খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৩ মাঘ, ১৪৩২

ফরিদপুরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই মধুমতি তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৪৪ পিএম
ফরিদপুরে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই মধুমতি তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টির পানিতে ধ্বসে গেছে মধুমতি নদীর ডান-তীর রক্ষা বাঁধের কয়েকটি অংশ। এতে নদীর তীরে বসবাসরত শতাধিক পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় এবং যথাযথ ডাম্পিং না করে সিসি ব্লক বসানোর কারণে বৃষ্টির পানিতেই বাঁধ ধসে পড়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তারা এখনো কাজ বুঝে পাননি। কাজে অনিয়ম হলে তার দায়ভার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ও টগরবন্দ ইউনিয়নের মিলনস্থল চর আজমপুর এলাকায় ডান-তীর রক্ষায় ৩০০ মিটার বাঁধের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিটন মল্লিক। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পানিতে বাঁধের আনুমানিক ৩০ মিটার ধ্বসে পড়ার দৃশ্য দেখা যায়। এতে সিসি ব্লকগুলো পর্যায়ক্রমে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, জেলার আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার সীমান্তবর্তী মধুমতি নদীর পূর্বপাড়ে দীর্ঘ কয়েক বছর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে ফসলি জমি, ঘর-বাড়ি, স্কুল, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা। নদী পাড়ের অনেক বসতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে কয়েকবার বসতি স্থাপনা পাল্টিয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। গত সরকারের আমলে এলাকাবাসীর দাবির পেক্ষিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চেষ্টায় মধুমতি পাড়ে সাড়ে ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। যা ‘মধুমতি নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন’ নামে ২০২৩ সালের ৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮১ কোটি ১০ লাখ টাকা।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে ২৮টি প্যাকেজে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মধুমতি নদীর ডান তীর রক্ষায় ২৮টি প্যাকেজের মধ্যে ২ নম্বর প্যাকেজের আওতায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চর আজমপুর এলাকায় ৩০০ মিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য কাজ পায় মেসার্স লিটন মল্লিক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৩০০ মিটার বাঁধ নির্মাণের কাজটি প্রায় শেষের দিকে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নির্মাণ কাজের কয়েক জায়গা ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কাজটি চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান শরীফ (৬৩) নামে এক ব্যক্তি বলেন, নদী ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হলে আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই বৃষ্টির পানিতেই বাঁধ ধ্বসে পড়েছে। দ্রুত তীর সংরক্ষণ বাঁধ মেরামত না করা হলে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শেফালী বেগম (৫৫) নামে এক বাসিন্দা জানান, স্থায়ী বাঁধ হওয়ার কারণে গত দুই মাস আগে ধারদেনা করে বাড়িতে একটা ঘর দিয়েছি। কিন্তু সেই স্থায়ী বাঁধও নদীতে যদি ভেঙে যায়। তাহলে তো আর কোথাও বলার জায়গা থাকলো না। আমরা এই এলাকায় বসবাস যাতে করতে পারি, সেই অনুযায়ী বাঁধটি যেন সরকার করেন।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মেসার্স লিটন মল্লিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বার্ধীকারী লিটন মল্লিককে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোনটি ধরেননি।
তবে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জিয়াউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, নদীতে অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধের কিছু অংশ ধ্বসে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ওই অংশে বালু ভর্তি জিও ব‍্যাগ ফেলানো হচ্ছে। পরবর্তীতে নদীর পানি কমলে তা মেরামত করে দেওয়া হবে। আমাদের বাঁধ নির্মাণের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে ধসে যাওয়া বাঁধ নির্মাণ কাজটির দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী মো. তৌফিকুর রহমান জানান, আমি সবেমাত্র ফরিদপুরে নতুন যোগদান করেছি। বাঁধ নির্মাণ কাজটি স্যারের (নির্বাহী প্রকৌশলী) সাথে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বাঁধের ধ্বসে যাওয়া অংশের কাজ পুণরায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজে কোন অনিয়ম আছে কি-না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘নেতা বদলায়, পেটের কষ্ট বদলায় না’

জান্নাতুল তানভী
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫২ এএম
‘নেতা বদলায়, পেটের কষ্ট বদলায় না’

“নদীতে সন্ধ্যা রাত্তিরে যে সময় বোট না আসতি পারে, সেই সময় ফাঁকে দুইজন চইলে যাই। যখন দেখি অনেক দূরে বোট আছে তখন দুটো ওঁচোল দিয়ে টুপ কইরে চইলে আসি। বাজারে ছেটে দিয়ে আসি, দুইশো, একশো যা হয় তাই দিয়ে চলি”- কথাগুলো বলছিলেন বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার পশ্চিম চিলার এলাকার চপলা রানী মণ্ডল।

নদীতে নিষেধাজ্ঞার সময় কিভাবে সরকারি অভিযানকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ ধরেন, সেই কথাটিই বলছিলেন মিজ মণ্ডল। যে মাছ ধরেন, তা বাজারে বিক্রির জন্য নির্ধারিত স্থান ‘ছেট’ এ দেওয়ার কথা বলছিলেন তিনি।

মোংলার যে পাড়ায় তার ঘরে বসে কথা হচ্ছিলো, তার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে পশুর নদী।

সুন্দরবনের ঢাংমারি নদী, পশুর নদী, ঘসিয়াখালী চ্যানেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন মিজ মণ্ডলের মতো এখানকার প্রায় আড়াই হাজার বাসিন্দা।

কেবল চপলা রানী মণ্ডলই নয়, ক্লারা সরকারসহ আরো অনেক নারীই পুরুষদের সাথে মাছ ধরার জন্য নদীর লবনাক্ত পানিতে নামেন।

তবে, মাছ ধরাই তাদের মূল পেশা নয়, যখন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে, তখন সংসার চালানোর জন্য সুন্দরবনের কাঠ কুড়ানো, কাঁকড়া ধরা, মধু সংগ্রহের মতো নানাবিধ কাজও করেন তারা।

সুন্দরবন ও এর আশেপাশের নদীকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করেন বলে এই বাসিন্দাদের সাধারণত বনজীবী হিসেবে অভিহিত করা হয়।

জীবিকা নির্বাহের জন্য একেক মৌসুমে একেক পেশা বেছে নেন তারা।

সোমবার দুপুরে যে সময় তাদের সাথে কথা হয়, তখন এই পাড়ায় দুই একজন বাদে আর কোনো পুরুষ সদস্যকে দেখা যায়নি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে এই এলাকাটি বাগেরহাট -৩ আসনের অন্তর্ভূক্ত।

এই আসনটি রামপাল ও মোংলা নিয়ে গঠিত।

এখানকার বাসিন্দাদের কাছে নির্বাচন মানে মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয়, তারা চান, খাওয়া-পড়ার নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান এবং বাসস্থানের নিশ্চয়তা।

ভোট মানে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চান চপলা রানী

যায় না, সেই সময় যার কার্ড থাকে তিনি সরকারের কাছ থেকে ৭১ কেজি চাল পান।

প্রতিবছর পহেলা নভেম্বর থেকে ৩০শে জুন আট মাস সাধারণত জাটকা ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে।

সেসময় যেসব কার্ডধারী জেলেরা ইলিশ মাছ ধরেন, তারা চার মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে এক মণ করে চাল পান।

এক্ষেত্রে মৎস্য অধিদপ্তর নদীতে ইলিশ মাছ ধরে, এমন জেলেদের শ্রেণিভুক্ত করে সরকারি সাহায্য দিয়ে থাকে বলে জানান তারা।

তবে এমন কার্ডধারীর সংখ্যা এখানে খুবই কম বলে জানান ক্লারা সরকার।

এখানকার আড়াই হাজার পরিবারের প্রায় প্রত্যেকেই এই কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু কার্ড আর পাননি বলে জানান এখানকার অনেক বাসিন্দাই।

তাই কেবল মিজ মণ্ডলই নন ক্লারা সরকার, বুলি বেগম, কৃষ্ণা দাস, নমিতা রানীসহ প্রায় প্রত্যেকেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা চান।

ক্লারা সরকার যেমনটা বলছিলেন, “আমরা আসলে রাজনীতি খুবই কম বুঝি। দরিদ্র এলাকার লোকজন আমরা বুঝি পেটনীতি। মা হিসেবে লজ্জিত যে ছেলে, মেয়েদের মুখে খাবার দিতে পারি না।”

মিজ সরকার নদীতে বাগদা চিংড়ি ধরে জীবিকা উপার্জন করেন বলে জানান।

সরকারি ভিজিএফ কার্ড, রেশন কার্ড, জেলে কার্ড যাদের আছে, তারাই কেবল সাহায্য পেয়ে থাকেন বলে জানান তিনি।

তবে তার কোনো কার্ডই নেই উল্লেখ করেন মিজ সরকার।

এই নারীদের প্রত্যেকেই বলছেন, তারা ভোট দেবেন কিন্তু নতুন সরকারের কাছে দাবি স্থায়ী কর্মসংস্থান।

মিজ ক্লারার ভাষায়, “যাতে পরে আমি ছেলে, মেয়ের মুখে দুইটা অন্ন দিতে পারি। একটু পড়ালেখা করাইতে পারি।”

‘চিকিৎসার ব্যবস্থা ও ভালো রাস্তাঘাট চাই’

হিন্দু মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বসবাস এই গ্রামটিতে। পশুর নদীর কোলে দেখা যায় ভাঙা একটি ঘর যার বেশিরভাগ অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সেটিই চপলা রানী মণ্ডলের শ্বশুর বাড়ি ছিল। কোনো কোনো বাড়ির পাশে নদীর কোল ঘেঁষে গোলপাতার গাছ রয়েছে।

সুন্দরবনের ঢাঙমারি নদী বা পশুর নদী যেটির কথাই বলি না কেন প্রাকৃতিক কারণেই এখানকার সব নদীর পানিই লবনাক্ত।

এই লবনাক্ত পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে নারীরা নানা শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন। কিন্তু এসব সমস্যার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা পান না তারা।

মোংলার এই ইউনিয়নে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র।

একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে কেবল প্রাথমিক চিকিৎসা করা যায় বলে জানান পশ্চিম চিলার একটি দোকানের কর্মী রমেশ দাস।

মি. দাস বলছিলেন, “জ্বর হলি পরে গেলে ওষুধ দেয়, আমগোর বড় কোনো রোগে তো কামে আহে না।”

এখানকার বনজীবীদের অনেকেই জানান, সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গেলে বা মাছ ধরার সময় কেউ যদি কখনো অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে তাকে এখানে এনে পর্যাপ্ত চিকিৎসা করা যায় না।

কৃষ্ণা দাসের স্বামী যেমন সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে স্ট্রোক করেন। কিন্তু কমিউনিটি হাসপাতালে নেই এমন জটিল চিকিৎসার সুযোগ।

ফলে শরীরের বামপাশ প্যারালাইজড হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ক্লারা সরকার নারীদের শারীরিক সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের মহিলাদের আসলে জরায়ুর সমস্যা হয়। লবনাক্ত পানির কারণে বন্ধ্যাত্বতা বেড়ে গেছে। শরীরে অনেক ধরনের চুলকানি আছে। এখন লবন পানি, প্রায় ঘরে ঘরে ডায়রিয়া হবে। ছেলেমেয়েরা অসুস্থ থাকবে।”

তাই নিজের ইউনিয়নে বা এলাকায় ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা চান মিজ সরকার।

১২ই ফেব্রুয়ারি ভোট দেবেন কি না- এমন প্রশ্নে মিজ সরকার বলেন, নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন হয় কিনা, তা দেখতে এবার ভোট দেবেন।

মিজ সরকারের কাছে নির্বাচনের অর্থ হলো সবাইকে নিয়ে সুন্দরভঅবে বসবাস করা, ছেলে-মেয়েদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, তাদের পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়া।

“ভোট দিলে যদি কাজের ব্যবস্থা হয়….. তো দিলাম” বলেন মিজ সরকার।

গত সোমবার মোংলা থেকে ফেরি পার হয়ে যতই সামনে এগোই, আমরা ততই এই এলাকার রাস্তা-ঘাটের করুণ দশা দেখতে পাই। পশ্চিম চিলা পর্যন্ত যাওয়ার একটা বিশাল পথের পুরো রাস্তায়ই মাটি খুঁড়ে রাখা, শেষ হয়নি সড়কের কাজ।

এমন পথগুলোতে যখন গাড়ি এগোচ্ছিলো, তখন অপর পাশ থেকে আসা যে কোন বাহনকে থেমে যেতে হচ্ছিলো। কারণ ভাঙা রাস্তার একপাশে ফেলে রাখা মাটি ও ইটের টুকরোর কারণে কেবল একটি গাড়িই পার হতে পারে।

নির্বাচনের মাধ্যমে মিজ সরকার মূলত এই ভাঙাচোরা সড়কের অবস্থারও পরিবর্তন চান।

নারীরা চান চলাচলের নিরাপত্তা

অনেক সময় কাজ না থাকলে সংসার চালাতে এখানকার বাসিন্দাদের ধার-দেনা করতে হয় বলে জানান বুলি বেগম। ফলে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তারা।

এই এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বুলি বেগম, ক্লারা সরকার, কৃষ্ণা দাস ও নমিতা রানী।

বুলি বেগম যেমনটা বলছিলেন, “হাসিনা নাইমা যাওয়ার পরের থেকে প্রথম প্রথম কয়দিন শোনা গেছে ওমুক জায়গায় মেয়ে নিয়ে গেছে, ওমুক জায়গায় ধর্ষণ হইছে, ওমুক জায়গায় মারিছে-ধরিছে। তারপর এখন কয় মাস (ইদানীং) শোনা যাচ্ছে না।”

রাজনৈতিকভাবে বেশ সচেতন মিজ বেগম চান, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার এলে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। নারীদের চলাচলের নিরাপত্তা চান তিনি।

বুলি বেগম নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কার কথা বলেন, সেটির প্রমাণ মেলে ক্লারা সরকারের কথায়। যার নিজের ভাইয়ের মেয়ে নিখোঁজ।

তিনি জানান, ওই কিশোরী ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সেন্ট পল উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। এই সপ্তাহেরই শনিবার থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এই ঘটনায় থানায় জিডি ও মামলা করা হয়েছে বলে জানান মিজ সরকার।

“সে কোচিং এ যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়, তার সাথে কোচিং এর ব্যাগ ছিল। পরে জানতে পারি আমার ভাইয়ের মেয়েটা মালগাজীর একটা ছেলের সাথে চলে গেছে। তারপর থেকে বিভিন্নভাবে আমরা গ্রামের লোকজনসহ প্রেশার দিছি। জিডি করেছি থানায়, মামলা দিছি। কিন্তু এখনও আমরা মেয়েটা উদ্ধার করতে পারিনি” বলেন মিজ সরকার।

তাই ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তনের আশা করেন তিনি। নতুন সরকারের কাছে নারীদের চলাচলের নিরাপত্তা চান।

তবে মিজ সরকার জানান, ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকলেও ততটা তৎপর নয়।

তার ভাষায় পুলিশের ভূমিকা “খুবই দুর্বল।”

জেলে বিদ্যুৎ মণ্ডল বলছিলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে অনেকটা বুদ্ধি খাটিয়েই টিকে থাকতে হয় তাদের।

মি. মণ্ডল জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি। তিনি বলছিলেন, “দুর্যোগটা যখন দ্রুত উঠে আসে, আমাদের উপকূলীয় এলাকায় কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় জলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়। কোনো সাইক্লোন সেন্টার নাই যেখানে দুর্যোগের সময় দ্রুত অবস্থান নেবে।”

মি. মণ্ডল বলছেন, “ভোট আসে আর যায়। কেউই নজর দেয় না।”

তাই যেসব জেলেরা নদীতে মাছ ধরেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট, বয়াসহ নিরাপত্তা সামগ্রী, অসুস্থ বা আহত বনজীবীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ চান মি. মণ্ডল।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের সাতজন বৈধ প্রার্থী নির্বাচন করছেন।

বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ।

এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বাগেরহাট-২ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম। দল থেকে তিনি বহিস্কার হয়েছেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশে ২০২৬ নির্বাচন: ভোটের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা

রহমান মৃধা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৪ এএম
বাংলাদেশে ২০২৬ নির্বাচন: ভোটের রাজনীতি ও গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা

বাংলাদেশ এখন একটি ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যাবে না। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি, রাষ্ট্রীয় বিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ‑পরিকল্পনার প্রতি জাতির আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষাও বটে।

এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিয়ে দেশের মানুষের মনেই গভীর প্রশ্ন ও সংশয় রয়েছে। প্রশ্নগুলো কেবল একদলীয় দাবির নয়; বরং এগুলো বিস্তৃত রাজনৈতিক আলোচনার, গণমত ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের প্রতিফলন।

১. নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কি?

এ প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বড় এবং বাস্তব উদ্বেগ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ভোট পরিবেশ ‘এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক’ এবং সবাই সহযোগিতা করলে ‘সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব’। তবু নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা শুধু সময়মতো আয়োজন দ্বারা নির্ধারিত হয় না; এটি নির্ভর করে সাধারণ জনগণের আস্থা, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং ভোটারদের নিরাপত্তার ওপর।

হেট‑স্পিচের ঝুঁকি রয়েছে।

• রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন ও মিডিয়ার দায়িত্ব হলো সতর্ক ও দায়িত্বশীল আচরণ করা।

• ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চূড়ান্ত মতামত

বাংলাদেশের ২০২৬ নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক বিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক অন্তর্দ্বন্দ্বময় পরীক্ষা।

সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন:

১. স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন প্রক্রিয়া।

২. প্রতিটি দলের সমান সুযোগ ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ।

৩. প্রশাসন ও ইসির নিরপেক্ষ ভূমিকা।

৪. ভোটার নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার ও সামাজিক স্থিতিশীলতা।

৫. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, স্বচ্ছ গণনা ও তথ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ফলাফল যাই হোক, যদি এই শর্তগুলো নিশ্চিত করা হয়, তবে নির্বাচন কেবল অনুষ্ঠিত হবে না; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনরুজ্জীবন এবং জাতির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃত হবে।

বাংলাদেশের জনগণ চায় নির্বাচন, বিশ্বাস ও স্থিরতার সমন্বয়। এটি আজকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

লেখক: রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

 

আধুনিক জীবনে রোজা: জরুরি ৩০টি মাসআলার সহজ ব্যাখ্যা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৫ এএম
আধুনিক জীবনে রোজা: জরুরি ৩০টি মাসআলার সহজ ব্যাখ্যা

রমজান মাসে রোজা পালন করতে গিয়ে আধুনিক চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়কে ঘিরে মানুষের মনে বহু প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে চিকিৎসা পদ্ধতি ও পরীক্ষানিরীক্ষার ধরন বদলে যাওয়ায় ইনজেকশন, ইনহেলার, বিভিন্ন মেডিকেল টেস্ট, অপারেশন কিংবা ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গ হবে কি না—এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

ফিকহের কিতাব ও সমসাময়িক আলেমদের গবেষণায় দেখা যায়, রোজা ভঙ্গ হওয়ার মূলনীতি হলো, শরীরের স্বাভাবিক গ্রহণপথ দিয়ে কোনো বস্তু ভেতরে প্রবেশ করে পাকস্থলী বা অভ্যন্তরীণ খালি স্থানে পৌঁছানো। এ নীতির আলোকে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলেমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং সেসব মাসআলার সমাধান দিয়েছেন।

নিচে রোজা সম্পর্কিত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক মাসআলা একনজরে তুলে ধরা হলো—

১. ইনজেকশন (Injection)

ইনজেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

২. ইনহেলার (Inhaler)

শ্বাসকষ্ট দূর করার লক্ষ্যে তরলজাতীয় একটি ওষুধ স্প্রে করে মুখের ভিতর দিয়ে গলায় প্রবেশ করানো হয়। এভাবে ইনহেলার স্প্রে করার দ্বারা রোজা ভেঙ্গে যাবে।

৩. এনজিও গ্রাম (Angio Gram)

হার্ট ব্লক হয়ে গেলে উরুর গোড়া দিয়ে কেটে বিশেষ রগের ভিতর দিয়ে হার্ট পর্যন্ত যে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়, তার নাম এনজিও গ্রাম। এ যন্ত্রটিতে কোনো ধরনের ওষুধ লাগানো থাকলেও রোজা ভঙ্গ হবে না।

৪. এন্ডোস কপি (Endos Copy)

চিকন একটি পাইপ ; যার মাথায় বাল্ব জাতীয় একটি বস্তু থাকে। পাইপটি পাকস্থলিতে ঢুকানো হয় এবং বাইরে থাকা মনিটরের মাধ্যমে রোগীর পেটের অবস্থা নির্নয় করা হয়। এ নলে যদি কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয় বা পাইপের ভিতর দিয়ে পানি/ওষুধ ছিটানো হয়ে থাকে, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি কোনো ওষুধ লাগানো না থাকে তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৫. নাইট্রোগ্লিসারিন (Nitro Glycerin)

এরোসলজাতীয় ওষুধ, যা হার্টের জন্য দুই-তিন ফোটা জিহ্বার নিচে দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়। ওষুধটি শিরার মাধ্যমে রক্তের সাথে মিশে যায়। এ ওষুধের কিছু অংশ গলায় প্রবেশ করার প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। অতএব- এতে রোজা ভেঙে যাবে।

৬. লেপারোস কপি (Laparoscopy)

শিক্জাতীয় একটি যন্ত্র দ্বারা পেট ছিদ্র করে পেটের ভিতরের কোনো অংশ বা গোশত ইত্যাদি পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বের করে নিয়ে আসার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র। এতে যদি ঔষধ লাগানো থাকে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। অন্যথায় রোজা ভঙ্গ হবে না।

৭.অক্সিজেন (Oxygen)

রোজা অবস্থায় ওষুধ ব্যবহৃত অক্সিজেন ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। তবে শুধু বাতাসের অক্সিজেন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

৮. মস্তিস্ক অপারেশন (Brain Operation)

রোজা অবস্থায় মস্তিস্ক অপারেশন করলে (ওষুধ ব্যবহার করা হোক বা না হোক) রোজা ভঙ্গ হবে না।

৯. রক্ত নেওয়া বা দেওয়া

রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে রোযা ভাঙ্গে না। তাই টেস্ট বা পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া যাবে। তবে এ পরিমাণ রক্ত দেওয়া মাকরুহ যার কারণে শরীর অধিক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যায়। তাই দুর্বল লোকদের জন্য (বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া) রোজা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত না দেওয়া উচিত। আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোজা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোজা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না, সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

১০. সিস্টোসকপি (cystoscopy)

প্রসাবের রাস্তা দিয়ে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে যে পরীক্ষা করা হয়, এর দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

১১. প্রক্টোসকপি (proctoscopy)

পাইলস, পিসার, অর্শ, হারিশ, বুটি ও ফিস্টুলা ইত্যাদি রোগের পরীক্ষাকে প্রক্টোসকপি বলে। মলদ্বার দিয়ে নল প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষাটি করা হয়। রোগী যাতে ব্যথা না পায়, সে জন্য নলের মধ্যে গ্লিসারিন জাতীয় পিচ্ছিল বস্তু ব্যবহার করা হয়। নলটি পুরোপুরী ভিতরে প্রবেশ করে না। চিকিৎসকদের মতানুসারে ওই পিচ্ছিল বস্তুটি নলের সাথে মিশে থাকে এবং নলের সাথেই বেরিয়ে আসে, ভেতরে থাকে না। আর থাকলেও তা পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে। যদিও শরীর তা চোষে না কিন্তু ঐ বস্তুটি ভিজা হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

১২. কপার-টি (Coper-T)

যোনিদ্বারে প্লাস্টিক লাগানোকে কপার-টি বলা হয়। সহবাসের সময় বীর্যপাত হলে যেন বীর্য জরায়ুতে পৌঁছতে না পারে এজন্য এটি লাগানো হয়। এ কপার-টি লাগিয়েও সহবাস করলে রোজা ভেঙে যাবে। কাজা কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে।

১৩.সিরোদকার অপারেশন (Shirodkar Operation)

সিরোদকার অপারেশন হলো, অকাল গর্ভপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জরায়ুর মুখের চতুর্পার্শ্বে সেলাই করে মুখকে খিচিয়ে রাখা। এতে অকাল গর্ভপাত রোধ হয়। যেহেতু এতে কোনো ঔষধ বা বস্তু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য খালি স্থানে পৌঁছে না, তাই এর দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

১৪. ডি এন্ড সি (Dilatation and Curettage)

ডি এন্ড সি হলো, আট থেকে দশ সপ্তাহের মধ্য Dilator এর মাধ্যমে জীবত কিংবা মৃত বাচ্চাকে মায়ের গর্ভ থেকে বের করে নিয়ে আসা। এতে রোজা ভেঙ্গে যাবে। অযথা এমন করলে কাজা ও কাফফারা উভয়টি দিতে হবে এবং তওবা করতে হবে।

১৫. এম.আর (M.R)

এম আর হলো, গর্ভ ধারণের পাঁচ থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে যোনিদ্বার দিয়ে জরায়ুতে এম আর সিরঞ্জ প্রবেশ করিয়ে জীবত কিংবা মৃত ব্রুণ নিয়ে আসা। যারপর ঋতুস্রাব পুনরায় হয়। অতএব ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার কারণে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

১৬. আলট্রাসনোগ্রাম (Ultrasongram)

আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় যে ওষুধ বা যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, সবই চামড়ার উপরে থাকে। তাই আলট্রাসনোগ্রাম করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

১৭. স্যালাইন (Saline)

স্যালাইন নেওয়া হয় রগে, আর রগ যেহেতু রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা নয়, তাই স্যালাইন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে রোজার কষ্ট লাঘবের জন্য স্যালাইন নেওয়া মাকরূহ।

১৮. টিকা নেওয়া (Vaccine)

টিকা নিলে রোজা ভাঙবে না। কারণ, টিকা রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তায় দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে না।

১৯. ঢুস লাগানো (Douche)

ঢুস মলদ্বারের মাধ্যমে দেহের ভেতরে প্রবেশ করে, তাই ঢুস নিলে রোজা ভেঙে যাবে।

২০. ইনসুলিন গ্রহণ করা (Insulin)

ইনসুলিন নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কারণ, ইনসুলিন রোজা ভঙ্গ হওয়ার গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করে না এবং গ্রহণযোগ্য খালি জায়গায়ও ( পাকস্থলি) প্রবেশ করে না।

২১. দাঁত তোলা

রোজা অবস্থায় একান্ত প্রয়োজন হলে দাঁত তোলা জায়েজ আছে। তবে অতি প্রয়োজন না হলে এমনটা করা মাকরূহ। দাঁত তোলার সময় ওষুধ যদি গলায় চলে যায় অথবা থুথু থেকে বেশি অথবা সমপরিমাণ রক্ত গলাধঃকরণ হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

২২. পেস্ট, টুথ পাউডার ব্যবহার করা

রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় টুথ পাউডার, পেস্ট, মাজন ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কিন্তু গলাধঃকরণ হলে রোজা ভেঙে যাবে।

২৩. মিসওয়াক করা

শুকনা বা কাঁচা মিসওয়াক দিয়ে দাঁত মাজার দ্বারা রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

২৪. মুখে ওষুধ ব্যবহার করা

মুখে ওষুধ ব্যবহার করে তা গিলে ফেললে বা ওষুধের অংশ বিশেষ গলাধঃকরণ হলে রোজা ভেঙে যাবে। গলায় প্রবেশ না করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

২৫. রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দেওয়া

রক্ত পরীক্ষার জন্য রক্ত দিলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে খুব বেশি পরিমাণে রক্ত দেওয়া, যার দ্বারা শরীরে দুর্বলতা আসে, মাকরূহ।

২৬. ডায়াবেটিসের সুগার মাপা

ডায়াবেটিসের সুগার মাপার জন্য সুচ ঢুকিয়ে যে একফোটা রক্ত নেওয়া হয়, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

২৭. নাকে ওষুধ দেওয়া

নাকে পানি বা ওষুধ দিলে যদি তা খাদ্য নালীতে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

২৮. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করা

চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করার দ্বারা রোজা ভাঙবে না। যদিও এগুলোর স্বাদ গলায় অনুভব হয়।

২৯. কানে ওষুধ প্রদান করা

কানে ওষুধ, তেল ইত্যাদি ঢুকালে রোজা ভঙ্গ হবে না। তবে কারো কানের পর্দা ছিদ্র হলে ভিন্ন কথা।

৩০. নকল দাঁত মুখে রাখা

রোজা রেখে নকল দাঁত মুখে স্থাপন করে রাখলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

বিস্তারিত জানতে দেখুন

الإسلام والطب الحديث لفقيه الإسلا الشيخ العلامة دلاور حسين ، ضابط المفطرات من الأدوية ونحوها في الصيام للفقيه العلامة رفيع العثماني ، جديد فقهي مسائل للفقيه العلامة خالد سيف الله الرحماني.

সমাধান জানিয়েছেন

মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী

উস্তাজুল ফিকহ, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম, মিরপুর, ঢাকা