খুঁজুন
, ,

মরিচের মাঠে পানি, বাজারে আগুন—ফরিদপুরে কেজি ৩২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
মরিচের মাঠে পানি, বাজারে আগুন—ফরিদপুরে কেজি ৩২০ টাকা

টানা ভারী বৃষ্টিতে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা অতি বৃষ্টিতে অধিকাংশ মরিচক্ষেতে পানি জমে গাছ পচে ও মারা যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

মাঠে উৎপাদন হঠাৎ কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। বর্তমানে ফরিদপুরের বিভিন্ন বাজারে জাতভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে মধুখালীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও সবুজ মরিচে ভরা যে মাঠগুলো ছিল, সেগুলো এখন পানিতে ডুবে আছে। জমে থাকা পানির কারণে মরিচগাছের শিকড় পচে গাছ শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। অনেক কৃষক ক্ষতির পরিমাণ দেখে বাধ্য হয়ে পুরো ক্ষেত পরিষ্কার করে ফেলছেন। কোথাও কোথাও জমিতে নতুন করে চাষের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।

উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। তাদের দাবি, উপজেলার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচের ক্ষেত বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে অনেক কৃষক ঋণ ও ধারদেনার বোঝা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

রায়পুর ইউনিয়নের কৃষক রোকনউজ্জামান ও ফিরোজ মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা নিয়ে তারা জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে প্রায় সব গাছই মারা গেছে। এখন ক্ষেত তুলে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তারা বলেন, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের ব্যয় আগেই অনেক বেড়েছিল। এর মধ্যে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগের টাকাও ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সরকারি সহায়তা পেলে আবার নতুন করে চাষ শুরু করা সম্ভব হবে।

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে অধিকাংশ জমিতে পানি জমে গাছ পচে মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কিছু কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদপুর জেলায় ৩ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে ৫ হাজার ৭০৬ মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে টানা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উৎপাদন কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। ফরিদপুর শহরের হাজী শরিয়তুল্লাহ বাজার, চকবাজার, টেপাখোলা বাজার ও হেলিপ্যাড বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচের সরবরাহ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাইরে থেকে পর্যাপ্ত মরিচ আসছে না। যে পরিমাণ মরিচ বাজারে আসছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় দাম বাড়ছে।

ফরিদপুর জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি মানিক মজুমদার বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মরিচের উৎপাদন কমে যাওয়ায় কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি ভোক্তাদেরও বাড়তি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।

ফরিদপুরে গভীর রাতে জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গভীর রাতে জানালা ভেঙে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে আটক দুই যুবককে মোটরসাইকেলসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর চাচা আবু তালেব জানান, কিশোরীর মা তার দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। এ সময় বাড়িতে কিশোরী, তার অপর বোন ও ছোট ভাই অবস্থান করছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে গণপিটুনি দিয়ে সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
আটকরা হলেন হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।

ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “শাশুড়ির অপারেশনের কারণে আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে
নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর হাতে আটক দুইজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।”

‘ভালোবাসার গল্প’

শরীফ খান
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
‘ভালোবাসার গল্প’

আজও যখন বকুল ফুল নীরবে ঝরে পড়ে, মনে হয় সময় তার অদৃশ্য ডানায় ভর করে দুই যুগ পেছনে ফিরে যায়। বাতাসে ভেসে আসে বেলী ফুলের মৃদু সুবাস, আর পুকুরপাড়ের সেই পুরোনো হিজল গাছটি আজও নীরব প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকে। সে যেন জানে—সব গল্পের শেষ অধ্যায় লেখা হয় না; কিছু গল্প অসমাপ্ত থাকাই তাদের নিয়তি।

যুগ যুগ আগে আমাদের ভালোবাসার সূচনা হয়েছিল। কত স্বপ্ন, কত প্রতীক্ষা, কত অদেখা পথের আহ্বান ছিল সেই দিনগুলোতে। মনে হয়েছিল, জীবনের দীর্ঘ নদী আমরা পাশাপাশি হেঁটেই পার হব। কিন্তু সময়ের নিজস্ব এক নির্মম ব্যাকরণ আছে; সে সব প্রতিশ্রুতিকে পূর্ণতার ঠিক আগে থামিয়ে দিতে জানে।

জীবন আমাদের ভিন্ন ভিন্ন তীরে পৌঁছে দিয়েছে। অথচ হৃদয়ের গভীরতম কক্ষে একটি প্রদীপ আজও জ্বলে আছে—নিভৃত, নির্মল, অবিচল। সেই আলোয় এখনো বেঁচে আছে আমাদের প্রথম ভালোবাসা; কোনো দাবি নেই, কোনো অভিমান নেই, শুধু নীরব অস্তিত্ব।

আজ তোমার ৪৩তম জন্মদিন। বহুদিন ধরে মনে ছিল, তোমাকে কিছু দেব। এমন কিছু, যার মূল্য অর্থে নয়, অনুভূতিতে; যা বহন করবে বহু বছরের মমতা, নীরব অপেক্ষা আর অক্ষয় শুভকামনা। তাই তোমার জন্য আমার এই হালকা বেগুনি শাড়ি।

এই কোমল বেগুনি রঙে মিশে আছে গোধূলির নিস্তব্ধতা, শ্রাবণের ভেজা আকাশের মায়া, আর সেই অনুভূতিগুলোর মিষ্টি আলো, যাদের ভাষা নেই, অথচ গভীরতা আছে। এই রঙ যেন বলে—ভালোবাসা সবসময় কাছে পাওয়ার নাম নয়; কখনও কখনও দূরে থেকেও কারও জীবনের জন্য নিঃশব্দে আলো হয়ে থাকার নামই ভালোবাসা।

আমার প্রিয় ফুল বকুল, বেলী, হিজল। বকুল ফুল আমাকে শিখিয়েছে—ঝরে পড়েও সুবাস বিলিয়ে যেতে হয়। বেলী ফুল শিখিয়েছে—নির্মল অনুভূতির কোনো ক্যালেন্ডার নেই; সময় তার সৌন্দর্য কেড়ে নিতে পারে না। আর হিজল গাছ প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়—জল, ঝড়, ঋতু কিংবা সময়—সবকিছুর পরও কিছু শিকড় মাটির গভীরে অটুট থেকে যায়।

আমাদের ভালোবাসা হয়তো পূর্ণতার গল্প হয়ে ওঠেনি। একই ছাদের নিচে জীবন কাটানোর স্বপ্ন বাস্তবের পৃষ্ঠায় লেখা হয়নি। কিন্তু তাই বলে সেই অনুভূতিগুলো কখনো মিথ্যে হয়ে যায়নি। বরং সময় তাদের অহংকার ধুয়ে দিয়েছে, ব্যথাকে পরিণত করেছে প্রার্থনায়, আর ভালোবাসাকে রূপ দিয়েছে এক নিঃস্বার্থ আশীর্বাদে।

আজ তোমার জন্মদিনে আমার একটাই প্রার্থনা—তুমি ভালো থেকো। তোমার প্রতিটি সকাল বকুলের সুবাসে ভরে উঠুক। প্রতিটি বিকেল হোক বেলী ফুলের কোমল প্রশান্তিতে আলোকিত। প্রতিটি পথচলায় হিজল গাছের মতো দৃঢ়তা তোমার সঙ্গী হোক। জীবনের প্রতিটি ঋতু তোমাকে দিক শান্তি, প্রাপ্তি আর অনন্ত আলো।

কোনো একদিন যখন এই হালকা বেগুনি শাড়িটি পরবে, হয়তো এক মুহূর্তের জন্য তোমার মনে ভেসে উঠবে বহু বছর আগের একটি বিকেল। হয়তো মনে পড়বে—একটি ভালোবাসার গল্প, যার কোনো সমাপ্তি লেখা হয়নি, তবু যা কখনো শেষ হয়ে যায়নি। কারণ কিছু সম্পর্ক মিলনের মধ্য দিয়ে নয়, স্মৃতির মধ্য দিয়েই অনন্ত হয়ে থাকে।

এতো বছর পরেও তোমার জন্য আমার ভালোবাসা কোনো প্রাপ্তির ইতিহাস নয়, কোনো অপূর্ণতার অভিযোগও নয়। এটি এক নীরব প্রার্থনা, এক অনন্ত শুভকামনা—যেখানে তুমি সবসময় সুখী থাকবে, সুস্থ থাকবে, হাসিমুখে বাঁচবে।

হয়তো এটাই ভালোবাসার সবচেয়ে নির্মল রূপ—যেখানে অধিকার নেই, আছে শুধু আশীর্বাদ; যেখানে প্রাপ্তি নেই, আছে শুধু অন্তহীন মঙ্গলকামনা।

আর সেই মঙ্গলকামনার ভেতরেই আমার ভালোবাসা আজও নিঃশব্দে বেঁচে আছে।

ফরিদপুরে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার পর দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার পর দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের কুজুরদিয়া গ্রামের দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ভাইরাসজনিত অসুস্থতার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

শিশুটির বাবা মো. আলিম শেখ জানান, তার একমাত্র ছেলে আয়তুল্লাহ (১ বছর ৬ মাস) গত ২০ থেকে ২১ দিন আগে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়ার পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে গত ২৯ জুলাই আবারও তার নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়।

এলাকাবাসী জানান, ওই রাতে শিশুটির মা জুই আক্তার তাকে বুকের দুধ পান করিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন। পরে ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে শিশুটির হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির মরদেহ বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভাইরাসজনিত কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। বিষয়টি অপমৃত্যু হিসেবে আইনগত প্রক্রিয়ায় নথিভুক্ত করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”