খুঁজুন
, ,

ক্ষমতা আইনকে অপহরণ করেছে

জিয়াদ মোতালা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ক্ষমতা আইনকে অপহরণ করেছে

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের কোনো ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। এটিকে সীমান্তের বাইরে বিস্তৃত কোনো বৈধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ বলা যায় না। এটি আসলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নগ্ন শক্তির প্রকাশ। এক ধরনের রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন, যেখানে কোনো আড়াল বা লজ্জা নেই।

এখানে আইনের জায়গা দখল করেছে ক্ষমতা। ন্যায়নীতির বদলে প্রাধান্য পেয়েছে নিজের পছন্দ ও স্বার্থ। বলপ্রয়োগকে দেখানো হচ্ছে নৈতিকতা ও সদগুণ হিসেবে। কিন্তু এটি আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা নয়। বরং নীরবে সেই শৃঙ্খলাকেই হত্যা করা হচ্ছে।

যখন একটি রাষ্ট্র আইনকে অপহরণ করে অন্য একটি রাষ্ট্রের নেতাকে অপহরণের বৈধতা দেখাতে চায়, তখন সে আইন বা শৃঙ্খলা রক্ষা করে না, বরং সে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে তার আইনের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই। এ ধরনের কাজ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে না; উল্টো তা ভেঙে ফেলে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এটি শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে অন্য একটি দেশের আগ্রাসন নয়। এটি বিশ্বব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা, যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্র চাইলে আইনকে পাশ কাটিয়ে নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারে। আর সেখানেই সবচেয়ে বড় বিপদ লুকিয়ে আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা কোনো দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের কোথাও কোনো ভিত্তি পায় না, একেবারেই না। এটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবেও গ্রহণযোগ্য নয়। আবার এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো পদক্ষেপও নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনেক কিছু হতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই এমন কোনো খোলা অনুমতিপত্র নয়, যার মাধ্যমে বড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো অপহরণ করে সরকার পরিবর্তন করার অধিকার পায়।

মানবাধিকার লঙ্ঘন বা মাদক পাচারের অভিযোগ দেখিয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার যে দাবি তোলা হচ্ছে, তা বিশেষভাবে ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক। কারণ, আন্তর্জাতিক আইনে এমন কোনো নিয়মই নেই। কোনো চুক্তিতে নেই, প্রথাগত আইনে নেই, এমনকি কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি ব্যাখ্যা বা বিচারিক সিদ্ধান্তেও নেই।

মানবাধিকার আইন মূলত রাষ্ট্রগুলোকে কিছু আচরণগত মানদণ্ড মেনে চলতে বাধ্য করে। কিন্তু এই আইন কোনো রাষ্ট্রকে একতরফাভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে অন্য দেশের নেতাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় না। যদি এমনটাই নিয়ম হতো, তাহলে বিশ্ব সবসময়ই এক ধরনের ‘আইনসম্মত বিশৃঙ্খলার’ মধ্যে ডুবে থাকত।

আসলে যুক্তরাষ্ট্র যদি এ তথাকথিত নীতির ব্যাপারে সত্যিই আন্তরিক হতো, তাহলে তাদের অবস্থানে ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি ছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এ নিয়ে বিস্তৃত নথি রয়েছে এবং গণহত্যার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগও উঠেছে। সেই যুক্তি মানলে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আটক করার পক্ষে আইনগত ও নৈতিক যুক্তি আরও বেশি জোরালো হতো।

এ বাস্তবতা দেখায় যে, এখানে আসলে নীতি বা আইন নয়, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সুবিধাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক আইনকে বেছে বেছে ব্যবহার করা হচ্ছে নিজের স্বার্থে। আর এর ফল হচ্ছে এমন এক বিশ্বব্যবস্থা, যেখানে আইন দুর্বলদের জন্য কঠোর, কিন্তু শক্তিশালীদের জন্য প্রায় অকার্যকর। তবুও এ ধরনের কোনো যুক্তি বাস্তবে বিবেচনাই করা হয় না। এর কারণ খুবই স্পষ্ট। এখানে আইন কাজ করছে না; কাজ করছে ক্ষমতা। ক্ষমতাই ঠিক করছে কে লক্ষ্যবস্তু হবে আর কে হবে না।

সরকার পরিবর্তন বা রেজিম চেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘদিনের অভ্যাস, যার পেছনে স্পষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে। ১৯৫৩ সালে ইরান, ১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালা, ১৯৭৩ সালে চিলি এবং ২০০৩ সালে ইরাক। এসব ঘটনাই দেখায় যে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার অন্য দেশের সরকার পরিবর্তনে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত থেকেছে।

কিন্তু কোনো দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানকে অপহরণ করা একেবারেই নতুন এবং আরও ভয়ংকর এক ধাপ। এটি নৈতিক বা রাজনৈতিক দিক থেকে শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং এটি সেই আচরণ, যাকে ঠেকানোর জন্যই ১৯৪৫ সালের পরের আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। বলপ্রয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা কোনো ছোটখাটো নিয়ম নয়, কোনো আনুষ্ঠানিক জটিলতাও নয়। এটি আন্তর্জাতিক আইনের মূল ভিত্তি, তার প্রাণকেন্দ্র।

এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো অনুমোদন ছাড়াই শক্তি প্রয়োগ করার অর্থ হলো, খোলাখুলিভাবে ঘোষণা করা যে, আইন শুধু দুর্বলদের জন্য, শক্তিশালীদের জন্য নয়। এর মাধ্যমে বলা হচ্ছে, নিয়ম মানতে হবে শুধু তাদেরই, যাদের হাতে ক্ষমতা নেই।

যুক্তরাষ্ট্র এ বাস্তবতা খুব ভালো করেই বোঝে। তারা জানে যে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতিগুলো ভেঙে ফেলছে। তবুও তারা তা করছে। আর এ কাজের মধ্য দিয়েই তারা আসলে জাতিসংঘ সনদভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ময়নাতদন্ত চালাচ্ছে। অর্থাৎ, যে ব্যবস্থা বিশ্বকে যুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করার জন্য তৈরি হয়েছিল, সে ব্যবস্থাকেই ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

এ পচন এখানেই থেমে যায়নি। ওয়াশিংটন বহুবার জাতিসংঘ সনদ এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তির অধীনে নিজেদের দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছে। যেসব কর্মকর্তা তাদের পছন্দ নয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে। গত বছর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে সরাসরি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে না দেওয়া কোনো কূটনৈতিক ভুল বা সামান্য অসৌজন্য ছিল না। এটি ছিল বিশ্বের প্রধান বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাগতিক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট চুক্তিভঙ্গ।

এ ঘটনার বার্তা ছিল একেবারে পরিষ্কার। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার এবং জাতিসংঘ সনদ মানার বিষয়টি এখন আর সবার জন্য সমান নয়; এটি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের ওপর।

জাতিসংঘ তৈরি করা হয়েছিল ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, ক্ষমতার তোষামোদ করার জন্য নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ সংস্থা ক্রমেই গুরুতর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ভেটো ক্ষমতার কারণে অচল হয়ে পড়া, স্বাগতিক দেশের চাপে নত হওয়া এবং সনদ ভাঙতে সক্ষম সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর দ্বারা উপেক্ষিত হওয়ার ফলে, জাতিসংঘ ধীরে ধীরে আইনের রক্ষক থেকে আইনের ক্ষয়কে বৈধতা দেওয়ার এক ধরনের মঞ্চসজ্জায় পরিণত হয়েছে।

এক সময় সত্য অস্বীকার করা আত্মপ্রবঞ্চনায় পরিণত হয়। এ ব্যবস্থা তার মূল প্রতিশ্রুতিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ এই নয় যে, আন্তর্জাতিক আইন অবাস্তব বা সরল চিন্তার ফল। যে রাষ্ট্র এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী, সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আইন মানা ঐচ্ছিক।

এ কারণে এখন সে কথাটাই বলার সময় এসেছে, যা এতদিন বলা হয়নি। জাতিসংঘের সদর দপ্তর স্থায়ীভাবে এমন কোনো দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত, যে দেশ চুক্তিগত দায়বদ্ধতাকে বিরক্তিকর বাধা হিসেবে দেখে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি নতুন, বাস্তবসম্মত ও গভীর আলোচনা শুরু করতে হবে এমন একটি বিকল্প বৈশ্বিক কাঠামো নিয়ে, যার কর্তৃত্ব কোনো একটি রাজধানী, একটি ভেটো ক্ষমতা বা একটি মুদ্রার কাছে জিম্মি থাকবে না। প্রয়োজন হলে এমন একটি ব্যবস্থার কথাও ভাবতে হবে, যার ক্ষমতা জাতিসংঘের চেয়েও বেশি। কারণ, জাতিসংঘকে ভেতর থেকে ধীরে ধীরে ফাঁপা করে দেওয়া হয়েছে।

আইন শুধু স্লোগান হয়ে টিকে থাকতে পারে না। হয় এটি সবচেয়ে বেশি শক্তি প্রয়োগকারীদেরও নিয়ন্ত্রণ করবে, নয়তো এটি শুধু দুর্বলদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ফাঁকা বুলি হয়ে থাকবে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে, তা কোনো শৃঙ্খলা রক্ষার উদাহরণ নয়। বরং এটি প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার জায়গা দখল করেছে ক্ষমতাবানদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ। আর পছন্দের কোনো সীমা নেই—কিছুই বেঁধে রাখতে পারে না।

লেখক: হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব লর আইন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন কেপে পরিচালিত তুলনামূলক ও আন্তর্জাতিক আইন কর্মসূচির পরিচালক ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরের বাসিন্দা তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সেই সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আলজাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন আবিদ আজাদ

ডিজেলের দামে কৃষির খরচে আগুন, লোকসানের শঙ্কায় ফরিদপুরের কৃষক

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
ডিজেলের দামে কৃষির খরচে আগুন, লোকসানের শঙ্কায় ফরিদপুরের কৃষক

জ্বালানি তেলের বাজার মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পদ্মাপাড়ের কৃষিপ্রধান জেলা ফরিদপুরে। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে সেচ, ফসল কাটা, মাড়াই ও বাজারে পরিবহন—কৃষিকাজের প্রতিটি ধাপে ডিজেলচালিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার আবশ্যক হওয়ায় উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। উৎপাদনের প্রতিটি খাতে ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত শস্যের বাজারদর না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় প্রান্তিক ও মাঝারি চাষিরা।

​ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় চাষাবাদকৃত মোট রোপা আমন ও অন্যান্য ফসলি জমির একটি বড় অংশে সেচ ব্যবস্থার জন্য ডিজেলচালিত শ্যালোমেশিন ও পাওয়ার পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হয়। পদ্মার চরাঞ্চল এবং সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও সদর উপজেলার মতো বিস্তীর্ণ কৃষি বেল্টে বৈদ্যুতিক সেচের সুবিধা অপ্রতুল হওয়ায় ডিজেলই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। ফলে তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি সরাসরি আঘাত হেনেছে কৃষকদের পকেটে।

কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, ধানের চারা রোপণ থেকে শুরু করে কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে গড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। ডিজেলের লিটারপ্রতি দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকায় উন্নীত হওয়ায় প্রতি বিঘায় শুধুমাত্র জ্বালানি বাবদ কৃষকের বাড়তি গুনতে হচ্ছে প্রায় ৬৬০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা।

​ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের কৃষক মান্নান মাতুব্বর বলেন, “আমি এ বছর ৮ বিঘা জমিতে আমন ধান এবং পাট চাষ করেছি। আগের খরচের হিসাব অনুযায়ী সেচ পাম্প মালিকেরা এখন বিঘাপ্রতি সেচ মাশুল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ট্রলি ও হারভেস্টার মালিকরাও বাড়তি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন। ফসল ঘরে তোলার আগেই আমাদের বাজেট লাল বাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মণ ধান উৎপাদনে ও প্রসেসিংয়ে গড়ে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা খরচ হলেও ডিজেল, সার ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় বর্তমানে তা ৯৫০ থেকে ১,০৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। কিন্তু বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ নতুন বা পুরনো ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯৫০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে ৮৯ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে। তবে, সেচ নয় অধিকাংশ বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল রোপা আমন ধান। তবে, আউশধান ৪ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। যেগুলো সেচের উপর নির্ভরশীল। জেলায় বোরোধান আবাদ হয়েছে ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে।

​নগরকান্দা উপজেলার কৃষক মো. শামীম হোসেন জানান, “বীজ, সার, শ্রমিক ও ডিজেলের যে চড়া দাম, তাতে ১ মণ ধান উৎপাদনে ১,০০০ টাকার বেশি লেগে যাচ্ছে। অথচ হাটে নিয়ে সেই দাম পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা মূলত কোনো মতে টিকে থাকার জন্য চাষাবাদ করছি, লাভের মুখ দেখা এখন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।”

ফরিদপুর জেলা শুধু ধান নয়, বরং পেঁয়াজ, পাট, সরিষা ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরা জানান, জমি চষা এবং চারা রোপণের সেচ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের ঘণ্টাপ্রতি চাষের ভাড়া বহুগুণ বেড়েছে। ফলে রোপা আমন বা বোরো মৌসুমের পাশাপাশি রবিশস্য উৎপাদনেও অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বইতে হবে তাদের।

কৃষি বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষা বা আমন মৌসুমে বৃষ্টির কারণে সেচ তুলনামূলক কম লাগে। কিন্তু আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ১০০% কৃত্রিম ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়, যার বড় একটি অংশই চলে ডিজেলচালিত পাম্পে। দুই-তিন মাস পরেই বোরো ধানের বীজতলা প্রস্তুত শুরু হবে। আমন মৌসুমেই যদি এই অবস্থা হয়, তবে সম্পূর্ণ সেচনির্ভর বোরো মৌসুমে খরচ কোথায় গিয়ে ঠেকবে—তা ভেবে আতঙ্কে রয়েছেন ফরিদপুরের কৃষকেরা।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কৃষকদের সার্বিক উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। আমরা কৃষকদের পার্লাইনিং, পার্চিং ও আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানির অপচয় কমানোর পরামর্শ দিচ্ছি। একই সাথে সরকার যদি কৃষক পর্যায়ে সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে ধানের ন্যায্য ও বাড়তি সমর্থক মূল্য নির্ধারণ করে, তবে তারা এই সংকট ও লোকসান থেকে রেহাই পাবেন।”

সদরপুরে ডেঙ্গু ও মাদকের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
সদরপুরে ডেঙ্গু ও মাদকের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ

ফরিদপুরের সদরপুরে ডেঙ্গু ও মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের পক্ষে উপজেলা ছাত্রদল নেতা তুষার মাহমুদের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনব্যাপী সদরপুর সরকারি কলেজ, সদরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব লিফলেট বিতরণ করা হয়।

​লিফলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার বংশবিস্তার রোধে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে উৎসাহিত করা হয়।

​কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তুষার মাহমুদ, সদরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহিন মোল্লা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হামিম সিয়াম, ছাত্রদল নেতা রাজীব মোল্লা, সোহাগ মোল্লা, সোহান বয়াতি, তরিকুল ইসলাম ও আহসান হাবিবসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

​এ সময় ছাত্রদল নেতারা বলেন, সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য। মাদকের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

​ছাত্রদল নেতা তুষার মাহমুদ জানান, দলীয় নির্দেশনায় প্রশাসন ও সচেতন সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক নানা অসংগতির বিরুদ্ধে তাদের এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ফরিদপুরে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ফরিদপুর কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে র‍্যালিটি বের করা হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র‍্যালিটি পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

​ফরিদপুর বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল তহমিনা মমতাজের সভাপতিত্বে র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

​এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, সহকারী কমিশনার দেব কুমার পাল ও সহকারী পোস্টমাস্টার রিপন বিশ্বাসসহ ডাক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

​র‍্যালি শেষে বক্তারা আধুনিক ও সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্কের নানা সম্ভাবনা এবং সাধারণ মানুষের কাছে ডাকসেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন।