খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ২০ ফাল্গুন, ১৪৩২

‘বিধি নিষেধের সুন্দরবন’

মহসিন উল হাকিম
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
‘বিধি নিষেধের সুন্দরবন’

ফাল্গুন মাসটা এদিকে দারুণ। শীত কেটে হাল্কা গরম পড়ে। বেশ সহনীয় আবহাওয়া। সুন্দরবন থাকে বৃষ্টির অপেক্ষায়। সেই বৃষ্টিও কাল ঝরলো বন উপকূ্লে।

গাছগুলো এবার সতেজ হবে। ফুটবে খলিশা, বলা, কালীলতা। আসবে মধু। সেই মধু খেতে আসতে শুরু করেছে মৌমাছিরা। সরিষা, আম-জামের পর এবার সুন্দরবনে আসছেন উনারা কোটি কোটি, ঝাঁকে ঝাঁকে। গাছে গাছে বসেছে মৌচাক।

এদিকে মৌমাছিদের পেছনে গোয়েন্দাগিরি করছেন মৌয়ালরা। বৃষ্টির পর ফুলে মধু আসে। তখনই ঢুকে পড়েন মৌয়ালরা। বন বিভাগের অনুমতি পেতে পেতে মেই এপ্রিল। কিন্তু মৌমাছিরা কি আর সেই সময় মেনে চলে? তাই মৌয়ালরাও চুরি করে মৌচাক ভাঙা শুরু করবেন শিগগিরি।

দুই মাস বন্ধের পর মার্চ এর প্রথম দিন থেকে কাঁকড়া শিকারের অনুমতি মিলেছে। শিকারীরা মহা ধুমধাম করে কাঁকড় ধরতে গেছেন। কিছুদিনের মধ্যে গোলপাতার নৌকাগুলো ঢুকবে বনে। ওদিকে মাছ শিকার, দুবলার চরের শুঁটকির কারবার চলছে। সব মিলিয়ে এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন বনজীবীরা।

পেটের তাগিদে চলে প্রান্তিক বনজীবীদের বাদা বনের জীবন। ঝুঁকির জীবন জেনেও চলে বনের জীবন। এসময় বাঘ কুমিরে নিতে পারে জীবন। অপহরণ করতে পারে বনদস্যুরা। জানা অজানা আরও বিপদ ওদের সহযাত্রী। তাই প্রতিবারই বনে যাওয়ার সময় এক রকম শেষ বিদায় নেন। ফিরে এসে মনে করেন, নতুন জীবন পেলাম।

সুন্দরবনের মানুষেরা ভালো থাকুক। কালো ছায়াগুলো সরে যাক দ্রুততম সময়ের মধ্যে।

লেখক: সাংবাদিক

রমজানে মানবতার হাত বাড়াল পুনাক, প্রতিদিন ১৫০ অসহায়ের ঘরে পৌঁছাচ্ছে ইফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:০২ পিএম
রমজানে মানবতার হাত বাড়াল পুনাক, প্রতিদিন ১৫০ অসহায়ের ঘরে পৌঁছাচ্ছে ইফতার

পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)। কেন্দ্রীয় পুনাকের সভানেত্রী নাসিমা ফেরদৌসী-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং সমাজ কল্যাণ কমিটির তত্ত্বাবধানে মাসব্যাপী ইফতার বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন অসহায় মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যসম্মত ও ঘরে তৈরি হাতে বানানো ইফতার বিতরণ করা হচ্ছে। ইফতারের প্যাকেটে থাকে খেজুর, ফল, ছোলা, মুড়ি, পিয়াজু, বেগুনি ও পানি—যা পুষ্টিগুণ বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়।

প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে এতিম শিশু, পথশিশু, অনাথ আশ্রমের বাসিন্দা, বৃদ্ধাশ্রমের প্রবীণ, নিম্নআয়ের কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণির সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে ইফতার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা, মসজিদ-মাদ্রাসা, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, বস্তি এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে পুনাকের সমাজ কল্যাণ কমিটির সদস্যরা এই সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

মাসব্যাপী এ কার্যক্রমে সমাজ কল্যাণ কমিটির সম্পাদক মরিয়ম বেগম, সহ-সম্পাদক রেহানা ফেরদৌসী, উম্মে কুলসুমসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। তাদের উপস্থিতিতে সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সম্পাদক মরিয়ম বেগম বলেন, “সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অভাবের কষ্ট লুকিয়ে রাখেন। তারা কারো কাছে সাহায্য চাইতে পারেন না। তাদের সম্মান রক্ষা করেই আমরা এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি। আমাদের লক্ষ্য—কেউ যেন অন্তত ইফতারের সময় ক্ষুধার্ত না থাকেন।”

পুনাকের প্রধান উদ্দেশ্য মানবসেবা। রমজানের এই ইফতার কর্মসূচি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেরই অংশ। সংশ্লিষ্টরা জানান, সমাজের বিত্তবান ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে এ কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

রমজানের পবিত্রতা ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পুনাকের এই মানবিক উদ্যোগ ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

নগরকান্দায় অবৈধ মাটি বাণিজ্য বন্ধে অভিযান, ৮০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
নগরকান্দায় অবৈধ মাটি বাণিজ্য বন্ধে অভিযান, ৮০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় কৃষি ফসলি জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে বিক্রি করার অভিযোগে মো. কামরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার লস্কারদিয়া ইউনিয়নের কল্যাণপট্টি গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা হক তানিয়ার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ভেকু মেশিন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০১০ সালের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কামরুজ্জামানকে ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, কৃষি ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি অপসারণের ফলে জমির উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। এতে শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই নষ্ট হয় না, পাশের জমিতেও ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হয়। স্থানীয় কৃষকেরাও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আবাদযোগ্য জমি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা হক তানিয়া জানান, কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য: কেন দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছেন পুরুষরা?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য: কেন দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছেন পুরুষরা?

বর্তমান সময়ে আশ্চর্যজনকভাবে অনেক পুরুষই দ্রুত অকাল বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। চুল পাকা, ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়া, শক্তি কমে আসা কিংবা শারীরিক সক্ষমতার দ্রুত অবনতি ঘটছে। কেন এমন হচ্ছে, এ প্রশ্নের জবাবে নতুন এক গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে।

চীনের সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল স্কুল-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, তথাকথিত ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ বা পিএফএএস (PFAS) পুরুষদের দ্রুত বুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

কী এই ‘ফরএভার কেমিক্যাল’?

পিএফএএসর পূর্ণরূপ Perfluoroalkyl and Polyfluoroalkyl Substances—এগুলো মানুষের তৈরি একধরনের রাসায়নিক যৌগ। দীর্ঘদিন ধরে ফার্নিচার, নন-স্টিক সামগ্রী, খাদ্য প্যাকেজিংসহ নানা ভোক্তা পণ্যে এগুলোর ব্যবহার হয়ে আসছে।

এসব রাসায়নিককে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ বলা হয়, কারণ এগুলো সহজে পরিবেশে ভেঙে যায় না। প্রাকৃতিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত (রিসাইকেল) হতে এদের দীর্ঘ সময় লাগে, ফলে পরিবেশ ও মানবদেহে জমে থাকার ঝুঁকি থাকে।

এর আগে পিএফএএস-কে হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো নানা জটিল রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলা হয়েছিল। এবার গবেষকরা বলছেন, এসব কেমিক্যাল পুরুষদের জৈবিক বয়স বৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে পারে।

জৈবিক বয়স বনাম ক্যালেন্ডার বয়স

আমরা সাধারণত জন্মতারিখ অনুযায়ী বয়স গণনা করি, এটি হলো ‘ক্রোনোলজিক্যাল এজ’। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে, সেটি হলো ‘বায়োলজিক্যাল এজ’ বা জৈবিক বয়স। এই জৈবিক বয়স নির্ধারিত হয় শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা, কোষের স্বাস্থ্য, মানসিক সক্ষমতা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে। জিনগত বৈশিষ্ট্য, জীবনযাপন পদ্ধতি ও পরিবেশগত উপাদান এই বয়সকে প্রভাবিত করে। জৈবিক বয়স যত বেশি হবে, বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকিও তত বাড়বে।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

এই গবেষণায় ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একটি জরিপে অংশ নেওয়া ৩২৬ জন বয়স্ক নারী-পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে ১১ ধরনের পিএফএএস রাসায়নিকের উপস্থিতি যাচাই করা হয়।

এরপর দেখা হয়, এই রাসায়নিকগুলোর সঙ্গে জৈবিক বয়স বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক আছে কি না। ফলাফলে দেখা যায়, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে পিএফএএস-এর উপস্থিতি জৈবিক বয়স বৃদ্ধির গতি বাড়িয়ে দেয়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি।

গবেষকদের মতে, ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং সচেতনতা বাড়ানো এবং দৈনন্দিন জীবনে এসব কেমিক্যালের সংস্পর্শ কমানোই বেশি জরুরি। গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক জার্নাল ফ্রন্টিয়ার্স ইন এজিং-এ প্রকাশ হয়েছে।

সূত্র : জিও নিউজ