খুঁজুন
, ,

সালথায় পাটকল স্থাপনের জোর দাবি, বদলে যেতে পারে অর্থনীতির চিত্র

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
সালথায় পাটকল স্থাপনের জোর দাবি, বদলে যেতে পারে অর্থনীতির চিত্র

ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় আধুনিক পাটকল (জুট মিল) স্থাপনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কৃষক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের মতে, এ উপজেলায় পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠলে শুধু কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে না, একইসঙ্গে বেকারত্ব হ্রাস, দারিদ্র্য বিমোচন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলা দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। জেলার প্রায় ৭৫ শতাংশ আবাদযোগ্য জমিতে পাট চাষ হয়ে থাকে। বার্ষিক উৎপাদন ২ লাখ টনেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়, যা ফরিদপুরকে দেশের শীর্ষ পাট উৎপাদন অঞ্চলের তালিকায় রাখে। এর মধ্যে সালথা উপজেলা পাট উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, উৎপাদিত পাটের বড় অংশ কাঁচামাল হিসেবেই অন্য জেলায় চলে যায়। যদি এ এলাকায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হয়, তাহলে কৃষকরা সরাসরি ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। পাশাপাশি পরিবহন খরচও কমে যাবে।

স্থানীয়দের দাবি, সালথায় পাটকল স্থাপন হলে শুধু কৃষি খাত নয়, পরিবহন, ব্যবসা, ক্ষুদ্র শিল্পসহ পুরো অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়বে, যা সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, সালথায় প্রচুর সংখ্যক শ্রমিক সহজলভ্য। তুলনামূলকভাবে কম মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া যাওয়ায় এখানে শিল্প স্থাপন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাটকল স্থাপিত হলে হাজার হাজার নারী ও পুরুষের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও বেকার যুবসমাজের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

সালথার স্থানীয় যুবক ও সমাজকর্মী মো. মুরাদুর রহমান বলেন, “আমাদের এলাকায় হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক আছে। পাটকল হলে তারা কাজের সুযোগ পাবে, বিদেশে যাওয়ার চাপও কমবে।”

এদিকে সালথার খোয়াড় গ্রামের কৃষক মিলু শেখ বলেন, “আমরা বছরের পর বছর পাট চাষ করি, কিন্তু অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পাই না। যদি আমাদের এলাকায় পাটকল হয়, তাহলে আমরা সরাসরি ভালো দাম পাব এবং ক্ষতিও কম হবে।”

একই উপজেলার বেকার যুবক হান্নু মোল্যা জানান, “আমরা লেখাপড়া শেষ করেও কোনো স্থায়ী কাজ পাই না। যদি এখানে পাটকল হয়, তাহলে আমাদের মতো অনেক যুবকের কর্মসংস্থান হবে, পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে পারব।”

সালথা উপজেলা যুবদল নেতা মো. মাহফুজ খান বলেন, “সালথার উপজেলার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি, আর পাট এ এলাকার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। কিন্তু পর্যাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অসংখ্য যুবক কর্মসংস্থানের অভাবে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। এখানে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী—সকলেই উপকৃত হবেন। বিশেষ করে স্থানীয় যুবসমাজের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে দ্রুত পাটকল স্থাপনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

সালথা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বাচ্চু বলেন, “সালথা উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে শুধু কৃষকরাই উপকৃত হবেন না, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাটকেন্দ্রিক শিল্প গড়ে উঠলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এতে বাজারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ বলেন, “সালথা উপজেলায় বেকারত্ব বর্তমানে একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে একটি পাটকল স্থাপন করা হলে হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং স্থানীয়ভাবে শিল্পায়নের মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাই দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।”

সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বর বলেন, “সালথা পাট উৎপাদনের জন্য সারা দেশে সুপরিচিত। অথচ এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য অন্য জেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। এ অঞ্চলে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। তাই সরকারের কাছে দ্রুত পাটকল স্থাপনের দাবি জানাই।”

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “সালথায় পাটকল স্থাপন এখন সময়ের দাবি। এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক ও বেকার যুবকের স্বার্থে একটি আধুনিক পাটভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।”

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “পাট বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। সালথা উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণে পাট উৎপাদিত হয়। এখানে পাটভিত্তিক শিল্প বা পাটকল স্থাপন করা গেলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার বিষয় এবং সরকার এ ধরনের উদ্যোগকে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা অচিরেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানাবো।”

ফরিদপুর জেলার পাট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “ফরিদপুর জেলা দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদনকারী অঞ্চল। বিশেষ করে সালথা উপজেলায় উচ্চমানের পাট উৎপাদিত হয়। তবে, এ উপজেলায় কোনো পাটকল নেই। তাই এ উপজেলায় একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা হলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং স্থানীয়ভাবে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ সহজ হবে। এছাড়া পাটভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পাটের বহুমুখী ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাট খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শিল্প স্থাপনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ফরিদপুর, বিশেষ করে সালথা উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাট উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে পাটভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বা আধুনিক পাটকল স্থাপিত হলে কৃষকরা উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বিষয়টি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ ধরনের কোনো প্রস্তাব সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে এলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার বিষয়েও আমরা ইতিবাচকভাবে কাজ করব।”

এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তারা ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, সরকারের উচ্চপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ অঞ্চলে একটি আধুনিক পাটকল স্থাপন করা সম্ভব, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে।

ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন চেনার ৫ উপায়, এক নজরে দেখে নিন

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন চেনার ৫ উপায়, এক নজরে দেখে নিন

চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে প্রতারণার কৌশলও। বিশেষ করে অনলাইন জব পোর্টাল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মেসেজিং অ্যাপকে ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রতারকচক্র। আকর্ষণীয় বেতন, ঘরে বসে কাজ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই মোটা অঙ্কের আয় কিংবা দ্রুত নিয়োগের মতো প্রলোভন দেখিয়ে তারা চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী ব্যবসাবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বস এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন শনাক্ত করার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় তুলে ধরেছে। চাকরির আবেদন করার আগে এসব বিষয় জানা থাকলে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

১. অবিশ্বাস্য বেতন, কিন্তু কাজের বর্ণনা অস্পষ্ট

যে কোনো বৈধ চাকরির বিজ্ঞাপনে দায়িত্ব, যোগ্যতা, কাজের ধরন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। কিন্তু ভুয়া বিজ্ঞাপনে সাধারণত অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে অল্প কাজ, কম অভিজ্ঞতা এবং অস্বাভাবিক বেশি বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, কোনো চাকরির অফার যদি বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়, তাহলে সেটি যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। ‘ঘরে বসে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আয়’ বা ‘অভিজ্ঞতা ছাড়াই উচ্চ বেতন’ ধরনের দাবি সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

২. প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বা ঠিকানায় অসংগতি

বর্তমানে অনেক প্রতারক আসল প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে দেখতে প্রায় একই রকম ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে। অনেক সময় শুধু একটি অক্ষর বা বানানের সামান্য পরিবর্তন থাকে, যা সহজে চোখে পড়ে না।

তাই আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, ডোমেইন, লিংকডইন পেজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উপস্থিতি যাচাই করা উচিত। প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, যোগাযোগের তথ্য এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি একে অপরের সঙ্গে মিলছে কি না, সেটিও দেখা জরুরি।

৩. অস্বাভাবিক যোগাযোগ পদ্ধতি

কোনো সাক্ষাৎকার ছাড়াই শুধু হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা ব্যক্তিগত ইমেইলের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব এলে সতর্ক হতে হবে।

বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান সাধারণত অফিসিয়াল ইমেইল ব্যবহার করে এবং ফোন, ভিডিও কল বা সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রার্থী যাচাই করে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনে অতিরিক্ত বানান ভুল, দুর্বল ভাষা বা অপেশাদার উপস্থাপনাও ভুয়া হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

৪. আবেদন ছাড়াই চাকরির অফার

হঠাৎ কোনো দিন একটি মেসেজ বা ইমেইল এলো, যেখানে বলা হলো আপনি একটি চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ আপনি সেই প্রতিষ্ঠানে কখনো আবেদনই করেননি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে উত্তেজিত না হয়ে আগে প্রতিষ্ঠানের পরিচয় যাচাই করা উচিত। বর্তমানে অনেক প্রতারক পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম, এমনকি প্রকৃত রিক্রুটারের পরিচয়ও ব্যবহার করছে বিশ্বাস অর্জনের জন্য। তাই আবেদন না করেও চাকরির অফার পেলে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিত।

৫. চাকরি দেওয়ার আগে অর্থ বা ব্যাংক তথ্য চাওয়া

এটি সবচেয়ে বড় সতর্কসংকেতগুলোর একটি। প্রতারকরা কখনো প্রশিক্ষণ ফি, কখনো সফটওয়্যার, কখনো ল্যাপটপ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম কিট’ কেনার কথা বলে অর্থ দাবি করে। আবার কেউ কেউ নিয়োগের শুরুতেই ব্যাংক হিসাব, জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য চায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ কোনো প্রতিষ্ঠান চাকরি দেওয়ার আগে আবেদনকারীর কাছ থেকে অর্থ নেয় না। একইভাবে নিয়োগের প্রাথমিক ধাপে ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না। এমন দাবি এলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হওয়া উচিত।

প্রতারণা এড়াতে যা করবেন

প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনটি মিলিয়ে দেখুন।

প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে ‘scam’, ‘review’ বা ‘complaint’ লিখে অনলাইনে খুঁজে দেখুন।

কোনো অর্থ বা ফি দেওয়ার আগে একাধিকবার যাচাই করুন।

অফিসিয়াল ইমেইল ছাড়া অন্য মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করবেন না।

তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। সন্দেহ হলে অফারটি প্রত্যাখ্যান করুন।

শেষ কথা

চাকরি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নকে পুঁজি করে প্রতারকরাও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। তাই আকর্ষণীয় বেতন বা দ্রুত নিয়োগের প্রতিশ্রুতির চেয়ে প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, সত্যিকারের নিয়োগদাতা আপনাকে চাকরি দেওয়ার জন্য অর্থ চাইবে না; বরং আপনার যোগ্যতা যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেবে। সচেতন থাকলে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপনের ফাঁদ এড়িয়ে নিরাপদে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ফোর্বস

সকালে ঘুম থেকে উঠেই যে ৫ অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
সকালে ঘুম থেকে উঠেই যে ৫ অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত?

সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা দিনের শুরুটা যেভাবে করি, তার ওপর নির্ভর করে আমাদের সারাদিনের শক্তি, কর্মদক্ষতা এবং মানসিক প্রশান্তি। একটি সুন্দর সকালের রুটিন হলো নিজের যত্নে নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি।

তবে অনেক সময় অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমরা এমন কিছু অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি, যা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ব্যস্ততার মাঝে আমরা অধিকাংশ সময়ই সঠিক রুটিন ভুলে ভুল কিছু অভ্যাসের ওপর নির্ভর করতে শুরু করি।

মার্কিন গণমাধ্যম হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সকালে এমন কিছু কাজ আমরা করি যা আমাদের সারাদিনকে আনন্দহীন এবং ক্লান্তিকর করে তুলতে পারে। জীবনযাপনে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন এনে কীভাবে আমরা আরও সুস্থ ও প্রাণবন্ত সকাল পেতে পারি, তা নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এই ফিচার। চলুন তাহলে জেনে নিই সকালে ঘুম থেকে উঠেই যে ৫টি অভ্যাস আপনার এড়িয়ে চলা উচিত:

১. স্নুজ বাটন বারবার চাপা

সকালে অ্যালার্ম বাজার পর ‘আর মাত্র ৫ মিনিট’ ভেবে স্নুজ বাটন টেপার অভ্যাস অনেকেরই আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্নুজ করার পর যে বাড়তি কয়েক মিনিট আমরা ঘুমাই, তা আসলে শরীরের জন্য মোটেও আরামদায়ক বা পুনরুদ্ধারকারী নয়। বরং এটি সকালের গভীর ঘুমের পর্যায়কে ব্যাহত করে, যা মানসিক অবসাদ এবং দীর্ঘমেয়াদে বিপাকীয় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এর পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ নিকেত সোনপাল পরামর্শ দেন, অ্যালার্মের সময় অন্তত ১৫ মিনিট পিছিয়ে দিয়ে সেটি বাজার সাথে সাথেই বিছানা ছাড়ার অভ্যাস করতে।

২. দিন শুরু করা ফোনের স্ক্রিন দেখে

ঘুম থেকে চোখ মেলতেই হাতে ফোন নেওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা ইমেইল চেক করা অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি অভ্যাস। চিকিৎসক নাওমি প্যারেলা জানান, দিনের শুরুতেই বাইরের জগতের খবর বা ইমেইল চেক করার অর্থ হলো আপনার নিজের চিন্তা ও অনুভূতির নিয়ন্ত্রণ অন্য কারো হাতে তুলে দেওয়া। এর ফলে দিনের শুরুতেই আপনি অহেতুক দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপের শিকার হতে পারেন। ফোনের বদলে সকালের শুরুটা করুন দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে, হালকা স্ট্রেচিং করে অথবা এক গ্লাস পানি খেয়ে।

৩. সকালের নাস্তায় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার

সকালের নাস্তায় মিষ্টি জাতীয় খাবার, চিনিযুক্ত কফি বা সিরিয়াল খাওয়ার ফলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এটি আপনাকে সাময়িকভাবে শক্তি দিলেও দ্রুতই রক্তের শর্করা কমিয়ে দেয়, যার ফলে আপনি মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা দ্রুত ক্ষুধার্ত বোধ করার মতো সমস্যার সম্মুখীন হন। বিশেষজ্ঞরা সকালে চিনি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যদি চিনিযুক্ত কিছু খেয়েও ফেলেন, তবে তার পরপরই কিছুটা শারীরিক কসরত বা হাঁটাহাঁটি করার চেষ্টা করুন।

৪. সঠিক পদ্ধতিতে মুখ পরিষ্কার না করা ও সানস্ক্রিন এড়িয়ে যাওয়া

অনেকেই মনে করেন রাতে মুখ ধুয়ে ঘুমানোর পর সকালে আর মুখ পরিষ্কারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু রাতে বালিশের ময়লা বা ধুলোবালি ত্বকে লেগে থাকতে পারে। তাই সকালে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ঘরের বাইরে বের হন বা না হন, ত্বকের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পরিমাণে সানস্ক্রিন (SPF) ব্যবহার করা উচিত। ঘাড় এবং বুকের ত্বকেও এটি লাগানো প্রয়োজন।

৫. মানসিক সুস্বাস্থ্যের দিকে নজর না দেওয়া

সকালের ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভুলে যাই। দিনের শুরুটা যদি ভালো না হয়, তবে সারাদিন একটি বিষণ্ণ ভাব মনের মধ্যে থেকে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সকালে জানালার পর্দা সরিয়ে ঘরে প্রাকৃতিক আলো ঢুকতে দিন এবং অন্তত কয়েক মিনিট মেডিটেশন বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার অভ্যাস করুন। সামান্য এই সময়টুকু আপনাকে সারাদিনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ও প্রাণবন্ত রাখবে।

সকালের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমেই আপনি নিজের জীবনকে আরও সুশৃঙ্খল এবং কর্মক্ষম করে তুলতে পারেন।

তথ্যসূত্র: হাফিংটন পোস্ট

সদরপুরে দুটি ভাঙা সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
সদরপুরে দুটি ভাঙা সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার গাবতলা ও সতের রশি এলাকার পৃথক দুটি ভাঙা সড়কের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

রবিবার (০২ আগস্ট) নির্মাণাধীন সড়ক দুটি পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ও এলাকাবাসীর ‌সঙ্গে কথা বলেন।

এসময় ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, দ্রুত এবং টেকসই ভাবে শুধু এই দুটি নয় সকল রাস্তার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর আগামীতে এরচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা হবে । এই এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের জনভোগান্তি দূর করতে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হবে।

এছাড়া,জনগণের দুর্ভোগ লাঘব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে তদারকি ও কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এমনটি প্রত্যাশা করেন তিনি।

পরিদর্শন কালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সদরপুর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।