খুঁজুন
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ, ১৪৩২

ক্ষমতা আইনকে অপহরণ করেছে

জিয়াদ মোতালা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
ক্ষমতা আইনকে অপহরণ করেছে

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের কোনো ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। এটিকে সীমান্তের বাইরে বিস্তৃত কোনো বৈধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ বলা যায় না। এটি আসলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নগ্ন শক্তির প্রকাশ। এক ধরনের রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন, যেখানে কোনো আড়াল বা লজ্জা নেই।

এখানে আইনের জায়গা দখল করেছে ক্ষমতা। ন্যায়নীতির বদলে প্রাধান্য পেয়েছে নিজের পছন্দ ও স্বার্থ। বলপ্রয়োগকে দেখানো হচ্ছে নৈতিকতা ও সদগুণ হিসেবে। কিন্তু এটি আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা নয়। বরং নীরবে সেই শৃঙ্খলাকেই হত্যা করা হচ্ছে।

যখন একটি রাষ্ট্র আইনকে অপহরণ করে অন্য একটি রাষ্ট্রের নেতাকে অপহরণের বৈধতা দেখাতে চায়, তখন সে আইন বা শৃঙ্খলা রক্ষা করে না, বরং সে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে তার আইনের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই। এ ধরনের কাজ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে না; উল্টো তা ভেঙে ফেলে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এটি শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে অন্য একটি দেশের আগ্রাসন নয়। এটি বিশ্বব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা, যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্র চাইলে আইনকে পাশ কাটিয়ে নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারে। আর সেখানেই সবচেয়ে বড় বিপদ লুকিয়ে আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা কোনো দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের কোথাও কোনো ভিত্তি পায় না, একেবারেই না। এটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবেও গ্রহণযোগ্য নয়। আবার এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো পদক্ষেপও নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনেক কিছু হতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই এমন কোনো খোলা অনুমতিপত্র নয়, যার মাধ্যমে বড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো অপহরণ করে সরকার পরিবর্তন করার অধিকার পায়।

মানবাধিকার লঙ্ঘন বা মাদক পাচারের অভিযোগ দেখিয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার যে দাবি তোলা হচ্ছে, তা বিশেষভাবে ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক। কারণ, আন্তর্জাতিক আইনে এমন কোনো নিয়মই নেই। কোনো চুক্তিতে নেই, প্রথাগত আইনে নেই, এমনকি কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি ব্যাখ্যা বা বিচারিক সিদ্ধান্তেও নেই।

মানবাধিকার আইন মূলত রাষ্ট্রগুলোকে কিছু আচরণগত মানদণ্ড মেনে চলতে বাধ্য করে। কিন্তু এই আইন কোনো রাষ্ট্রকে একতরফাভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে অন্য দেশের নেতাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় না। যদি এমনটাই নিয়ম হতো, তাহলে বিশ্ব সবসময়ই এক ধরনের ‘আইনসম্মত বিশৃঙ্খলার’ মধ্যে ডুবে থাকত।

আসলে যুক্তরাষ্ট্র যদি এ তথাকথিত নীতির ব্যাপারে সত্যিই আন্তরিক হতো, তাহলে তাদের অবস্থানে ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি ছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এ নিয়ে বিস্তৃত নথি রয়েছে এবং গণহত্যার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগও উঠেছে। সেই যুক্তি মানলে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আটক করার পক্ষে আইনগত ও নৈতিক যুক্তি আরও বেশি জোরালো হতো।

এ বাস্তবতা দেখায় যে, এখানে আসলে নীতি বা আইন নয়, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সুবিধাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক আইনকে বেছে বেছে ব্যবহার করা হচ্ছে নিজের স্বার্থে। আর এর ফল হচ্ছে এমন এক বিশ্বব্যবস্থা, যেখানে আইন দুর্বলদের জন্য কঠোর, কিন্তু শক্তিশালীদের জন্য প্রায় অকার্যকর। তবুও এ ধরনের কোনো যুক্তি বাস্তবে বিবেচনাই করা হয় না। এর কারণ খুবই স্পষ্ট। এখানে আইন কাজ করছে না; কাজ করছে ক্ষমতা। ক্ষমতাই ঠিক করছে কে লক্ষ্যবস্তু হবে আর কে হবে না।

সরকার পরিবর্তন বা রেজিম চেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘদিনের অভ্যাস, যার পেছনে স্পষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে। ১৯৫৩ সালে ইরান, ১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালা, ১৯৭৩ সালে চিলি এবং ২০০৩ সালে ইরাক। এসব ঘটনাই দেখায় যে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার অন্য দেশের সরকার পরিবর্তনে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত থেকেছে।

কিন্তু কোনো দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানকে অপহরণ করা একেবারেই নতুন এবং আরও ভয়ংকর এক ধাপ। এটি নৈতিক বা রাজনৈতিক দিক থেকে শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং এটি সেই আচরণ, যাকে ঠেকানোর জন্যই ১৯৪৫ সালের পরের আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। বলপ্রয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা কোনো ছোটখাটো নিয়ম নয়, কোনো আনুষ্ঠানিক জটিলতাও নয়। এটি আন্তর্জাতিক আইনের মূল ভিত্তি, তার প্রাণকেন্দ্র।

এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো অনুমোদন ছাড়াই শক্তি প্রয়োগ করার অর্থ হলো, খোলাখুলিভাবে ঘোষণা করা যে, আইন শুধু দুর্বলদের জন্য, শক্তিশালীদের জন্য নয়। এর মাধ্যমে বলা হচ্ছে, নিয়ম মানতে হবে শুধু তাদেরই, যাদের হাতে ক্ষমতা নেই।

যুক্তরাষ্ট্র এ বাস্তবতা খুব ভালো করেই বোঝে। তারা জানে যে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতিগুলো ভেঙে ফেলছে। তবুও তারা তা করছে। আর এ কাজের মধ্য দিয়েই তারা আসলে জাতিসংঘ সনদভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ময়নাতদন্ত চালাচ্ছে। অর্থাৎ, যে ব্যবস্থা বিশ্বকে যুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করার জন্য তৈরি হয়েছিল, সে ব্যবস্থাকেই ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

এ পচন এখানেই থেমে যায়নি। ওয়াশিংটন বহুবার জাতিসংঘ সনদ এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তির অধীনে নিজেদের দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছে। যেসব কর্মকর্তা তাদের পছন্দ নয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে। গত বছর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে সরাসরি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে না দেওয়া কোনো কূটনৈতিক ভুল বা সামান্য অসৌজন্য ছিল না। এটি ছিল বিশ্বের প্রধান বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাগতিক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট চুক্তিভঙ্গ।

এ ঘটনার বার্তা ছিল একেবারে পরিষ্কার। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার এবং জাতিসংঘ সনদ মানার বিষয়টি এখন আর সবার জন্য সমান নয়; এটি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের ওপর।

জাতিসংঘ তৈরি করা হয়েছিল ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, ক্ষমতার তোষামোদ করার জন্য নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ সংস্থা ক্রমেই গুরুতর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ভেটো ক্ষমতার কারণে অচল হয়ে পড়া, স্বাগতিক দেশের চাপে নত হওয়া এবং সনদ ভাঙতে সক্ষম সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর দ্বারা উপেক্ষিত হওয়ার ফলে, জাতিসংঘ ধীরে ধীরে আইনের রক্ষক থেকে আইনের ক্ষয়কে বৈধতা দেওয়ার এক ধরনের মঞ্চসজ্জায় পরিণত হয়েছে।

এক সময় সত্য অস্বীকার করা আত্মপ্রবঞ্চনায় পরিণত হয়। এ ব্যবস্থা তার মূল প্রতিশ্রুতিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ এই নয় যে, আন্তর্জাতিক আইন অবাস্তব বা সরল চিন্তার ফল। যে রাষ্ট্র এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী, সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আইন মানা ঐচ্ছিক।

এ কারণে এখন সে কথাটাই বলার সময় এসেছে, যা এতদিন বলা হয়নি। জাতিসংঘের সদর দপ্তর স্থায়ীভাবে এমন কোনো দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত, যে দেশ চুক্তিগত দায়বদ্ধতাকে বিরক্তিকর বাধা হিসেবে দেখে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি নতুন, বাস্তবসম্মত ও গভীর আলোচনা শুরু করতে হবে এমন একটি বিকল্প বৈশ্বিক কাঠামো নিয়ে, যার কর্তৃত্ব কোনো একটি রাজধানী, একটি ভেটো ক্ষমতা বা একটি মুদ্রার কাছে জিম্মি থাকবে না। প্রয়োজন হলে এমন একটি ব্যবস্থার কথাও ভাবতে হবে, যার ক্ষমতা জাতিসংঘের চেয়েও বেশি। কারণ, জাতিসংঘকে ভেতর থেকে ধীরে ধীরে ফাঁপা করে দেওয়া হয়েছে।

আইন শুধু স্লোগান হয়ে টিকে থাকতে পারে না। হয় এটি সবচেয়ে বেশি শক্তি প্রয়োগকারীদেরও নিয়ন্ত্রণ করবে, নয়তো এটি শুধু দুর্বলদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ফাঁকা বুলি হয়ে থাকবে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে, তা কোনো শৃঙ্খলা রক্ষার উদাহরণ নয়। বরং এটি প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার জায়গা দখল করেছে ক্ষমতাবানদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ। আর পছন্দের কোনো সীমা নেই—কিছুই বেঁধে রাখতে পারে না।

লেখক: হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব লর আইন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন কেপে পরিচালিত তুলনামূলক ও আন্তর্জাতিক আইন কর্মসূচির পরিচালক ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরের বাসিন্দা তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সেই সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আলজাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন আবিদ আজাদ

নির্বাচনের মাঠে জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট: প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে?

তাফসীর বাবু
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:২১ পিএম
নির্বাচনের মাঠে জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট: প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে?

বাংলাদেশে বরাবরই কোনো একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল বা জোটকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা গেলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোটে এবার সেভাবে কাউকে সামনে রাখা হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ২২শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এবং দলগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে।

এই নির্বাচনে প্রার্থী প্রায় দুই হাজার। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুটি বড় রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে। একদিকে আছে বিএনপি এবং দলটি যাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে তারা। অন্যদিকে জামায়াত ও ও তার সঙ্গে সমঝোতায় আসা দলগুলো।

বিএনপি, গণতন্ত্রমঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদসহ যে জোট হয়েছে, সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি এবং এই জোটের নেতৃত্বেও আছেন তারেক রহমান।

বিপরীতে জামায়াতসহ ১০ দলের যে জোট হয়েছে, সেখানে একক কোনো নেতৃত্ব নেই। বরং জোটটি চলছে যৌথ নেতৃত্বে।

এই জোটে ১০ দলের মধ্যে জামায়াত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন––এই পাঁচটি দল ইসলামপন্থি।

বাকি পাঁচটি দল হলো–– জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি, আমার বাংলাদেশ বা এবি পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বা জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

বিভিন্ন ধরনের ১০টি দল একসঙ্গে এলেও কীসের ভিত্তিতে ঐক্য হলো সেটা স্পষ্ট নয়। এই ঐক্যের উদ্দেশ্য কী, আদর্শিক ভিত্তি কী সেটা নিয়েও কোনো রূপরেখা নেই, বক্তব্য নেই।

এছাড়া এই জোট নির্বাচনে জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন কিংবা নির্বাচনে বিরোধী দলে বসলে বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন, সেটাও নির্ধারিত হয়নি। ফলে অস্পষ্ট নেতৃত্ব এবং দলীয় রূপরেখা নিয়ে এই জোট নির্বাচনের মাঠে বিএনপির কতটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে, তা নিয়ে সংশয় আছে অনেকের মধ্যে।

নেতা সামনে রেখে প্রচারণার রীতি

বাংলাদেশের রাজনীতির দল বা জোটগুলো অনেকটা ঐতিহ্যগতভাবেই একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখেই ভোটের যুদ্ধে মাঠে নামে।

একসময় আওয়ামী লীগ সামনে রেখেছে শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরে যখন শেখ হাসিনা দলের হাল ধরেন, তখন তার নেতৃত্বেই দল এগিয়েছে। জোট হলে সেই জোটের নেতৃত্বে থেকেছেন শেখ হাসিনা।

পরবর্তীকালে বিএনপির ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান থেকে খালেদা জিয়া পর্যন্ত একই চিত্র দেখা গেছে।

এমনকি জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও দলটি নির্বাচনের সময় সামনে রেখেছিলো হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সামনে রেখেছে তারেক রহমানকে। কিন্তু ১০ দলীয় ঐক্যে এভাবে একক কোনো নেতৃত্ব সামনে রাখা হচ্ছে না।

এতে করে যে প্রশ্ন উঠছে–– এই জোট যদি নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন?

দশ দলের নির্বাচনী ঐক্য গঠনের আগেই অবশ্য এই প্রশ্ন উঠেছিলো। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জোট গঠনের আগেই এর সুরাহা করার কথা তোলা হয়। যদিও সেটা নিয়ে পরে আর আলোচনা এগোয়নি।

পরবর্তীকালে ইসলামী আন্দোলন অবশ্য আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ঐক্যপ্রক্রিয়া থেকেও বেরিয়ে যায়

তবে ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার পর জোটে জামায়াতের গুরুত্ব এবং প্রভাব আরো বেড়েছে। দলটি এককভাবে ২১৫টি আসন নেওয়ার পর এটা স্পষ্ট হয়েছে যে জোটের মূল শক্তি জামায়াত।

ফলে, ঘোষণা না হলেও এই জোটে জামায়াতই এখন অঘোষিত নেতৃত্বে, যেটা দলগুলোর বক্তব্যেও পরিষ্কার হয়।

তাহলে কি জামায়াতের শীর্ষ নেতাই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী–– এমন প্রশ্নে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বিবিসি বাংলাকে বলেন, শীর্ষ নেতা, প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেতা -এসব নিয়ে দলগুলার মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।

“এখানে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার বা এ ধরনের পদ পেলে সেখানে কে বসবেন তা নিয়ে আলোচনা হয়নি। সাধারণত, ধরে নেওয়া হয় যে দলের বেশি সংসদ সদস্য জয়ী হোন, তারাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান,” তিনি বলেন।

এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াত একাই লড়ছে ২১৫টি আসনে। এরপরেই আছে এনসিপি, দলটির প্রার্থী মাত্র ৩০টি আসনে।

১০ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় শেষ সময়ে যুক্ত হয়েছে এনসিপি। নিজ আগ্রহে জোটে যুক্ত হওয়ার পর দলটি নেতৃত্ব কিংবা নির্বাচনে জিতলে কে কোন পদে বসবে, সেসব নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ পায়নি। আবার এসব ইস্যুতে নিজেদের চাহিদা জানানোর মতো অবস্থাতেও নেই দলটি।

অন্য দলগুলোও বাস্তবতা দেখে জামায়াতের নেতৃত্বের কথাই বলছে।

“জামায়াত দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নির্বাচন করছে। কাজেই এখানে প্রধান্য বা মুখ্য ভূমিকা তাদেরই। যদি আপনি বিএনপি জোটে বড় দল হিসেবে বিএনপির শীর্ষ নেতাকে ধরেন, তাহলে আমাদের জোটেও বড় দল আছে। সেই দলের নেতাও তো একজনই আছে,” বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

কিন্তু জামায়াত এক্ষেত্রে কী বলছে?

দলটি অবশ্য নেতৃত্বের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বিশেষ করে জামায়াতের একক নেতৃত্ব বা প্রাধান্য নিয়ে এর আগে ইসলামী আন্দোলনের আপত্তির নজির থাকায় জামায়াত চায় নির্বাচনের পরই এর সুরাহা হবে।

“নির্বাচন হয়ে গেলে পরে যাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে, তারা কে কতটি আসন পেয়েছে সেটা দেখা যাবে। তখন সেটার ভিত্তিতেই শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে দলের পক্ষ থেকে আমরা তো আমাদের শীর্ষ নেতাকেই সামনে রাখবো,” বলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

১০ দলের আদর্শিক ভিত্তি কী?

বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী জোটের প্রক্রিয়া শুরু হয় বছরখানেক আগে, মূলত এই দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার কথা বলে।

শুরুতে ইসলামপন্থি পাঁচটি দল জোটের প্রক্রিয়া শুরু করলেও পরে সেখানে ধর্মভিত্তিক নয়, এমন দলগুলোও যুক্ত হয়।

শেষপর্যন্ত গত সপ্তাহে জানানো হয় ১০ দলের এই নির্বাচনী ঐক্যের কথা যেখানে ইসলামী আন্দোলন যোগ দেয়নি।

তবে নির্বাচনী ঐক্য হওয়ার পর গত একসপ্তাহে দলগুলো ব্যস্ত থেকেছে মূলত আসন ভাগাভাগি নিয়ে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলামপন্থি এবং ইসলামপন্থি নয় এরকম বিভিন্ন দল নিয়ে এই যে জোট গঠিত হলো, তার আদর্শিক ভিত্তি আসলে কী?

এক্ষেত্রে দলগুলো জুলাই স্পিরিটের কথা বলছে।

“আমাদের ঐক্যের সূচনাটা হয় মূলত ঐকমত্য কমিশন থেকে। সেই সময় এই দলগুলোর বক্তব্য ছিল অনেকটা একই রকম। আমরা সবাই সংস্কার চেয়েছি, বিচার চেয়েছি, আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েছি। এই বিষয়গুলোতেই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় থাকা সব দল একমত। কোনো ভেদাভেদ নেই,” বলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও বলেন, এই জোটের ঐক্যে সূত্র হচ্ছে “জুলাই স্পিরিট ধারণ, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রগঠন এবং আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান”।

শরিয়া আইন নিয়ে অবস্থান কী?

ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার কথা যখন উঠেছিল, তখন সেই দলগুলোর কোনো কোনো নেতা ইসলানি বা শরিয়া আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের কথাও বলেছেন।

কিন্তু পরবর্তীকালে এই জোটে এনসিপি, এবি পার্টির মতো ধর্মভিত্তিক নয়, এমন দলগুলোও যুক্ত হয়। ফলে জুলাই সনদে একমত থাকলেও এই জোট শরিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে, নাকি প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই গ্রহণ করবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অবশ্য দাবি করেন, শরিয়া রাষ্ট্র গঠন করা হবে এমন কথা জামায়াত বা অন্য দলগুলো বলছে না।

তিনি বলেন, “ক্ষমতায় গেলে জামায়াত যে ইসলামি রাষ্ট্র করবে এমনটা তারা কিন্তু বলেনি। কারণ তারা সেই জায়গা থেকে বের হয়ে সবগুলো দল মিলে কিন্তু গণতান্ত্রিক জায়গায় এসেছে, জোট করেছে”।

কিন্তু তাহলে ধর্মভিত্তিক দলগুলো কি শরিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদর্শ থেকে বের হয়ে এসেছে?

এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ গত সপ্তাহে ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার আগে এই কারণটিকেই সামনে এনেছিলো ইসলামী আন্দোলন।

যদিও জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলো অবশ্য সেটা নাকচ করছে।

“যার যার আদর্শ, যার যার রাষ্ট্রকল্প, যার যার রাজনৈতিক দর্শন, তার তার কাছে অটুট আছে, অক্ষুণ্ন আছে। আমরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশটাকে সবার আগে ইনসাফের বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে চাই,” বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

ইসলামপন্থি দলগুলো বলছে, তাদের শরিয়া বা ইসলামি আইনভিত্তিক রাষ্ট্রের ধারণা আছে। কিন্তু বাস্তবায়ন তারা হঠাৎ করে করতে চান না। “জনগণকে প্রস্তুত করে ধাপে ধাপে এটা হবে” বলেন মামুনুল হক।

একই রকম কথা বলছে জামায়াতও। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “এখন তো দেশে বিদ্যমান একটা আইন আছে। যে দলই জিতুক, কালকে গিয়েই তো সে সব আইন বদলাতে পারবে না। তার জন্য একটা প্রসিডিউর (প্রক্রিয়া) এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সংসদ লাগবে।

“যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে তাদের মধ্যে একটা মিউচুয়াল আন্ডারস্টান্ডিং দরকার হবে। মানুষের জন্য কল্যাণকর, মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় -এমন সকল বিধান আমরা অ্যালাউ করবো। তো এটাতো ইসলামও অ্যালাউ করে” বলেন মি. পরওয়ার।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার কিষাণহাটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় মো. আরিফ শেখ (৩৯) নামে এক ভুয়া সাংবাদিককে হাতেনাতে আটক করেছে সেনাবাহিনী। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ আইনে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফরিদপুর সেনা ক্যাম্প।

সেনা ক্যাম্প সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের একটি যৌথ দল কিষাণহাট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মো. আরিফ শেখকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নিজেকে ‘দৈনিক ঘোষণা’ পত্রিকার প্রতিনিধি দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। আটক আরিফ শেখ গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোররাতে সেনাবাহিনীর অভিযানে মো. জহির মোল্যা (৪১) নামে আরেক ভুয়া সাংবাদিককে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

সেনা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক জহির মোল্যা ও আরিফ শেখ ফরিদপুরের একটি ভূঁইফোড় সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

 

ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসিবুর রহমান (অপু ঠাকুর)-কে দলীয় সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির দপ্তর সেলের সদস্য মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মো. হাসিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি দলীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এলে তদন্ত ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। অব্যাহতির ফলে মো. হাসিবুর রহমান এখন থেকে দলের কোনো সাংগঠনিক পদে বহাল থাকবেন না এবং দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তার কোনো ভূমিকা থাকবে না।

এ বিষয়ে দলীয় একাধিক নেতা জানান, এনসিপি একটি শৃঙ্খলাভিত্তিক রাজনৈতিক দল। এখানে ব্যক্তির চেয়ে দলের নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কাজ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই দলের অবস্থান।

ফরিদপুর জেলা এনসিপির রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়লেও কেন্দ্রীয় নেতারা আশাবাদী, দ্রুতই সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ করা হবে এবং দলীয় কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাবে।

এদিকে অব্যাহতির বিষয়ে মো. হাসিবুর রহমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে এনসিপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছেন।