খুঁজুন
সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২৩ চৈত্র, ১৪৩২

১৮ মাসের দায়িত্বে টানলেন ইতি, বিদায়ী ভাষণে জাতির উদ্দেশে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ
১৮ মাসের দায়িত্বে টানলেন ইতি, বিদায়ী ভাষণে জাতির উদ্দেশে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা?

জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

🇧🇩 নির্বাচন ও গণতন্ত্রে নতুন অধ্যায়:

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন সূচনা। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সকল পক্ষের সহযোগিতা এ নির্বাচনকে ঐতিহাসিক করেছে।

তিনি বিজয়ী ও পরাজিত সকল প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রে হার-জিতই সৌন্দর্য। যারা জয়ী হয়েছেন তারা যেমন জনগণের আস্থা পেয়েছেন, তেমনি যারা জয়ী হননি তারাও উল্লেখযোগ্য সমর্থন অর্জন করেছেন।”

⚖️ তিন অঙ্গীকার:

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের সংকটময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে—সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন।
তিনি বলেন, প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করা হয়েছে প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছে যার ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত
তিনি দাবি করেন, এসব পদক্ষেপ নাগরিক অধিকার, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করেছে।

🚨 আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার:

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনর্গঠনের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “একসময় থানাগুলো ছিল জনশূন্য, মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করত। এখন সেই অবস্থা বদলেছে।”
তিনি আরও বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

👩 নারী ও শিশুর সুরক্ষায় উদ্যোগ:

নারীর ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “নারীর অগ্রযাত্রা ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”

💰 অর্থনীতি: সংকট থেকে উত্তরণ:

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। ব্যাংকিং খাত দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং অর্থপাচার ছিল ব্যাপক। তিনি জানান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে তিনি প্রবাসীদের অবদানকে “অর্থনীতির প্রাণশক্তি” হিসেবে উল্লেখ করেন।

🌍 পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক:

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে না। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে এবং সমাধানের প্রচেষ্টা চলছে।

🛡️ প্রতিরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি:

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

🚀 সম্ভাবনার বাংলাদেশ:

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বলেন, “বাংলাদেশ এখন শুধু সংকট কাটিয়ে ওঠার গল্প নয়, এটি সম্ভাবনার দেশ।” তিনি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং সততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

📜 জুলাই সনদ: বড় অর্জন:

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় অর্জন হলো “জুলাই সনদ”, যা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। তার মতে, “এই সনদ বাস্তবায়িত হলে স্বৈরাচারের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।”

🕊️ আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা:

গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “তাদের আত্মত্যাগের কারণেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।” তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

🏛️ গণভবন হবে স্মৃতি জাদুঘর:

তিনি ঘোষণা দেন, পলাতক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনকে “জাতীয় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর” হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস জানতে পারে।

🤝 ঐক্যের আহ্বান:

বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার যে চর্চা শুরু হয়েছে তা যেন অব্যাহত থাকে।” তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

🙏 বিদায়ের মুহূর্ত:

সবশেষে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।” এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন এবং নতুন সরকারের জন্য শুভকামনা জানান।

পর্নো সাইটে নিজের আপত্তিকর ছবি দেখে যে কারণে চমকেছিলেন জাহ্নবী?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
পর্নো সাইটে নিজের আপত্তিকর ছবি দেখে যে কারণে চমকেছিলেন জাহ্নবী?

বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর কিশোর বয়সে ভীতিকর এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে পর্নো সাইটে নিজের আপত্তিকর ছবি দেখতে পান। শুরুতে বিষয়টিকে অনলাইনের অংশ হিসেবেই মেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এই ঘটনা তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।

কয়েক দিন আগে রাজ শামানির পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছিলেন তিনি। জাহ্নবী কাপুর সরাসরি জানান তিনি ঠিক জানেন না এটা ডিপফেক হতে পারে তবে তেমন কিছুই ছিল এবং তিনি একটি পর্নো সাইটে তার একটি ছবি দেখেছিলেন।

ঘটনাটি জাহ্নবীর স্কুলে আইটি ক্লাসে ঘটেছিল। তার ভাষ্যমতে তাদের স্কুলে আইটি ক্লাস ছিল। ছেলেরা মজা করার জন্য এসব সাইটে যেত এবং সেখানে তার ছবিও ছিল। আর এটা স্কুলেই ঘটেছিল তাই এটি খুব ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ছিল।

তারপরও বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন জাহ্নবী। তা জানিয়ে তিনি বলেন একটা সময় তিনি ভেবেছিলেন এর মূল্য তাকে দিতে হবে কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে কোনো নৈতিকতা থাকে না।

এখন জাহ্নবীর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি এই ধরনের ছবি এখনো তাকে প্রভাবিত করে। জাহ্নবী কাপুর জানান এটা নিয়ে তিনি শান্তিতে নেই। তার এমন কিছু ছবি বাইরে ঘুরছে এমনকি অফিশিয়াল সংবাদমাধ্যমেও শেয়ার করা হচ্ছে যেগুলো পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে বানানো। তিনি কখনো ওই ধরনের পোশাক পরেননি বা ওইভাবে ছবিও তোলেননি।

এসব ছবি জাহ্নবীর ওপরে কীভাবে প্রভাব ফেলছে তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন এসব এমনভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয় যেন এগুলো তিনি প্রকাশ করেছেন। এতে নির্দিষ্ট একটা ধারণা তৈরি হয়। আগামীকাল যদি কোনো পরিচালককে তিনি বলেন যে তিনি কিছু পোশাক পরতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন না তখন কেউ ওই ছবিগুলো দেখিয়ে বলতে পারে তিনি তো আগে এটা করেছেন। তারা না বললেও এটা মনে প্রশ্ন জাগাবে।

বিষয়টি জাহ্নবী কাপুরকে কষ্ট দেয়। তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি সামলানোর উপায়ও খুঁজে পেয়েছেন। তিনি বলেন তার মনে হয় না অভিযোগ করার মতো খুব শক্তিশালী কণ্ঠ তার আছে। একটা মানসিকতা আছে যে তার জীবনে এত কিছু আছে তাই একটু সহ্য করা উচিত এবং অভিযোগ করা উচিত নয়। তাই তিনি মনে করেন না তার কণ্ঠের তেমন কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা আছে। এর বিরুদ্ধে কথা বললে প্রতিক্রিয়া আসবে আর সেটা হয়তো মূল সমস্যাটাকেই আড়াল করে দেবে।

‘ধড়ক’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন জাহ্নবী। এরপর ‘রুহি’ ‘গুঞ্জন সাক্সেনা দ্য কার্গিল গার্ল’ ‘ঘোস্ট স্টোরিজ’ ও ‘পরম সুন্দরী’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। দক্ষিণী সিনেমায়ও অভিষেক হয়েছে তার। ‘দেবারা’ শিরোনামের এই সিনেমায় নায়ক হিসেবে পেয়েছেন জুনিয়র এনটিআরকে।

জাহ্নবী কাপুর অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘সানি সংস্কারি কি তুলসি কুমারী’। সিনেমাটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন বরুণ ধাওয়ান। জাহ্নবীর পরবর্তী সিনেমা ‘পেদ্দি’। সিনেমাটিতে রাম চরণের বিপরীতে অভিনয় করছেন এই অভিনেত্রী। তেলেগু ভাষার এই সিনেমা পরিচালনা করছেন বুচি বাবু সানা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩০ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এটি।

সূত্র : কালবেলা

গুম প্রতিরোধ, বিচার ব্যবস্থা সংস্কারসহ ২০ অধ্যাদেশ নিয়ে বিএনপির আপত্তি কেন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ পূর্বাহ্ণ
গুম প্রতিরোধ, বিচার ব্যবস্থা সংস্কারসহ ২০ অধ্যাদেশ নিয়ে বিএনপির আপত্তি কেন?

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে জাতীয় সংসদে বিল আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। বাকি ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। আর ২০টি অধ্যাদেশ আপাতত আর আইনে রূপান্তর হচ্ছে না।

গত বৃহস্পতিবার সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সুপারিশ প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন।

সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যে ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালীকরণ, দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের আলাদা সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগের মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও আইনজীবীরা বলছেন, যে ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে, তাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগ হোঁচট খাবে।

এর বিপরীতে, ওইগুলো আইনে পরিণত করলে একদিকে যেমন জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেতো, অন্যদিকে গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতিসহ বাড়তো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।

যদিও বিএনপি দাবি করছে, যে অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বিশেষ কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই করা হয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ও ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সদস্য ইফতেখারুজ্জামান মনে করছেন, আমলাতন্ত্রের পরামর্শ অনুযায়ীই বর্তমান সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে চাইছে না। এর ফলে জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটা থমকে যাবে।

বিশেষ কমিটির সভাপতি ও বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীন বলেছেন, “আমাদের বিশেষ কমিটির তিনটি মিটিং হয়েছে, সেখানে বিরোধী দলেরও সদস্য রয়েছেন। সেখানে সবগুলো অধ্যাদেশ ভালভাবে আলাপ আলোচনা করেই এই সুপারিশ করা হয়েছে”।

ভবিষ্যতে যাচাই বাছাই করে এসব বিষয় আবার বিল আকারে আনা হতে পারে বলেও তিনি বলছেন।

কমিটির বিভিন্ন বৈঠক ও সদস্যদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে বিরোধী দল ছাড়াও ওই কমিটিতে থাকা সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্যও শুরুতে কমিটির কাছে আপত্তি বা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন, যদিও পরে তা প্রত্যাহার করেন।

গুম প্রতিরোধে অধ্যাদেশের কী হবে?

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিএনপির অনেক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছিলেন। এছাড়াও জামায়াতসহ ভিন্নমত দমনে বিগত সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুম খুনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগও উঠেছিল।

যে কারণে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুমের তদন্তে আলাদা কমিশন গঠন করে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে গুম প্রতিরোধে প্রথমবারের মতো একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

গুম থেকে সব ব্যক্তিকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের আইনি কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

এতে গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এর সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

তবে ওই বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারিকৃত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫’টি বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করেনি। এর ফলে এই অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারাবে।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে সরকারের আপত্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আটককে গুমের সংজ্ঞা থেকে বাদ দিতে হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তে সরকারের পূর্ব অনুমতি নিতে হবে।

বিরোধী দল এতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। তারা বলেছেন, যে কারণেই কোনো সংস্থা, বাহিনী কাউকে আটক করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের সামনে উপস্থাপন না করলে, তা সংবিধানের লঙ্ঘন।

বিশেষ কমিটি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশটি সম্পর্কে মতামতে বলেছে, ‘গুম একটি সংবেদনশীল অপরাধ। এর সঙ্গে সরকারের শৃঙ্খলা-বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায় সম্পৃক্ত’। তাই অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর না করে সংশোধনসহ নতুন আইন করার মতামত দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

গুম সংক্রান্ত এই অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে সরকারের আইন মন্ত্রণালয় যে আপত্তি জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে খোদ বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও কমিটির সদস্য নওশাদ জমির নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। এর পেছনে তার যুক্তিও তিনি তুলে ধরেছেন বিশেষ কমিটির কাছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, “বিগত সরকারের শাসনামলে সবচেয়ে বেশি গুমের স্বীকার হয়েছে বিএনপি। এই অধ্যাদেশে বিতর্কিত কিছু থাকলে সেটি সংশোধনী আকারে উপস্থাপন করা যেতো”।

এর পেছনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও আমলাতন্ত্রের ইশারাকে দায়ী হিসেবে দেখছেন ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেছেন, “যে অধ্যাদেশগুলো বাদ দেওয়া বা রিভিউয়ের নামে ফেলে দেওয়ার পায়তারা চলছে বা কমিটি থেকে এই ধরনের সুপারিশ এসেছে সেগুলো আমলাতন্ত্রের পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে। এখানে মূল প্রতিরোধক শক্তি হচ্ছে আমলাতন্ত্র”।

বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, “আমরা মনে করি যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেগুলো সংসদে আলাপ আলোচনা করে নির্ধারিত করা ভাল”।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় থেকে শুরু করে বিচার বিভাগের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ ছিল।

যে কারণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে সামনে আসে।

অধ্যাপক ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ জারি করে।

এতে বলা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র এই কাউন্সিল যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি বরাবর সুপারিশ করবে।

এছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারকের নিয়োগ বা বদলির জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে এসব বিচারকদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পুরোপুরিভাবে সুপ্রিম কোর্টের কাছে যেত, যা বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয় করে থাকে। এই অধ্যাদেশটিও কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

আইনজীবীরা বলছেন, এই আইন থাকলে অধিকতর যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ বাড়ে; কিন্তু বর্তমান সরকার এই অধ্যাদেশ অনুমোদন করছে না। ফলে নতুন আইন না হওয়া পর্যন্ত বিচারক নিয়োগ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল মনে করেন, এই অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ার ফলে একদিকে যেমন দেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, অন্যদিকে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির যে কমিটমেন্ট ছিল তাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

তিনি বলছেন, “এই অধ্যাদেশে কোনো দুর্বলতা বা ঘাটতি থাকলে সরকার সেটি সংশোধনের কথা বলতে পারত। সেসব না করে পুরোপুরি আইনটি বাতিল করা কোন সমাধান নয়”।

যদিও সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলছেন, “এমন অনেক আইন আছে সেগুলো সংবিধানের মূল আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। সেই জিনিসগুলো পার্লামেন্টে বিল আকারে আসবে। সেগুলো আমরা পরীক্ষা করবো, পার্লামেন্টে আলোচনার পর সেগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে”।

মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতার প্রশ্ন

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। সেই সময় বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছিল।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। সংস্থাটিকে প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও কার্যকর করতে কিছু মৌলিক পরিবর্তন এনে অধ্যাদেশ করেই জারি করা হয়েছিল অধ্যাদেশ।

এতে মানবাধিকার কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে গুম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তসহ ব্যাপক ক্ষমতা পেয়েছিল।

এছাড়া মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়োগ সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে সার্চ কমিটির বিধান করা হয়। সরকার চাইলেই যাতে সরিয়ে দিতে না পারে, সে জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ পদ্ধতিতে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে অপসারণের বিধান করা হয়েছিল।

কিন্তু সরকার যে ১৬টি বিল এখনই সংসদে বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে এই বিলটিও বেশ আলোচিত।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ও ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন স্বাধীন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না গেলে সেটি এখন আবার ব্যাকফায়ার করবে। যেটি হবে সরকারের জন্য আত্মঘাতী। এটি হয়তো বর্তমান ক্ষমতাসীনরা ভূলে গেছে”।

বিশেষ কমিটি মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশটিও বিল আকারে সংসদের উপস্থাপনের পক্ষে ছিল জামায়াতে ইসলামী। যে কারণে বিশেষ কমিটির এই সিদ্ধান্তে জামায়াত এমপিরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।

এর বাইরেও বিএনপির এমপি ও কমিটির সদস্য নওশাদ জমিরও নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। সেখানে আইন মন্ত্রণালয়ের আপত্তিগুলোর পক্ষে বিপক্ষে দুই ধরনের মতামতও দিয়েছেন মি. জমির।

সেখানে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনাগুলোর অসঙ্গতিও তিনি তুলে ধরেছেন তার নোট অব ডিসেন্টে।

১৫টিতে সংশোধন, কার্যকারিতা হারাচ্ছে ২০টি

বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।

গত ১২ই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, ১০ই এপ্রিলের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো সংসদ অনুমোদন না করলে সেটা কার্যকারিতা হারাবে।

সংসদের প্রথম দিনই বিএনপি নেতা ও বরিশাল- ৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনকে সভাপতি করে ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য। যেই কমিটির ১০ সদস্য বিএনপির এবং বাকি তিনজন জামায়াতে ইসলামীর।

সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনই অধ্যাদেশগুলো যাচাই–বাছাই করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১১৩টি অনুমোদনের সুপারিশ করে।

এর মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল করা এবং ১৬টি এখনই সংসদে বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

এই ১৬টি পরবর্তী সময়ে যাচাই–বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ এই ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত দুটি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত তিনটি, গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত দুটি, দুদক সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ। এছাড়া আছে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ।

আগামী সোমবার থেকে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের কার্যক্রম শুরু করবে জাতীয় সংসদ। যেসব অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হচ্ছে, সেগুলোর পাশাপাশি যে চারটি রহিত করা হবে, সেগুলোও বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।

রোববার থেকে আবার অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এই অধিবেশনে বিল আনা হবে ১১৭টি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিল উত্থাপনের পর এখানে সংশোধনী প্রস্তাব দিয়ে আলোচনা করবেন। এই আলোচনায় অংশ নেবেন বিরোধী দলের সদস্যরাও।

তবে, তাঁদের সংশোধনী গ্রহণ করা হবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকারের ইচ্ছার ওপর।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

জনপ্রিয়তার চাপে তাইজুল, মিলছে না অবসর, ঘুম-আরাম সব উধাও

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
জনপ্রিয়তার চাপে তাইজুল, মিলছে না অবসর, ঘুম-আরাম সব উধাও

স্বাধীনতা দিবসে জিলাপি বিক্রির ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাইজুল ইসলাম। এরপর থেকে বিভিন্ন মিডিয়ায় তাকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। 

প্রতিদিন তার বাড়িতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছে উৎসুক জনতা। কেউ সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন, আবার পারিবারিক অসচ্ছলতা দেখে কেউ কেউ দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এসব প্রতিশ্রুতি ও টানা সাক্ষাৎকার দিতে দিতে তাইজুলের এখন দিশেহারা অবস্থা। দিনের স্বাভাবিক কাজ করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাইজুল জানান, প্রতিদিন এত মিডিয়া ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আসে যে নিজের কাজ কিছুই করতে পারছি না। ঠিকমতো বিশ্রাম নিতেও পারছি না।

নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর ইউনিয়নের ঢাকডহর সরকার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম তাজু। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির হেলপার। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তাইজুল সবার বড়। বাবা ও মা শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তাই তার আয়েই চলে পুরো সংসার। বাড়িভিটা না থাকায় অন্যের জমিতে দুটো টিনের ঘর তুলে গাদাগাদি করে থাকতে হয় তাদের।

গত দেড় বছরে প্রায় ১৪০টি ভিডিও করেছেন বলে জানান তাইজুল। তার তাজু ২.০ নামের ফেসবুক পেজটিতে ফলোয়ারের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার। ভাইরাল হওয়ার পর এখন প্রায় ১ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মিডিয়ায় আলোচিত হওয়ার পর থেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন তাইজুল। সবাই এসে নানা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে। অনেকে আবার উপঢৌকন নিয়ে এসে রিলস বানায়। তাদের কিছুই বলতে পারছেন না তাইজুল। বাধ্য হয়ে তাদের সঙ্গে ভিডিও করছেন।

তাইজুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের পাশে একটি জিলাপির দোকানে গিয়ে ভিডিও করেছিলাম। সেই ভিডিওটা দিয়েই আমি প্রথম ভাইরাল হই। কেউ ভিডিওটি বিনোদন হিসেবে প্রশংসা করেন, কেউবা ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন। তবে ভিডিওটি প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষ দেখেন। এরপর থেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছি।

সূত্র : যুগান্তর