খুঁজুন
, ,

“অন্তহীন এ জীবন”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
“অন্তহীন এ জীবন”

বৃষ্টিভেজা বিকেলের শেষে আকাশটা আজ অদ্ভুত রকমের বিষণ্ন। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে রাহাত চুপচাপ তাকিয়ে আছে দূরের কুয়াশা ঢাকা মাঠের দিকে। মাঠটা একসময় ছিল তার শৈশবের হাসি-আনন্দের কেন্দ্র, কিন্তু এখন যেন সবকিছু ফাঁকা, নির্জন—একদম তার নিজের জীবনের মতো।

রাহাত ভাবছিল—জীবনটা কি সত্যিই এতটা দীর্ঘ, নাকি শুধু টেনে নেওয়া কিছু নিঃশ্বাসের হিসাব?
তার মনে পড়ে, একসময় এই জীবনটাই ছিল স্বপ্নে ভরা। ছোট্ট গ্রাম, নদীর ধারে কাশবন, বিকেলে বন্ধুদের সাথে দৌড়ঝাঁপ—সবকিছুই যেন ছিল রঙিন। মা তখন বেঁচে ছিলেন। বাবার মুখে হাসি ছিল। সংসারে ছিল অভাব, কিন্তু ছিল শান্তি।
“জীবন মানে তো সুখ-দুঃখের মিশেল,”—মা প্রায়ই বলতেন।

কিন্তু তখন কে জানত, এই দুঃখ একদিন এতটা গভীর হয়ে উঠবে!

মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই রাহাতের জীবনটা যেন থমকে যায়। বাবা হয়ে ওঠেন নিরব মানুষ। কথা বলা কমে যায়, হাসি তো একেবারেই হারিয়ে যায়। আর রাহাত? সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে—জীবন আসলে কোনো গল্প না, এটা এক ধরনের যুদ্ধ।
একদিন রাতে বাবার পাশে বসে রাহাত বলেছিল,
“আব্বা, মা থাকলে সবকিছু অন্যরকম হতো, না?”
বাবা অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলেছিলেন,
“মানুষ চলে যায়, কিন্তু জীবন থামে না। এইটাই সবচেয়ে কঠিন সত্য।”

সেদিন কথাটা বুঝতে পারেনি রাহাত। আজ বুঝতে পারে।
সময় গড়িয়ে যায়। রাহাত শহরে আসে পড়াশোনার জন্য। নতুন শহর, নতুন মানুষ, নতুন স্বপ্ন। সে ভাবতে শুরু করে—হয়তো জীবন আবার নতুন করে শুরু করা যায়।

শহরের ব্যস্ততা তাকে ধীরে ধীরে ভুলিয়ে দেয় গ্রামের স্মৃতি। কিন্তু কিছু কিছু স্মৃতি থাকে—যেগুলো কখনো মুছে যায় না।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তার জীবনে আসে মায়া।

মায়া—নামের মতোই রহস্যময়। চোখে ছিল গভীরতা, হাসিতে ছিল এক অদ্ভুত শান্তি। প্রথম দিন ক্লাসে দেখা, তারপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব।
একদিন বিকেলে ক্যাম্পাসের গাছতলায় বসে মায়া হঠাৎ জিজ্ঞেস করেছিল,
“তুমি এত চুপচাপ কেন?”
রাহাত হেসে বলেছিল,
“চুপ থাকলেই কি খারাপ?”
মায়া বলেছিল,
“না, কিন্তু তোমার চুপ থাকায় একটা কষ্ট লুকিয়ে থাকে।”
সেদিন প্রথমবার কেউ তার ভেতরের কষ্টটা চিনে ফেলেছিল।

এরপর থেকে তাদের সম্পর্কটা ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে। বন্ধুত্বের সীমা পেরিয়ে সেটা একসময় ভালোবাসায় রূপ নেয়।
মায়া বলত, “জানো, জীবনটা যতই কঠিন হোক, পাশে যদি একজন মানুষ থাকে, সবকিছু সহজ হয়ে যায়।”

রাহাত বিশ্বাস করতে শুরু করে—হয়তো তার জীবনও সুন্দর হতে পারে।
কিন্তু জীবন কি কখনো এত সহজ হয়?
একদিন হঠাৎ করেই মায়া দূরে সরে যেতে শুরু করে। ফোন ধরত না, মেসেজের উত্তর দিত না। দেখা হলে এড়িয়ে যেত।

রাহাত বুঝতে পারছিল না—কি হচ্ছে?
অবশেষে একদিন মায়া নিজেই দেখা করতে চাইল।
ক্যাম্পাসের সেই পুরোনো গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিল সে।

রাহাত কাছে যেতেই মায়া বলল,
“আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।”
কথাটা যেন বজ্রপাতের মতো আঘাত করল।
“কি?”—রাহাত শুধু এইটুকুই বলতে পারল।
মায়া মাথা নিচু করে বলল,
“বাড়ির সিদ্ধান্ত। আমি কিছু করতে পারিনি।”
“আর আমাদের ভালোবাসা?”—রাহাতের কণ্ঠ কাঁপছিল।

মায়া চোখ তুলে তাকাল। চোখে পানি।
“সব ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না, রাহাত।”
সেদিন আকাশে রোদ ছিল, কিন্তু রাহাতের ভেতরটা অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল।
মায়ার বিয়ের পর রাহাত পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। পড়াশোনায় মন বসে না, বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
রাতে ঘুম আসে না। বারবার মনে পড়ে মায়ার কথা, তার হাসি, তার চোখ।
একদিন সে নিজেকে প্রশ্ন করে—
“এই জীবনটা কি সত্যিই বেঁচে থাকার মতো?”
কিন্তু তারপরই বাবার কথা মনে পড়ে—
“জীবন থামে না।”
সে বুঝতে পারে, জীবন থেমে থাকলেও সময় থামে না। সময় তাকে টেনে নিয়ে যায় সামনে।

বছর পেরিয়ে যায়।
রাহাত এখন চাকরি করে। একটা ছোট্ট ফ্ল্যাটে একা থাকে। বাইরে থেকে সবকিছু ঠিকঠাক—চাকরি আছে, টাকা আছে, একটা স্থির জীবন।
কিন্তু ভেতরে?
ভেতরে এখনো সেই শূন্যতা।
একদিন অফিস থেকে ফেরার পথে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। রাহাত ভিজতে ভিজতে হাঁটতে থাকে।
তার মনে হয়—জীবনটা ঠিক এই বৃষ্টির মতো। কখন যে শুরু হয়, কখন যে থামে—কেউ জানে না।

হঠাৎ রাস্তার পাশে একটা ছোট্ট মেয়ে তাকে ডাকল,
“ভাইয়া, ফুল নিবেন?”
রাহাত থেমে গেল।
মেয়েটার বয়স খুব বেশি হলে আট-নয় বছর। ভেজা কাপড়, হাতে কিছু ফুল।
“তুমি এখানে কেন?”—রাহাত জিজ্ঞেস করল।
মেয়েটা হেসে বলল,
“ফুল বিক্রি করি। না হলে খাই কী?”
এই ছোট্ট মেয়েটার হাসি দেখে রাহাত অবাক হয়ে গেল। এত কষ্টের মধ্যেও সে হাসতে পারে!
রাহাত সব ফুল কিনে নিল।

মেয়েটা খুশিতে বলল,
“আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুক ভাইয়া!”
কথাটা শুনে রাহাতের চোখে পানি চলে এল।
সে ভাবল—
“আমার তো সব আছে, তবুও আমি সুখী না। আর এই মেয়েটার কিছুই নেই, তবুও সে হাসতে পারে!”
সেদিন রাতে রাহাত প্রথমবার নিজের জীবনকে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করল।
সে বুঝতে পারল—
জীবন শুধু নিজের কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার নাম না। জীবন মানে অন্যের জন্য কিছু করা, অন্যের হাসিতে নিজের সুখ খুঁজে পাওয়া।

পরের দিন থেকেই সে বদলে যেতে শুরু করে।
প্রতিদিন অফিস শেষে সে রাস্তার সেই বাচ্চাদের সাথে সময় কাটায়। তাদের পড়ায়, তাদের জন্য খাবার নিয়ে যায়।
ধীরে ধীরে তার জীবনে নতুন এক আলো আসতে শুরু করে।
একদিন সেই ছোট্ট মেয়েটা—যার নাম ছিল রিমি—হেসে বলল,
“ভাইয়া, আপনি আসলে ভালো লাগে।”
রাহাত হেসে বলল,
“আমারও ভালো লাগে।”
সেদিন অনেকদিন পর সে সত্যিকারের হাসল।
বছর কেটে যায়।

রাহাত এখন একটা ছোট্ট স্কুল চালায় পথশিশুদের জন্য। তার জীবনের লক্ষ্য বদলে গেছে।
একদিন সন্ধ্যায় স্কুলের ছাদে দাঁড়িয়ে সে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।
তার মনে পড়ে মা, মায়া, তার অতীত।
সবকিছুই যেন এখন একেকটা গল্প।

সে ধীরে ধীরে বুঝতে পারে—
জীবন কখনো থামে না। এটা চলতেই থাকে।
কখনো সুখে, কখনো দুঃখে।
কখনো হারিয়ে, কখনো খুঁজে পেয়ে।
হঠাৎ একদিন সে শুনতে পেল, কেউ তার নাম ধরে ডাকছে।
“রাহাত?”
পেছনে ফিরে সে অবাক হয়ে গেল।
মায়া দাঁড়িয়ে আছে।
সময়ের সাথে সে বদলে গেছে, কিন্তু চোখ দুটো আগের মতোই আছে।
“কেমন আছ?”—মায়া জিজ্ঞেস করল।

রাহাত একটু হেসে বলল,
“ভালো আছি।”
“তুমি?”—সে জিজ্ঞেস করল।
মায়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“ভালো থাকার চেষ্টা করছি।”
তাদের মধ্যে এক অদ্ভুত নীরবতা।
তারপর মায়া বলল,
“তুমি বদলে গেছ।”
রাহাত হেসে বলল,
“জীবন বদলে দিয়েছে।”
মায়া চারপাশে তাকিয়ে বলল,
“এই স্কুলটা তোমার?”
“হ্যাঁ।”
মায়া মৃদু হেসে বলল,
“তুমি সত্যিই বড় কিছু করেছ।”
রাহাত কিছু বলল না।

সে বুঝতে পারছিল—সব কথা বলা যায় না।
মায়া চলে যাওয়ার আগে বলল,
“জানো, আমি অনেক সময় ভাবি—যদি সবকিছু অন্যরকম হতো?”
রাহাত শান্তভাবে বলল,
“সবকিছু যেমন হয়েছে, সেটাই ঠিক ছিল।”
মায়া অবাক হয়ে তাকাল।
রাহাত বলল,
“কারণ এই পথেই আমি নিজেকে খুঁজে পেয়েছি।”
মায়ার চোখ ভিজে উঠল।
সে কিছু না বলে চলে গেল।
রাতের আকাশে চাঁদ উঠেছে।
রাহাত ছাদের উপর বসে আছে।
তার মনে হচ্ছে—জীবনটা আসলে শেষ হওয়ার মতো না। এটা চলতেই থাকে, একের পর এক অধ্যায় নিয়ে।
কিছু মানুষ আসে, কিছু মানুষ চলে যায়।
কিছু স্বপ্ন ভেঙে যায়, কিছু স্বপ্ন নতুন করে জন্ম নেয়।

কিন্তু জীবন?
জীবন কখনো থামে না।
এটা এক অন্তহীন যাত্রা।
রাহাত চোখ বন্ধ করে।
তার মুখে এক শান্তির হাসি।
সে মনে মনে বলে—
“অন্তহীন এ জীবন… তবুও সুন্দর।”

 

লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে স্কুলমাঠে মাদক সেবন, তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে স্কুলমাঠে মাদক সেবন, তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অপরাধে তিন নির্মাণশ্রমিককে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাজারপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪০), একই উপজেলার কোদালকাঠি গ্রামের আশরাফুল (৪৫) এবং ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের বাবুল (৪৭)। তাঁরা সবাই এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণকাজের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাথাভাঙ্গা ও মৌলভীরচর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে মৌলভীরচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মাদক সেবনরত অবস্থায় ওই তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করায় তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়।

​অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ভাইভায় যে কাজগুলো কখনো করবেন না?

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
ভাইভায় যে কাজগুলো কখনো করবেন না?

একটি ইন্টারভিউ শুধু আপনার দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ নয় বরং নিজের ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারিত্ব ফুটিয়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। অনেক সময় শতভাগ প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও অসচেতনতাবশত করা ছোটখাটো কিছু ভুল পুরো সুযোগটি নষ্ট করে দিতে পারে। ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার প্রথম ইম্প্রেশন বা ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে যে কাজগুলো ভুলেও করা যাবে না—

দেরি করে পৌঁছানো: ইন্টারভিউ বোর্ডে দেরি করে যাওয়া আপনার অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতা প্রকাশ করে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত ১০-১৫ মিনিট আগে উপস্থিত থাকুন।

কোম্পানি সম্পর্কে না জেনে যাওয়া: প্রতিষ্ঠান ও যে পদের জন্য আবেদন করেছেন সে বিষয়ে ধারণা না নিয়ে ইন্টারভিউতে যাবেন না।

অনুপযুক্ত পোশাক পরা: খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ বা ক্যাজুয়াল পোশাক পরবেন না। পরিবেশের সঙ্গে মানানসই পরিপাটি ও পেশাদার পোশাক বেঁছে নিন।

পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান নিয়ে নেতিবাচক কথা বলা: আগের বস বা কোম্পানির বদনাম করবেন না, এতে আপনার পেশাদারিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

মিথ্যা তথ্য দেওয়া: নিজের যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনো রকম অসত্য বা বাড়িয়ে কোনো তথ্য দেবেন না।

ইন্টারভিউয়ারকে বাধা দেওয়া: কথা বলার সময় কথার মাঝে কেটে ফেলবেন না বা অন্যকে কথা শেষ করতে না দিয়ে নিজে বলা শুরু করবেন না।

অতিরিক্ত কথা বলা বা এলোমেলো কথা বলা: কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও দীর্ঘ পেঁচিয়ে কথা বলবেন না। মূল পয়েন্টে স্পষ্ট উত্তর দিন। চোখের যোগাযোগ বা আই কন্টাক্ট না রাখা: কথা বলার সময় নিচের দিকে তাকিয়ে থাকা বা চোখ এড়িয়ে চলা আত্মবিশ্বাসের অভাব প্রকাশ করে।

মোবাইল ফোন খোলা রাখা: ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার আগে অবশ্যই ফোন সাইলেন্ট বা বন্ধ রাখুন। ভুলেও ভাইব্রেশন বা রিংটোন বাজতে দেবেন না।

স্যালারি সম্পর্কিত প্রশ্ন এড়িয়ে চলুন: ইন্টারভিউর প্রাথমিক পর্যায়ে কখনই স্যালারি সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন না। কারণ একজন চাকরিদাতা কখনোই তেমন বেতনভুক কর্মচারী আশা করবেন না যিনি শুধু অর্থের নিগড়ে বন্দি হয়ে তাদের কাজ করছেন। শুধু শুধু স্যালারির কথা প্রথমেই জিজ্ঞাসা করে নিজের লালবাতি নিজে জ্বালাবেন না। আপনি চাইলে ইন্টারভিউর শেষ পর্যায়ে স্যালারি সম্পর্কে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন। সেটা চাকরিদাতারাও আশা করবেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় তারাই স্যালারি সম্পর্কিত তথ্য আবেদনকারীকে জানান।

প্রশ্ন না করা: ইন্টারভিউ শেষে সাধারণত জানতে চাওয়া হয় আপনার কোনো প্রশ্ন আছে কিনা। না বলবেন না, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বা কাজ সম্পর্কে বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করুন। যেমন— প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা কাজের পরিবেশ নিয়ে দু-একটি প্রশ্ন করুন। এরপর অত্যন্ত বিনীতভাবে ইন্টারভিউয়ারদের তাদের মূল্যবান সময়ের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ব্যাপারে আপনার প্রবল আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করুন। কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় বা অনলাইন মিটিং লিভ করার আগে মুখে মৃদু হাসি বজায় রেখে, সবার সঙ্গে হ্যান্ডশেক বা ভদ্রভাবে বিদায় নিয়ে ইতিবাচক একটি মনোভাব রেখে বিদায় নিন।

যেসব কথা সহকর্মীর সঙ্গে কখনো শেয়ার করবেন না?

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
যেসব কথা সহকর্মীর সঙ্গে কখনো শেয়ার করবেন না?

অফিসের চার দেয়ালের মাঝে একজন সত্যিকারের ভালো বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। প্রতিদিনের কাজের চাপ, ডেডলাইনের মানসিক ধকল আর বসের বকুনি সবকিছুই সহজ হয়ে যায় যদি পাশে এমন একজন সহকর্মী থাকেন, যিনি একাধারে কাজের সঙ্গী এবং মনের মানুষ। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, অফিস শেষ পর্যন্ত একটি পেশাদার জায়গা এবং সেখানে সবার আগে আপনার ক্যারিয়ার। বন্ধুত্বের গভীরতা যতই হোক না কেন, আবেগের বশে এমন কিছু কথা শেয়ার করা উচিত নয় যা পরবর্তীতে আপনার পেশাদার জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই সম্পর্কে স্বচ্ছতা রেখেও কিছু বিষয়ে নীরব থাকাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ—নতুন চাকরি খোঁজা বা ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আপনি যদি গোপনে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেন বা ইন্টারভিউ দিয়ে থাকেন, তা কখনোই সহকর্মীকে জানাবেন না। করপোরেট দুনিয়ায় দেয়ালেরও কান থাকে। কোনোভাবে এই তথ্যটি ম্যানেজমেন্টের কাছে পৌঁছালে আপনার বর্তমান চাকরি যেমন ঝুঁকিতে পড়বে, তেমনি কোনো প্রমোশন বা ইনক্রিমেন্টের সুযোগ থাকলে তাও হাতছাড়া হতে পারে।

আপনার সঠিক বেতন ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধা

বেতনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত রাখা উচিত। একই সংস্থায় কাজ করার কারণে দুজনের বেতনের পার্থক্য (তা সে যতই কম-বেশি হোক না কেন) আপনাদের সুন্দর বন্ধুত্বের মাঝে অজান্তেই দেয়াল তুলে দিতে পারে। কম বেতন পাওয়া মানুষের মনে ক্ষোভ বা হীনম্মন্যতা তৈরি হওয়া খুব স্বাভাবিক, যা কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কে ফাটল ধরায়।

বস বা অন্য সহকর্মীদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য ও সমালোচনা

কাজের সূত্রে কারও ওপর রাগ বা ক্ষোভ জমতেই পারে, কিন্তু তা নিয়ে সহকর্মী-বন্ধুর কাছে অতিরিক্ত খোলামেলা আলোচনা বা পরনিন্দা করবেন না। কর্মক্ষেত্রের সমীকরণ খুব দ্রুত বদলায়। আজকের বন্ধু পরিস্থিতির চাপে কাল আপনার প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারেন। তখন আপনারই বলা কোনো মন্তব্য আপনার পেশাদার সুনামের ক্ষতি করতে পারে।

কোম্পানির পলিসি বা ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতাপ্রতিষ্ঠানের কোনো নতুন নিয়ম বা পলিসি আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। তবে তা নিয়ে কর্মক্ষেত্রে উচ্চবাচ্য করা বা বন্ধুর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করা অনুচিত। এই ধরনের আলোচনা আপনাকে কোম্পানির প্রতি অনুগত নয় এমন একজন নেতিবাচক কর্মী হিসেবে প্রমাণ করতে পারে, যা আপনার ক্যারিয়ার গ্রোথের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সংকট ও পারিবারিক গোপন তথ্য

আপনার পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক ঋণ বা জটিল কোনো ব্যক্তিগত সমস্যার কথা কর্মক্ষেত্রে এড়িয়ে চলাই ভালো। বন্ধু হিসেবে তিনি হয়তো আপনাকে সান্ত্বনা দেবেন, কিন্তু কর্মক্ষেত্রের অন্যান্য মানুষ একে আপনার মনোযোগের অভাব বা দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করতে পারে। পেশাদার জায়গায় নিজেকে সবসময় মানসিকভাবে দৃঢ় রাখা জরুরি।

কর্মক্ষেত্রে গভীর বন্ধুত্বের অনুভূতি প্রকাশ করলেও কিছু বিষয়ে দেয়াল তুলে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের বেতন, ক্যারিয়ারের গোপন পরিকল্পনা কিংবা কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ মনের ভেতর চেপে রাখলে আপনার পেশাদার জীবন থাকবে সুরক্ষিত ও ঝুঁকিমুক্ত। বন্ধুত্বের আবেগ এবং অফিসের পেশাদারিত্বের মধ্যে একটি সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখাই আপনার ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক উভয়কেই দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর করে তুলবে।