্ণ পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে সহজেই ব্যাকটেরিয়া ও ডাস্ট মাইটস জন্মাতে পারে।

এটা কি কোনো রোগের সংকেত?

সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট রোগের লক্ষণ না হলেও, হলুদ দাগ একটি ‘হাইজিন ও স্বাস্থ্য সতর্ক সংকেত’ বলা যেতে পারে।

কারণ আর্দ্র পরিবেশে জীবাণু দ্রুত বাড়ে। পাশাপাশি ডাস্ট মাইটস অ্যালার্জি বাড়াতে পারে, শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা বাড়তে পারে এবং ত্বকে ব্রণ বা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যবহৃত বালিশে বিভিন্ন ধরনের ফাঙ্গাসও থাকতে পারে, যা শ্বাসতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ঘুমের সময় কী কী কারণে দাগ হয়?

রাতে ঘুমানোর সময় কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করে—

১. ঘাম: শরীরের ঘাম বালিশে জমে

২. বডি অয়েল: ত্বকের তেল ঘামের সঙ্গে মিশে দাগ তৈরি করে

৩. মৃত ত্বক: প্রতিদিন ঝরে পড়া কোষ বালিশে জমে

৪. চুল ও ত্বকের পণ্য: ব্যবহৃত কেমিক্যাল বালিশে লেগে থাকে

৫. লালা: অনেকের অজান্তেই ঘুমের সময় বের হয়

৬. আর্দ্রতা: সবকিছু মিলে ভেজা পরিবেশ তৈরি করে

কীভাবে দাগ প্রতিরোধ করবেন?

কিছু সহজ অভ্যাসেই বালিশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব—

১. বালিশে প্রটেক্টর বা ওয়াটারপ্রুফ কভার ব্যবহার করুন

২. সপ্তাহে অন্তত একবার বালিশের কভার ধুয়ে ফেলুন

৩. প্রতিদিন বালিশ রোদে বা বাতাসে রাখুন

৪. নিয়মিত ঝেড়ে নিন

এই অভ্যাসগুলো শুধু দাগ কমায় না, বরং ঘুমের মানও উন্নত করে।

দাগ পড়ে গেলে কী করবেন?

বালিশে দাগ পড়ে গেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কেয়ার লেবেল দেখে বালিশ ধুয়ে ফেলুন। তবে, হালকা দাগে সাধারণ ওয়াশই যথেষ্ট।

আর বেশি দাগ হলে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (১:৫ অনুপাতে পানি মিশিয়ে) অথবা ভিনেগার (১:৩ অনুপাতে পানি মিশিয়ে) ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া রোদে শুকালে প্রাকৃতিকভাবে জীবাণুও কমে।

শেষ কথা

বালিশে হলুদ দাগ দেখলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে অবহেলা করাও ঠিক নয়। এটি আপনার শরীর, ঘুমের অভ্যাস ও পরিচ্ছন্নতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, সঠিক ব্যবহার ও সময়মতো পরিবর্তন; এই তিনটি অভ্যাসই আপনাকে দেবে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আরামদায়ক ঘুম।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

হারাম উপার্জনকারীর ইবাদত কী কবুল হয়?

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
হারাম উপার্জনকারীর ইবাদত কী কবুল হয়?

নশ্বর পৃথিবীতে জীবিকানির্বাহের জন্য উপার্জন করতে হয়। চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা কৃষি উৎপাদন ইত্যাদি মাধ্যমে মানুষ অর্থ ও খাদ্য উপার্জন করে থাকে। মানুষের উপার্জনকে উৎসাহিত করা হয়েছে ইসলামে।

তবে সে উপার্জন হতে হবে হালাল ও বৈধ পন্থায়। হালাল বিষয় হালাল উপায়ে উপার্জন করলে আল্লাহও খুশি হন। পক্ষান্তরে হারাম জিনিস উপার্জন করলে কিংবা হালাল জিনিস অবৈধ উপায়ে উপার্জন করলে আল্লাহ নারাজ হন। হারাম সম্পদ ভক্ষণ করলে আল্লাহ ইবাদত ও দোয়া কবুল করেন না। অনেকে নামাজ রোজা হজ করছেন, আল্লাহর নিকট দোয়া করছেন; কিন্তু জীবনে কোনো বরকত নেই।

অশান্তি লেগেই আছে। দোয়া কবুল হয় না। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে মানবজাতি। পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্যে শত্রু।’ (সুরা বাকারা : ১৬৮)। পবিত্র খাদ্য বস্তু মানে হালাল খাবার। সৎভাবে উপার্জিত অর্থের কেনা খাবার।

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমাদেরকে আমি যে সব পবিত্র বস্তু দিয়েছি, তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, যদি তোমরা শুধু তারই ইবাদাত করে থাকো।’ (সুরা বাকারা : ১৭২)। আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেন, ‘নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে (হালাল উপার্জনের জন্য) ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমআ : ১০)।

নামাজের পরই আল্লাহ তায়ালা হালাল জীবিকার সন্ধানে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অসৎ ও অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের দান-সদকাও কবুল হয় না। হারাম ব্যবসা-বাণিজ্যের অর্থ-সম্পদের দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য প্রত্যাশা করা যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ছাড়া নামাজ আর চুরি ও আত্মসাতের সম্পদের সদকা কবুল হয় না।’ (মুসলিম)

দেহের যে অংশ হারাম মাল দ্বারা পালিত হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হারাম পথের উপার্জন জাহান্নামে যাওয়ার পথকে সহজ করে দেবে। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে বান্দা হারাম সম্পদ উপার্জন করে, যদিও সে সদকা করে, তা কবুল হবে না। আর যদি ব্যয় করে, তবে তাতে ও কোনো বরকত হবে না। আর যদি রেখে মারা যায়, তা জাহান্নামে যাওয়ার পাথেয় হবে। আল্লাহ তায়ালা মন্দ (কাজ) দ্বারা মন্দকে মিঠিয়ে দেন না, হ্যাঁ ভালো কাজ দ্বারা মন্দকে মিঠিয়ে দেন, নিঃসন্দেহে নাপাকীকে নাপাকী দূরীভূত করতে পারে না।’ (মুসনাদে আহমদ : ৩৬৭২)।

হারাম খাদ্য শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ঢুকে যায়। যার কারণে হারাম কিছু খেলে তার দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘একজন মানুষ লম্বা পথ সফর করেছে, ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। এরপর সে না ঘুমিয়ে রাতে নামাজ পড়ে এবং আল্লাহকে ডেকে ডেকে দোয়া করে—হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহ মাফ করো। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, কাপড়-চোপড় হারাম। তার সবকিছুই হারাম। সুতরাং ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত শরীরে, না ঘুমিয়ে সে যত মনোযোগ সহকারেই দোয়া করুক না কেন, আল্লাহর দরবারে তা কবুল হবে না।’ (মেশকাত)। তাই উপার্জনের ক্ষেত্রে আমাদের সাবধান হতে হবে। হারাম থেকে বিরত থাকতে হবে।

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত ফরিদপুরের দিপালি, বাড়িতে শোকের মাতম

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে নিহত ফরিদপুরের দিপালি, বাড়িতে শোকের মাতম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের বোমা হামলায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার এক প্রবাসী নারী নিহত হয়েছেন। নিহত দিপালী (৩৪) উপজেলার পূর্ব চর শালেপুর গ্রামের বাসিন্দা সেক মুকার মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (০৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বৈরুতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে দিপালী ছিলেন চতুর্থ। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে প্রায় দুই বছর আগে তিনি লেবাননে পাড়ি জমান এবং সেখানে গৃহকর্মীর কাজ করছিলেন।

দিপালীর ছোট বোন লাইজু বেগম জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবার বিকেলেও ইমুতে তার সঙ্গে কথা হয়। তখনও দিপালী স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছিলেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে প্রায় এক মাস আগে তিনি কর্মস্থল পরিবর্তন করে তার গৃহকর্তার পরিবারের সঙ্গে বৈরুতে আশ্রয় নেন।

লাইজু বেগম বলেন, “পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে আপুকে ফোন দিলে আর যোগাযোগ করতে পারিনি। পরে আপুর মালিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। একপর্যায়ে তাদের পরিবারের এক সদস্যের মাধ্যমে জানতে পারি, বুধবারের বোমা হামলায় আমার আপুসহ তাদের পরিবারের আরও ছয়জন মারা গেছেন।”

জানা গেছে, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় দিপালীকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন। বর্তমানে তার মরদেহ বৈরুতের একটি হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সেক ফালু জানান, “দিপালী খুবই অসচ্ছল পরিবারের মেয়ে ছিল। সংসারের হাল ধরতেই সে বিদেশে গিয়েছিল। আমরা চাই তার মরদেহ দ্রুত দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।”

এদিকে, উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “দিপালী নিহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। ইতোমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। বিধি মোতাবেক তার মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে লেবাননসহ বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

দিপালীর অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই নারীকে হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযথ দাফনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীও।