খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ২ আষাঢ়, ১৪৩৩

সালথায় পাটকল স্থাপনের জোর দাবি, বদলে যেতে পারে অর্থনীতির চিত্র

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
সালথায় পাটকল স্থাপনের জোর দাবি, বদলে যেতে পারে অর্থনীতির চিত্র

ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় আধুনিক পাটকল (জুট মিল) স্থাপনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কৃষক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের মতে, এ উপজেলায় পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠলে শুধু কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে না, একইসঙ্গে বেকারত্ব হ্রাস, দারিদ্র্য বিমোচন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলা দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। জেলার প্রায় ৭৫ শতাংশ আবাদযোগ্য জমিতে পাট চাষ হয়ে থাকে। বার্ষিক উৎপাদন ২ লাখ টনেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়, যা ফরিদপুরকে দেশের শীর্ষ পাট উৎপাদন অঞ্চলের তালিকায় রাখে। এর মধ্যে সালথা উপজেলা পাট উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, উৎপাদিত পাটের বড় অংশ কাঁচামাল হিসেবেই অন্য জেলায় চলে যায়। যদি এ এলাকায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হয়, তাহলে কৃষকরা সরাসরি ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। পাশাপাশি পরিবহন খরচও কমে যাবে।

স্থানীয়দের দাবি, সালথায় পাটকল স্থাপন হলে শুধু কৃষি খাত নয়, পরিবহন, ব্যবসা, ক্ষুদ্র শিল্পসহ পুরো অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়বে, যা সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, সালথায় প্রচুর সংখ্যক শ্রমিক সহজলভ্য। তুলনামূলকভাবে কম মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া যাওয়ায় এখানে শিল্প স্থাপন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাটকল স্থাপিত হলে হাজার হাজার নারী ও পুরুষের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও বেকার যুবসমাজের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

সালথার স্থানীয় যুবক ও সমাজকর্মী মো. মুরাদুর রহমান বলেন, “আমাদের এলাকায় হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক আছে। পাটকল হলে তারা কাজের সুযোগ পাবে, বিদেশে যাওয়ার চাপও কমবে।”

এদিকে সালথার খোয়াড় গ্রামের কৃষক মিলু শেখ বলেন, “আমরা বছরের পর বছর পাট চাষ করি, কিন্তু অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পাই না। যদি আমাদের এলাকায় পাটকল হয়, তাহলে আমরা সরাসরি ভালো দাম পাব এবং ক্ষতিও কম হবে।”

একই উপজেলার বেকার যুবক হান্নু মোল্যা জানান, “আমরা লেখাপড়া শেষ করেও কোনো স্থায়ী কাজ পাই না। যদি এখানে পাটকল হয়, তাহলে আমাদের মতো অনেক যুবকের কর্মসংস্থান হবে, পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে পারব।”

সালথা উপজেলা যুবদল নেতা মো. মাহফুজ খান বলেন, “সালথার উপজেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি, আর পাট এ এলাকার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। কিন্তু পর্যাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অসংখ্য যুবক কর্মসংস্থানের অভাবে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। এখানে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—সকলেই উপকৃত হবেন। বিশেষ করে স্থানীয় যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে দ্রুত পাটকল স্থাপনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

সালথা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, “সালথা উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে শুধু কৃষকরাই উপকৃত হবেন না, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাটকেন্দ্রিক শিল্প গড়ে উঠলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এতে বাজারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ বলেন, “সালথা উপজেলায় বেকারত্ব বর্তমানে একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে একটি পাটকল স্থাপন করা হলে হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং স্থানীয়ভাবে শিল্পায়নের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাই দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।”

সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর বলেন, “সালথা পাট উৎপাদনের জন্য সারা দেশে সুপরিচিত। অথচ এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য অন্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। এ অঞ্চলে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত পাটকল স্থাপনের দাবি জানাই।”

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “সালথায় পাটকল স্থাপন এখন সময়ের দাবি। এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক ও বেকার যুবকের স্বার্থে একটি আধুনিক পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।”

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “পাট বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। সালথা উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণে পাট উৎপাদিত হয়। এখানে পাটভিত্তিক শিল্প বা পাটকল স্থাপন করা গেলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয় এবং সরকার এ ধরনের উদ্যোগকে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা অচিরেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানাবো।”

ফরিদপুর জেলার পাট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “ফরিদপুর জেলা দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী অঞ্চল। বিশেষ করে সালথা উপজেলায় উচ্চমানের পাট উৎপাদিত হয়। তবে, এ উপজেলায় কোনো পাটকল নেই। তাই এ উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং স্থানীয়ভাবে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ সহজ হবে। এছাড়া পাটভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পাটের বহুমুখী ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাট খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শিল্প স্থাপনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ফরিদপুর, বিশেষ করে সালথা উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাট উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে পাটভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বা আধুনিক পাটকল স্থাপিত হলে কৃষকরা উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বিষয়টি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে এলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার বিষয়েও আমরা ইতিবাচকভাবে কাজ করব।”

এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তারা ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, সরকারের উচ্চপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ অঞ্চলে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা সম্ভব, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে।

ফরিদপুরে ময়লারস্তুপে কুকুরে টানছিল নবজাতকের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ময়লারস্তুপে কুকুরে টানছিল নবজাতকের লাশ

ফরিদপুরে এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নবজাতকটির গর্ভকালীন বয়স আনুমানিক বয়স ৫ থেকে ৬ মাস হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (১৪ জুন) বিকালে জেলা সদরের কানাইপুর বাজারের কানাইপুর স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান ফটক সংলগ্ন ময়লার স্তুপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ময়লার স্তুপে একদল কুকুর নবজাতকের রক্তমাখা মরদেহটি নিয়ে টানাটানি করছিল৷ এছাড়া মাঝে মাঝে কামড়িয়ে খাচ্ছিল। বিষয়টি দেখে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি এগিয়ে যায় এবং নিশ্চিত হয়ে ৯৯৯- এ কল দিয়ে পুলিশকে অবগত করেন। পরে কোতয়ালী থানা পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়৷

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা যাচ্ছে, কেউ গর্ভপাত করে রাতের আঁধারে ফেলে রেখে গিয়েছে৷ ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ফরিদপুরে নারী ও তরুণদের মধ্যে জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা 

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নারী ও তরুণদের মধ্যে জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা 

ফরিদপুরে নারী ও তরুণদের মধ্যে সার্ভিকাল (জরায়ু) ক্যানসার প্রতিরোধ, HPV ভ্যাকসিন এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিউনিটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৪ ও ১৫ জুন দিনব্যাপী ফরিদপুর শহরের রবিদাসপল্লী এবং বিন্দুপাড়ায় এ কার্যক্রমের আয়োজন করে উন্নয়ন সংস্থা নন্দিতা সুরক্ষা। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST)-এর সূচনা প্রকল্পের আওতায়
সভাগুলোতে সার্ভিকাল ক্যানসারের কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, প্রতিরোধের উপায়, HPV ভ্যাকসিনের গুরুত্ব এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সচেতনতামূলক সভায় রবিদাস পল্লিতে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক  ডা. সুলতানা বেগম। বিন্দুপাড়ার সভায় উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের গাইনী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়জুন্নাহার হেমা।

তারা দুটি এলাকার ৬০ জন নারীর মাঝে সার্ভিকাল ক্যানসারের ঝুঁকির কারণ, লক্ষণ, HPV সংক্রমণ, HPV ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, বাংলাদেশে সার্ভিকাল ক্যানসার নারীদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যানসার হলেও সময়মতো সচেতনতা, HPV টিকা গ্রহণ এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এ রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে তথ্যের অভাব, সামাজিক সংকোচ এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে এখনও অনেক নারী প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি জানান, নন্দিতা সুরক্ষা মোট পাঁচটি সেশনে  ১৫০ জন নারী ও তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নারীর স্বাস্থ্য অধিকার, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার (SRHR) এবং স্বাস্থ্যসেবায় সমঅধিকার নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে নন্দিতা সুরক্ষা।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সার্ভিকাল ক্যানসার সম্পর্কে সঠিক ধারণা বৃদ্ধি পাবে, ভুল ধারণা ও সামাজিক সংকোচ কমবে এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠবে।

 

ফরিদপুরে ২০ বছরের কাঁচা রাস্তায় ভোগান্তিতে ১০ গ্রামবাসী

মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ২০ বছরের কাঁচা রাস্তায় ভোগান্তিতে ১০ গ্রামবাসী

ফরিদপুরে প্রায় ২০ বছর আগে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত কাঁচা রাস্তা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অন্তত ১০ টি গ্রামের বাসিন্দাদের।  তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়ে গত ২০ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে রাস্তাটি পাকা করণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভাঙাচোরা কাঁচা রাস্তাটি মেরামত করে পাকা করণের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার (১৪ জুন) দুপুরে ফরিদপুর জেলা সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কছিমউদ্দিন বেপারীর ডাঙ্গী গ্রামে বিধ্বস্ত সড়কের সামনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন তারা। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারাও অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, সড়কটি দিয়ে কছিমউদ্দিনের ডাঙ্গীর পাশাপাশি মিনাজউদ্দিন মোল্যার ডাঙ্গী, আনছার মাতুব্বরের ডাঙ্গী, মগরম মাতুব্বরের ডাঙ্গী, নিমাই শেখের পাড়া, দেলোনমল্লিকের ডাঙ্গী ও বাজু মোল্যার ডাঙ্গী সহ প্রায় ১০ টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত রয়েছে। এছাড়াও সড়কটি দিয়ে চরমাধবদিয়া ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর।

বর্তমানে সড়কটি বেহালদশায় পরিণত হয়ে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের৷ স্থানীয় বাসিন্দারা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করতে না পারায় কখনও ভ্যানে ঠেলে; কখনও কাঠের তৈরি চৌকি কাঁধে ঝুলিয়ে এক থেকে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মূল সড়কে আসতে হয় তাঁদের। মাঠ থেকে ফসল বাড়িতে আনতেও কষ্ট হয় তাঁদের৷ কখনও কখনও ভ্যান উল্টে দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় বর্ষা মৌসুমে। এ সময়ে সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়; আবার সামান্য বৃষ্টিতে কাঁদায় পরিণত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মমিনখার হাট-গোয়ালন্দ আঞ্চলিক সড়কের সংযোগ সড়ক এটি। আঞ্চলিক সড়কটির ইয়াছিন ব্রিজ থেকে দেলোন মল্লিকের ডাঙ্গী জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে সড়কটির দৈর্ঘ্য। সড়কটির শুরুতে প্রায় ২’শ মিটার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইট বিছিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় এক সৌদিপ্রবাসী৷ সেটিও বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে। এরপর থেকে কাঁচা রাস্তাটির অধিকাংশ অংশজুড়ে দুই পাশ ভেঙে রয়েছে। বর্তমানে যা যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারমধ্যে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছুটে চলছে ছোট যানবাহনগুলো।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা জলিল শেখ বলেন- ‘রাস্তাডার এমন অবস্থা হইছে যে কওয়ার (বলার) মতো জায়গ্যাই নাই! এই জায়গাডা যে এম্বায় (এভাবে) নইলো (রইলো)- কেউ দেখলো না। কেউ কয় না যে- রাস্তাডা সাইরা (মেরামত) দেই। এহন এই রাস্তাডা জানি পাকা হইয়্যা যায়- সেজন্য এমপির কাছে আবেদন জানাই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন- ” দীর্ঘদিন সরকার আসছে-গেছে কিন্তু আমাদের রাস্তার কোনো উন্নয়ন করেনি। অনেকবার কাজও এসেছে কিন্তু অন্য জায়গায় নিয়ে গেছে। কারন, আমরা আওয়ামীলীগরে কখনও ভোট না দেওয়ায় কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে।’

তবে সড়কটি দীর্ঘদিন যাবৎ নিজ অর্থায়নে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা করে আসছেন স্থানীয় সৌদ প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক শেখ। তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে কালভার্ট ও একটি নান্দনিক মসজিদও নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রবাসী বলেন- “গত ১৭ বছর আমাদের বলা হয়েছে- এই এলাকার মানুষ আওয়ামালীগকে ভোট দেয় না, কিছুই করা যাবে না। যার কারনে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ রাস্তা মনে হয় এটিই।’

এ সময় তিনিসহ এলাকাবাসী ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফের কাছে সড়কটি অতিদ্রুত মেরামতসহ পাকাকরণের দাবি জানান। এছাড়া মানববন্ধনে ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দেন জাহিদ ব্যাপারী, মোতালেব শেখ, মো. বাদশা মন্ডলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।