সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মহামানব ও মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর জীবন ছিল পবিত্র কোরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে মানবজাতির জন্য আদর্শ হিসেবে পাঠিয়েছেন। কীভাবে উত্তম মানুষ হওয়া যায়, কীভাবে সুন্দর চরিত্র গঠন করা যায় এবং কীভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাতের পথে চলতে হয়—এসব বিষয়ে তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন।
মহান চরিত্রের অধিকারী ছিলেন তিনি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।
’ (সুরা আল-কলম, আয়াত: ৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। খাবার গ্রহণ থেকে শুরু করে শৌচকর্ম, ঘুমানো এবং ঘুম থেকে জেগে ওঠা—সব ক্ষেত্রেই তিনি অনুসরণীয় আদর্শ রেখে গেছেন।
ঘুমানোর আগে কোন আমল করতে হবে, কোন দোয়া পড়তে হবে এবং কীভাবে ঘুমানো উত্তম, তা তিনি শিখিয়েছেন। একইভাবে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের শিক্ষাও দিয়েছেন।ঘুম আল্লাহর নেয়ামত
ঘুম মহান আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত। ঘুমের মাধ্যমে মানুষের শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ দূর হয়। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ঘুমের আগে ও পরে সুন্নতসম্মত আমল করা হলে দৈনন্দিন জীবনেও ইবাদতের চর্চা করা সম্ভব হয়।
রাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমানো এবং ফজরের নামাজের জন্য সময়মতো জেগে ওঠার অভ্যাস করা উচিত। ঘুমের কারণে যেন ফরজ নামাজ ছুটে না যায়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়
ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মুমিনের অন্যতম আমল। ঘুম ও জাগরণ মানুষের জীবনের এমন দুটি অবস্থা, যা আল্লাহর ক্ষমতা ও অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা সুন্নত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জেগে যে দোয়াটি পড়তেন, তা হলো—
আরবি:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা‘দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর মতো নিদ্রার পর জীবিত করেছেন। আর তাঁর কাছেই পুনরুত্থান।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩২৪)
রাতের ঘুম থেকে জেগে যে দোয়া পড়বেন
রাতের ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর জিকির ও দোয়া করারও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর জিকির করার পর কেউ দোয়া করলে তার দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। এরপর অজু করে নামাজ আদায় করলেও তার জন্য বিশেষ ফজিলতের কথা এসেছে।
দোয়াটি হলো—
আরবি:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। আলহামদু লিল্লাহি, ওয়া সুবহানাল্লাহি, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার। ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। আল্লাহুম্মাগফির লি।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সব প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ পবিত্র। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।
ঘুম থেকে ওঠার পর এসব দোয়া পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন তার দিন শুরু করতে পারেন আল্লাহর স্মরণ ও কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। নিয়মিত সুন্নতসম্মত আমল মানুষের জীবনে আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
আপনার মতামত লিখুন