খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৯ মাঘ, ১৪৩২

জাল ভোট দিলে কী শাস্তি? জানুন নির্বাচনী আইন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৫ এএম
জাল ভোট দিলে কী শাস্তি? জানুন নির্বাচনী আইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে একটি নয়, দিতে হবে দুটি ভোট। সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার পাশাপাশি ভোটাররা দেবেন গণভোটও। নির্বাচনী ব্যালটে যেখানে বিভিন্ন দলের প্রতীক থাকে, সেখানে গণভোটে থাকবে দুটি অপশন। ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের মত জানাবেন।

ভোট একজন নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। একটি সিল বা বোতাম চাপার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় দেশের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা। কিন্তু সেই ভোট যদি প্রকৃত ভোটারের পরিবর্তে অন্য কেউ দেয়, অথবা চাপ প্রয়োগ করে আদায় করা হয়, তখনই তা জালভোটে পরিণত হয়। বাংলাদেশের নির্বাচনকে ঘিরে এই বিষয়টি বহুবার আলোচনায় এসেছে, সৃষ্টি করেছে বিতর্ক এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

জালভোট কী?

জালভোট বলতে এমন ভোটকে বোঝায়, যা প্রকৃত ভোটার নিজে স্বেচ্ছায় দেননি। যেমন—কোনো ব্যক্তি অন্যের নাম ব্যবহার করে ভোট দিয়ে দেওয়া, ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত না থাকলেও তার নামে ব্যালট বা ইভিএমে ভোট পড়ে যাওয়া, ভয়ভীতি দেখিয়ে বা জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা, কিংবা একজনের একাধিকবার ভোট দেওয়া। অর্থাৎ যেখানে ভোটারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত থাকে না, সেখানেই জালভোটের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে জালভোটের অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ভোটার কেন্দ্রে না গেলেও তার নামে ভোট পড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সকালবেলাতেই কিছু কেন্দ্রে ‘ভোট শেষ’ হওয়ার মতো অভিযোগ শোনা গেছে।

কিছু ক্ষেত্রে কোনো একটি পক্ষ ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। তখন সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ পান না, তাদের আগেই বিপুলসংখ্যক ভোট দেওয়া হয়ে যায়। অনেক সময় হামলা, হুমকি বা সামাজিক চাপের কারণে ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে ভয় পান। এতে প্রকৃত ভোটার অনুপস্থিত থাকায় জালভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এমনকি মৃত ব্যক্তির নামেও ভোট পড়ে যাওয়ার অভিযোগ বহুবার সামনে এসেছে। ভোটকেন্দ্রে বিরোধী দলের এজেন্ট বা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক না থাকলে এ ধরনের অভিযোগ আরও বাড়ে।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে জালভোটের অভিযোগ শোনা গেছে। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের পর নির্বাচন ঘিরে এ বিতর্ক আরও বেশি আলোচনায় আসে। কোথাও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আবার কোথাও ভোট শুরুর আগেই অধিকাংশ ভোট পড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সাধারণ মানুষের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে অনাস্থা তৈরি করেছে।

জালভোট হলে তার প্রভাব পড়ে শুধু নির্বাচনে নয়, ব্যক্তি থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তরে। এটি কেবল একটি অনিয়ম নয়, বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। প্রকৃত ভোটের প্রতিফলন না ঘটলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে, মানুষের শাসনের ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ভোটারদের আগ্রহ কমে যায়, কারণ আস্থা হারালে মানুষ ভোট দিতে অনীহা দেখায়। পাশাপাশি জালভোটের অভিযোগ ঘিরে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাও বাড়তে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও মানুষের বিশ্বাস কমে যায়।

জালভোট ঠেকাতে দেশে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভুয়া ভোটার শনাক্তে ছবি ও তথ্যসম্বলিত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। একাধিকবার ভোট দেওয়া কঠিন করতে কাগজের ব্যালটের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালু করা হয়েছে।

জালভোট দেওয়ার আইন ও শাস্তি সম্পর্কে জানেন কি?

নির্বাচনী আইনে জালভোটকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, শুধু আইন বা প্রযুক্তি থাকলেই সমস্যার সমাধান হয় না; বড় চ্যালেঞ্জ হলো সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২–এর ৭৩ থেকে ৮৭ ধারায় ভোটকেন্দ্র এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ ও তার শাস্তির বিধান উল্লেখ রয়েছে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে বেআইনি আচরণ বা অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া অনধিকার প্রবেশের অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। ভোটের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধের ধরন বিবেচনা করে শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে, (১) যদি কোনো ব্যক্তি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনে সুবিধা প্রদান বা বাধাগ্রস্ত করিবার উদ্দেশ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করেন বা সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করেন।

(২) ভোট দেওয়ার যোগ্য নন বা অযোগ্য জানা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।

(৩) একই ভোটকেন্দ্রে একাধিকবার ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।

(৪) একই নির্বাচনে একাধিক ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান। (৫) ভোট চলাকালে কোনো ভোটকেন্দ্র হতে ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলেন।

অথবা (৬) জ্ঞাতসারে এসব কাজ করার জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন বা তার সাহায্য চান-তাহলে তিনি বেআইনি কাজের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং তিনি সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডে ও অর্থদন্ডে দণ্ডিত হবেন।

ভোটার হিসেবে ব্যক্তিগত দায়িত্বও কম নয়। জালভোট ঠেকাতে শুধু রাষ্ট্র বা নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; ভোটারদেরও সচেতন হতে হবে। নিয়ম মেনে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া, কোনো অনিয়ম দেখলে তা নিয়ে প্রতিবাদ করা এবং নিজের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা—এসব বিষয় সমানভাবে জরুরি।

জালভোট কেবল ভোট কারচুপি নয়, এটি মানুষের কণ্ঠস্বর কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা। বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার অন্যতম শর্ত। জালভোটের অভিযোগ যতদিন থাকবে, ততদিন নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে—এটি কি সত্যিই জনগণের রায়, নাকি ক্ষমতার প্রভাব?

আজ একই দিনে ভোট ও গণভোট, ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫২ এএম
আজ একই দিনে ভোট ও গণভোট, ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশ

নানা আলোচনা ও জল্পনার পর আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় নির্বাচনের পর এই নির্বাচন কবে হবে, কিংবা আদৌ হবে কী-না এ নিয়ে নানা প্রশ্নও ছিল।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটেও ভোট দিবেন দেশের প্রায় পৌনে তেরো কোটি ভোটার।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আগামী নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন আখ্যা দিয়ে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেছেন, “আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারবো”।

নির্বাচনের কয়েকদিন আগে শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ওইআসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। এতে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে লড়বেন ১৭৫৫জন প্রার্থী।

২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া। যে কারণে ভোটার উপস্থিতি নিয়েও এক ধরনের শঙ্কা দেখা গিয়েছিল।

তবে, এবারের নির্বাচনে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আরো দুইদিন সরকারি ছুটি থাকায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ভিড় ঠেলে অনেককে বাড়ি যেতে দেখা গেছে; আমেজ ছিল অনেকটা ঈদ উৎসবের মতোই।

আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া ভোট হলেও বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে সারাদেশে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের বেশিরভাগই অংশ নিতে পারেনি। যে কারণে এবারের নির্বাচন ঘিরে মানুষের আগ্রহও অনেক বেশি।

তবে, তারা এটিও বলছেন যে, যদি এই নির্বাচন নিয়েও কোনো প্রশ্ন তৈরি হয় তা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য সংকট আরো বাড়াবে।

বহুল প্রত্যাশিত সংসদ নির্বাচন

বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র দুই বছর আগে ২০২৪ সালের সাতই জানুয়ারি। এর মাত্র দুই বছরের মাথায় আরো একটি সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।

গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের তিনদিনের মাথায় চব্বিশের আটই অগাস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এর কয়েক মাসের মাথায়ই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায় বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

এ নিয়ে বিএনপি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে টানাপোড়েনের মধ্যে গত বছরের জুনে লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠক হয় তারেক রহমানের।

এরপরই নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটে। ২০২৫ সালের পাঁচই অগাস্ট জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা হয়।

এই ঘোষণার পরও নির্বাচন হবে কী-না সেই প্রশ্ন ছিল দেশের সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন জায়গায়।

গত বছরের ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। তফসিল ঘোষণার পরেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে নির্বাচন নিয়ে যে অভিজ্ঞতা তা থেকে ভোটাররা অনেকটাই নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে এবারের সংসদ নির্বাচনটা ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছরে মাত্র তিনটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। ২০০১ সালের পর আর সব নির্বাচন নিয়েই ছিল নানা প্রশ্ন। এমন অবস্থায় এই সরকারকে আমরা যদি নিরপেক্ষ হিসেবে ধরি এই নির্বাচনটি ভাল হতে হবে”।

যে কারণে ভোটের আগের দিন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, এবারের নির্বাচনটি ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোট দিতে ভোটারদের অনুরোধও জানান তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে তরুণ ভোটাররা

এবারের নির্বাচনে পৌনে তেরো কোটিরও বেশি ভোটার। ভোটারদের বড় একটি অংশই এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, পৌনে তেরো কোটি ভোটারের মধ্যে ৪ কোটি ৯০ লাখ ভোটারই তরুণ ভোটার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন এই তরুণ ভোটাররা।

ইসির তথ্য বলছে, এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯ টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি।

৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোট নেবেন। এদের প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন, পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।

এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক ও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন।

২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করছে। দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এরমধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ভোটের পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন।

নিরাপত্তায় নয় লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ভোট চলবে বিকেলে সাড়ে চারটা পর্যন্ত। এবার একই দিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় ফলাফলে দেরি হতে পারে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে সারাদেশের ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশের ওপরে ভোটকেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এবার নির্বাচনের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করে সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।

এই নির্বাচনে ভোটের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে ৯ লাখেরও বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখ ৩ হাজার, নৌ বাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার, আর বিমান বাহিনীর তিন হাজার ৫০০ সদস্য।

যে সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, যে সব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে বাড়তি পুলিশ, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরাও থাকবে।

কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছানোর পরই ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতের যাবতীয় কাজ শেষ করবেন প্রিসাইডিং অফিসার ও দায়িত্ব পালনকারী অন্য কর্মকর্তারা। তাদের সার্বিক নিরাপত্তা দিবে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি।।

বুধবার ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “একটি শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারের সহায়তায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে”।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট শেষে পোলিং কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সামনেই গণনা করা হবে ভোটের ফলাফল।

ভোট গণনা শেষে ফলাফল হবে কখন?

অতীতের যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে এবারে ভোটার সংখ্যা অনেক বেশি। অন্যদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নির্বাচনের দিনই গোলাপি ব্যালটে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট।

একই দিনে দুইটি ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হবে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার ও দেশের সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কারণে সেই ব্যালটও গণনা করতে হবে ইসিকে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আলাদা করে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল গণনা করা হবে পোলিং এজেন্টদের সামনেই।

দুইটি ব্যালট আলাদাভাবে গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক রেজাল্ট শিট প্রস্তুত করা হবে। পরে সেই ভোটের ফলাফল কেন্দ্রেই টানিয়ে দেবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

কেন্দ্রের রেজাল্টের আরেকটি কপি প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিজের কাছে রাখবেন, আরেকটি সেট তিনি নির্দিষ্ট খামে পাঠিয়ে দেবেন নির্বাচন কমিশনে।

আর যে সব ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন সেটি থাকবে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে। ১২ই ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে যে সব ব্যালট রিটার্নিং অফিসে জমা হবে সেগুলোও রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর এজেন্টদের সামনে গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

পরে গণনা শেষে কেন্দ্রের ফলাফল ও পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল একত্রিত করে আসনভিত্তিক চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করে তা ঘোষণা দিবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সেই ফলাফল নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে একেক করে আসনভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, এবার দুইটি ভোট একদিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় সময় লাগবে বেশি।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ধারণা দিচ্ছেন বৃহস্পতিবার ভোট শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

পানি বিশুদ্ধকরণ ছাড়াও ফিটকিরির যে অজানা উপকারিতা জানলে অবাক আপনি হবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৮ এএম
পানি বিশুদ্ধকরণ ছাড়াও ফিটকিরির যে অজানা উপকারিতা জানলে অবাক আপনি হবেন?

ফিটকিরি নামটি শুনলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে পানি পরিষ্কার করার কথা। তবে জানলে অবাক হবেন, এই সহজলভ্য উপাদানটির ব্যবহার শুধু পানি পরিশোধনেই সীমাবদ্ধ নয়। ত্বক ও মুখের যত্ন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ছোটখাটো সমস্যার সমাধানেও ফিটকিরি ব্যবহার করা হয়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ফিটকিরির কয়েকটি পরিচিত ব্যবহার

ব্রণ শুকাতে

ত্বকের ব্রণের ওপর হালকা করে ফিটকিরি ঘষে নিলে ব্রণ দ্রুত শুকাতে সহায়তা করতে পারে।

তবে ব্যবহারের আগে ত্বকের সংবেদনশীলতা যাচাই করা ভালো।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে

পানিতে অল্প পরিমাণ ফিটকিরি মিশিয়ে কুলকুচি করলে মুখের জীবাণু কমাতে এবং দুর্গন্ধ দূর করতে সহায়ক হতে পারে।

মুখের ঘা শুকাতে

মুখের ভেতরে ঘা হলে আক্রান্ত স্থানে সামান্য ফিটকিরি লাগানো যেতে পারে। প্রথমে কিছুটা জ্বালাপোড়া অনুভূত হলেও ঘা দ্রুত শুকাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে ব্যবহারের সময় লালা গিলে না ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ত্বকের যত্নে

ত্বকে বয়সের ছাপ কমাতে অনেকে রাতে হালকা করে ফিটকিরি ঘষে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেন। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ থাকতে পারে।

উকুন দূর করতে

ফিটকিরি গুঁড়োর সঙ্গে পানি মিশিয়ে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিলে উকুন কমাতে সহায়ক হতে পারে।

পায়ের শিরায় টান ধরলে

ফিটকিরির গুঁড়ো, হলুদ ও পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্যথার স্থানে লাগালে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে।

 ফিটকিরি ব্যবহারের আগে ত্বকের একটি ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক বা সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। কোনো সমস্যা গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কী সেলফি তোলা যাবে? জানুন নিয়ম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪৪ এএম
ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কী সেলফি তোলা যাবে? জানুন নিয়ম

আজ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এবার ভোটারদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটও দিতে হবে। এদিকে, এবার ভোটগ্রহণের সময়ও এগিয়ে আনা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে আরও এক ঘণ্টা।

বহুল কাঙ্ক্ষিত এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে আর ৭ ঘণ্টারও কম সময় হাতে রয়েছে। এরই মাঝে গুগল ও স্যোশাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, নির্বাচনে ঘিরে নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মানুষ। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য একটি প্রশ্ন হলো, ভোটকেন্দ্রে ছবি বা সেলফি তোলা যাবে কি না।

চলুন তাহলে জেনে নিই, ভোট কেন্দ্রে ছবি বা সেলফি তোলা প্রসঙ্গে কী আছে নির্বাচন কমিশনের বিধিতে—

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়ার ওপর নির্বাচন কমিশন প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তীব্র সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

পরে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট এবং সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবে এবং ছবিও তোলা যাবে। কিন্তু কোনোভাবেই গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা বা ছবি তোলা যাবে না।

অর্থাৎ ভোটাররা বুথের যে গোপন কক্ষে ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন, সেখানে মোবাইল নিয়ে যাওয়া ও ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ছবি বা সেলফি তোলার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, দেশের নিবন্ধিত ৫৯ টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১ টি দল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫১ দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে এবারের নির্বাচনে। সারাদেশের আসনভিত্তিক যে ভোটার তালিকা ইসি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে, এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার এবং নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার। এছাড়া হিজড়া ভোটার এক হাজার ১২০ জন।