খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা প্রার্থীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ, ১৫-২০ কেন্দ্রে কারচুপির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর-২ আসনে রিকশা প্রার্থীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ, ১৫-২০ কেন্দ্রে কারচুপির দাবি

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে ভোটকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা শাহ মো. আকরাম আলীর পক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তার নির্বাচনী মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেছেন, প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা, এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং একাধিক কেন্দ্রে ভোট কারচুপি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫ টার দিকে সালথা বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের প্রার্থীর গাড়িবহরকে খারদিয়া দক্ষিণ পাড়া ভোট কেন্দ্রে ৬০-৭০ জন লোক ঘিরে ধরে হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করছিলেন এমন এক সাংবাদিকের ক্যামেরাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, সিংহপ্রতাপ, ইউসুফদিয়া, মাঝারদিয়াসহ অন্তত ১৫-২০টি কেন্দ্রে ভোট কারচুপি হয়েছে। “আমাদের এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। কাউকে কাউকে হুমকি দেওয়া হয়েছে—ভোট গণনা শেষে দেখে নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

এর আগে ভোটের আগের রাতে একই আসনে কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী। তিনি অভিযোগ করেন, রিকশা মার্কার এজেন্টদের পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে যাতে তারা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন।

মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, “আমরা অভিযোগ করলে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গেলে ১৫-২০ মিনিট পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে। পরে আবার কারচুপির ঘটনা ঘটে।”

তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ আসেনি।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শামা ওবায়েদসহ একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে উত্তেজনা বাড়লেও প্রশাসন দাবি করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ফরিদপুরের সদরপুরে আইএফআইসি ব্যাংকের উদ্যোগে আর্থিক সাক্ষরতা বিষয়ক সেমিনার

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে আইএফআইসি ব্যাংকের উদ্যোগে আর্থিক সাক্ষরতা বিষয়ক সেমিনার

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঞ্চয়ের গুরুত্ব তুলে ধরতে আর্থিক সাক্ষরতা বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর কৃষ্ণপুর গ্রামের চাইল্ড ড্রিম কিন্ডারগার্টেন স্কুলে এ সেমিনারের আয়োজন করে আইএফআইসি ব্যাংকের হাট কৃষ্ণপুর উপ-শাখা (পিএলসি)।

সেমিনারে ব্যাংকিং কার্যক্রম, সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা, নিরাপদ লেনদেন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা এবং আর্থিক পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইএফআইসি ব্যাংকের হাট কৃষ্ণপুর উপ-শাখার অফিসার ইন-চার্জ প্রসেনজিৎ ভৌমিক, সেলস অ্যাসোসিয়েট আনন্দ রায় এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-শাখার ট্রানজ্যাকশন সার্ভিস অফিসার গোলাম রহমান পাভেল, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

অনুষ্ঠানে অফিসার ইন-চার্জ প্রসেনজিৎ ভৌমিক বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের আর্থিক বিষয়ে সচেতন করে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে তারা সঠিকভাবে অর্থ ব্যবস্থাপনা করতে সক্ষম হবে। তিনি অভিভাবকদের নিয়মিত সঞ্চয় গড়ে তোলা এবং নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

সেমিনার শেষে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানান আয়োজকরা।

“সত্য, সাহস আর মানবিকতার প্রতিচ্ছবি ছিলেন সাংবাদিক আজিজ”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
“সত্য, সাহস আর মানবিকতার প্রতিচ্ছবি ছিলেন সাংবাদিক আজিজ”

সাংবাদিক সমাজে কিছু মানুষ থাকেন, যারা শুধুই একজন সংবাদকর্মী নন—একটি প্রতিষ্ঠান, একটি আস্থা আর একটি ছায়ার নাম হয়ে ওঠেন। এম.এ আজিজ ছিলেন ঠিক তেমনই একজন মানুষ। ফরিদপুরের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সবার প্রিয় “সাংবাদিক আজিজ ভাই” হিসেবে খ্যাত।

দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার ফরিদপুর জেলা সংবাদদাতা হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পাশাপাশি ফরিদপুর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ১৯৫৬ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া এই মানুষটি ছিলেন অত্যন্ত মিশুক, আন্তরিক এবং মানবিক গুণে ভরপুর।

তিনি মানুষের খুব কাছে যেতে জানতেন। ছোট-বড়, ধনী-গরিব, পরিচিত-অপরিচিত—সবাইকে আপন করে নিতেন সহজ হাসি আর মায়াভরা কথায়। কারও বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়াতে কখনো দ্বিধা করতেন না। একটি মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তৃণমূলের নির্যাতিত ও অসহায় মানুষও তার কাছ থেকে পেয়েছেন সাহস, সহযোগিতা ও ন্যায়বিচারের আশ্বাস। ব্যক্তিত্ব, সততা আর মানবিকতায় তিনি ছিলেন অনন্য এক মানুষ।

ফরিদপুরের সাংবাদিক অঙ্গনেও আজিজ ভাই ছিলেন এক আলোকবর্তিকা। নবীন সাংবাদিকদের হাতে-কলমে শিখিয়েছেন সংবাদকর্মের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ আর সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস। কেউ সমস্যায় পড়লে ছুটে যেতেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। এজন্যই সাংবাদিক সমাজের সবার হৃদয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন গভীর ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায়।

আজও খুব স্পষ্ট মনে পড়ে একটি দিনের কথা। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক আত্মীয়কে ভর্তি করাতে গিয়ে হঠাৎ দেখা হয়েছিল আজিজ ভাইয়ের সঙ্গে। আমাকে দেখেই তিনি যেন নিজের ছোট ভাইয়ের মতো পাশে দাঁড়ালেন। হাসপাতালের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আত্মীয়ের চিকিৎসার বিষয়টি আন্তরিকভাবে দেখার অনুরোধ করেছিলেন। সেই মুহূর্তে বুঝেছিলাম—মানুষ হিসেবে তিনি কতটা বড় মনের ছিলেন।

সময়ের নির্মম নিয়মে সেই মানুষটি আজ আর আমাদের মাঝে নেই। ২০২২ সালের ১৯ মে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দেখতে দেখতে কেটে গেছে আরও একটি বছর। আজ তার মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর অশেষ কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি প্রিয় আজিজ ভাইকে।

মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মে, ভালোবাসায় আর মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া স্মৃতিতে। এম.এ আজিজ তেমনই একজন মানুষ, যিনি ফরিদপুরের সাংবাদিক সমাজ ও অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে আজও বেঁচে আছেন নিভৃত আলো হয়ে।

আল্লাহ যেন প্রিয় আজিজ ভাইকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন। ওপারে ভালো থাকবেন আজিজ ভাই। আপনার মতো মানুষ কখনো হারিয়ে যান না, স্মৃতির ভাঁজে আজীবন বেঁচে থাকেন।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

ফরিদপুরে খাল পুনঃখনন দেখিয়ে বন বিভাগের দুই শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে খাল পুনঃখনন দেখিয়ে বন বিভাগের দুই শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সরকারি খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের কয়েকশ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, খাল খননের প্রয়োজনের অতিরিক্ত গাছ কেটে প্রভাবশালীরা তা লোপাট করেছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব, বন বিভাগের তদারকির দুর্বলতা এবং সামাজিক বনায়ন কমিটির ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের তীর উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক বিএনপি নেতাদের দিকেও। যদিও ওই নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ এলাকার ‘মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম সুইচগেট পর্যন্ত’ প্রায় দুই কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বোয়ালমারীতে তিনটি খাল পুনঃখননের কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে এই খালটির কাজ ঘিরেই সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক।

সোমবার (১৮ মে) এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শিব্বির আহমেদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী শনিবার (২৩ মে) সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে কতগুলো গাছ কাটা হয়েছে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়েছে কিনা এবং কারা জড়িত, এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ফরিদপুর বন বিভাগের উদ্যোগে গুনবহা ইউনিয়নের তালতলা থেকে ভেন্নাতলা বাজার পর্যন্ত সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়। দীর্ঘদিনে নদের খালের দুই পাড়জুড়ে গড়ে ওঠে সবুজ বেষ্টনী। ওইসব গাছের মধ্যে অধিকাংশই ছিল মেহগনি ও শিশু প্রজাতির।

অভিযোগ উঠেছে, খাল পুনঃখননের সময় খালের দক্ষিণ পাড় থেকে অন্তত দুই থেকে তিন শতাধিক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই গাছ কাটা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী কাটা গাছ বন বিভাগের জিম্মায় জমা না দিয়ে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “খাল কাটার নামে বৃক্ষ নিধন” শিরোনামে ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

এরপর গত রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি ও নদেরচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হেমায়েতউদ্দিনের বাড়ি থেকে কেটে ফেলা প্রায় শতাধিক গাছের কান্ড ও গুড়ি জব্দ করা হয়। ঘটনার পর থেকেই হেমায়েতউদ্দিন পলাতক রয়েছেন বলে সূত্র জানায়।

স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, গুনবহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সমর্থকরাই গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত। তবে তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, খাল খনন প্রকল্পের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত থাকলেও গাছ কাটার ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে বন বিভাগের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গাছ না কেটেও খাল খনন করা যেত। তাতে খাল থেকে যে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে, সেই মাটি ধরে রাখতে গাছ থাকলে আরো ভালো হয়।

উপজেলা বন কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, খাল ও খালপাড়ের গাছ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে খননকাজের সুবিধার্থে গাছ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে, তবে নিয়মের বাইরে কোনো কর্মকান্ড গ্রহণযোগ্য নয়। বন বিভাগ থেকে কাউকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের কথা প্রথমদিকে তো শুনতেই চান না তারা, পরে না হয় আপনারা লেখালেখি করার কারণে হইতো সম্ভব হয়েছে গাছ কাটা ঠেকানো।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, বোয়ালমারী পাট উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। খালে পানি না থাকায় কৃষকরা পাট জাগ দিতে সমস্যায় পড়ছেন। খাল খননের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ সম্ভব হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন। তবে নিয়মের বাইরে কোনো গাছ কাটা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি জমির গাছ কেউ ব্যক্তিগতভাবে নিতে পারবে না; নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

ফরিদপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া কোনো গাছ কাটার সুযোগ নেই। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত গাছের গুড়ি গুলি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।