খুঁজুন
, ,

যুদ্ধের কালো ছায়া : মানবতার অশ্রু

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
যুদ্ধের কালো ছায়া : মানবতার অশ্রু

পৃথিবীর ইতিহাসে যত যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, সেখানে কেউই আসলে পরাজিত কিংবা বিজয়ী হয়নি! বরং প্রতিটি যুদ্ধেই মানবতা চরমভাবে পরাজিত হয়েছে।

ইতিহাসের পাতায় আমরা বহু যোদ্ধার বীরত্বগাথা ভূমিকা দেখতে পাই। যুগ যুগ ধরে সাহিত্য, লোকগীতি, মঞ্চনাটক ও কবিতায় যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অবদানকে গৌরবান্বিত করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, যুদ্ধের এ গৌরবান্বিত ধারণাটি যুদ্ধের এক ভয়াল ও অন্ধকার সত্যকে আড়াল করেছে।

এ সত্যটি হলো, যুদ্ধ সর্বদাই মানবতার জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। বীরত্বের স্তুতিনামা বরাবরই নিরীহ মানুষের মৃত্যু, ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী, বিবর্ণ জনপদ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়।

যুদ্ধের পক্ষে যে কোনো যুক্তির ঊর্ধ্বে এটি ধ্বংস, যন্ত্রণা ও বর্বরতার প্রতীক।একেকটি যুদ্ধ মানবজাতিকে কোটি কোটি মানুষের লাশ ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। এসব যুদ্ধে যোদ্ধাদের যত বড় বীরত্বের গল্পই থাকুক না কেন, যুদ্ধগুলো মানবজাতিকে ইতিবাচক কিছু দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের ধারণা প্রায়ই সহিংসতাকে স্বাভাবিক হিসাবে তুলে ধরে। কিন্তু সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণই মানবজাতির জন্য ভয়াবহ ও দুর্বিষহ ভবিষ্যৎকে ত্বরান্বিত করে।

যখন বীরত্বের খোলসে সহিংস আচরণ, বর্বর হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলার তারিফ করা হয়, তখন তা পরবর্তী প্রজন্মকে অমানবিক বীরত্বের জন্য উৎসাহিত করে। যখন হত্যাকা- সাহসিকতার সমার্থক হয়ে ওঠে, তখন এটি মানবজীবনের পবিত্রতাকে কলুষিত করে। যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতাকে আড়াল করে সৈনিক কৃর্তক হত্যাকা-ের তারিফ করার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল স্বরূপ পৃথিবীতে সংঘটিত হচ্ছে এত যুদ্ধবিগ্রহ ও প্রাণহানি।

যদিও বাহ্যিকভাবে আমরা দেখি, যুদ্ধে একদল বিজয়ী ও অন্যপক্ষ পরাজিত হয়েছে। যদি প্রশ্ন করা হয়, এ বিজয় কিসের বিনিময়ে? উত্তর হচ্ছে-অসংখ্য মানুষের মৃত্যু, বহু মানুষের অসহায় পঙ্গুত্ব, অর্থনীতির পতন, জাতীয় জীবনে অস্থিরতা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলের জন্য নিরুপায় সাধারণ মানুষের দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করার বিনিময়ে। যা যুদ্ধের যে কোনো ইতিবাচক অর্জনের ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।

এমনকি বিজয়ী যোদ্ধারাও বাকি জীবনটা যুদ্ধের মানসিক ক্ষত বহন করে চলেন। প্রতিটি যুদ্ধেই কে হারবে আর কে জিতবে, তা অনির্ধারিত হলেও এটা নির্ধারিত যে, যুদ্ধে মানবতা পরাজিত হবে। অর্থাৎ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে বিজয়ীরাও যুদ্ধে পরাজয়ই বরণ করে।মোট কথা, বিজয়ী ও পরাজিত শক্তি উভয়ের জন্যই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি হলো পরাজয়, ক্ষতি ও নৈতিকতার অবক্ষয়।

যুদ্ধের পর বীরত্বকে উদযাপন করা কখনো কখনো প্রতিশোধ পরায়ণতা ও ঘৃণার চক্রকে উসকে দিয়ে নতুন সংঘাত সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যখন অক্ষশক্তি পরাজিত হয়, তখন তাদের ওপর কিছু লজ্জাজনক শর্ত আরোপ করা হয়। অন্যদিকে মিত্রশক্তি তখন যুদ্ধ জয়ের উল্লাসে ব্যস্ত। তাদের এ বিজয়োল্লাসই অক্ষশক্তিকে প্রতিশোধ পরায়ণ করে তোলে, যার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা পৃথিবীকে প্রায় ৭ কোটি মানুষের মরদেহ উপহার দেয়।

এভাবেই প্রতিশোধের চক্র চলতে থাকে বিধায় পুরো মানবজাতিই ভোগান্তির শিকার হয়। অথচ, যুদ্ধের রসদ ক্রয় না করে এ অর্থ যদি একটি দেশ তার দারিদ্র‍্য দূরীকরণ, শিক্ষার প্রসারসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যয় করতে পারে, তাহলে তা দেশকে সমৃদ্ধির শিখরে আরোহণে সহায়তা করবে।
এ পর্যায়ে মনে প্রশ্ন আসতেই পারে…তবে কি বীরত্ব প্রদর্শন অপরাধ? মোটেও না; তবে সত্য, ন্যায়, মজলুমকে রক্ষা, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম, শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য বীরত্ব লালন করা প্রয়োজন।

মনে রাখতে হবে, শান্তিপূর্ণ সমাধানই মহান বীরত্বের প্রতীক। অপরদিকে, পৈশাচিক বীরত্ব প্রদর্শন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধ অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধ। আমরা বরং প্রকৃত বীরত্বের ধারণাকে বিশ্লেষণ ও উৎসাহিত করতে পারি। প্রকৃত বীরত্ব যুদ্ধক্ষেত্রে নয়; বরং এটি শান্তি, বোঝাপড়া, সহমর্মিতা ও সহাবস্থানের পথে বিদ্যমান। যারা সমস্যার সমাধান রক্তপাতহীনভাবে করতে পারে, বিভক্ত জাতিকে শান্তিপূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেন, তারাই প্রকৃত বীর।

যুদ্ধ ও মানবতার বিপর্যয় একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। যুদ্ধ কেবল ভৌগোলিক সংঘাত নয় বরং এটি লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু,বাস্তুচ্যুতি, চরম দারিদ্র‍্য এবং মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়ের কারণ যা সভ্যতাকে পিছিয়ে দেয়। পূর্ব কাল থেকে শুরু করে বর্তমানের যুদ্ধ গুলো প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ মানেই মানবতা ও উন্নয়নমূলক অবকাঠামোর চরম ধ্বংসলীলা।

যুদ্ধে সামরিক মৃত্যুর চেয়ে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি হয়। সরাসরি মৃত্যু ছাড়াও দুর্ভিক্ষ এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট রোগব্যাধিতে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। মানুষ নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়যা বিশ্বজুড়ে বিশাল শরণার্থী সংকটের সৃষ্টি করে। যুদ্ধ একটি দেশের রাস্তা, সেতু, বিদ‍্যালয় এবং হাসপাতাল ধ্বংস করে দেয় যা স্থানীয় অর্থনীতিকে পুরোপুরি স্থবির করে ফেলে এবং কর্মসংস্থান নষ্ট করে। যুদ্ধের ফলে বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হয় প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হয় এবং পরিবেশ দূষিত হওয়ার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তীব্র উদ্বেগ দীর্ঘ মেয়াদে মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত তৈরি করে। যুদ্ধের সময় স্কুলপড়–য়া শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা সামগ্রিক সভ্যতার জন্য চরম লজ্জা এবং মানবতার পরাজয়।

পরিশেষে এতটুকু বলাই যায়…কোনো যুদ্ধেই আসলে কেউ জয়ী হয় না প্রতিবারই মানবতার পরাজয় ঘটে। অপেক্ষা…সময়ের, যখন মানবজাতি ভয়ংকর যুদ্ধবিধ্বস্ত অতীত থেকে মুক্তি পাবে। কোনো শক্তিই মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারে না। ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা ভৌগোলিক সীমারেখা সকল কিছুর ঊর্ধ্বে বিবেক জাগ্রত হোক, জয় হোক মানবতার

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

ফরিদপুরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভেস্তে গেল গোল্ডকাপ ফাইনাল, খেলা ছাড়াই মিলল শিরোপা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভেস্তে গেল গোল্ডকাপ ফাইনাল, খেলা ছাড়াই মিলল শিরোপা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি। দুই দলের লড়াই দেখার অপেক্ষায় থাকা হাজারো দর্শকের হতাশার মধ্যেই প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া রাজনৈতিক বিরোধে এক দল মাঠে না আসায় টুর্নামেন্টের পরিসমাপ্তি ঘটে ওয়াকওভারের মাধ্যমে। পরে টুর্নামেন্টের প্রচলিত নিয়ম অনুসারে মাঠে উপস্থিত দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে ট্রফি তুলে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (২২ জুলাই) আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, গত সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ ও পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের। মাঠ, দর্শক, রেফারি ও আনুষ্ঠানিকতার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও নির্ধারিত সময়ে পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশের কোনো খেলোয়াড় মাঠে উপস্থিত হননি।

এ অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বৈরী আবহাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রথমে খেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন।
খেলা স্থগিতের ঘোষণায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন পৌরসভা-২ ফুটবল একাদশের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকরা। তারা উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লার হস্তক্ষেপে উপজেলা প্রশাসন টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী মাঠে উপস্থিত দলকে ওয়াকওভারে বিজয়ী ঘোষণা করে। একই রাতে তাদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিল প্রধান অতিথি নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ। আয়োজকদের আমন্ত্রণপত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস আলী মোল্লার নাম প্রধান অতিথি হিসেবে উল্লেখ করা হলে বিএনপির একটি পক্ষ আপত্তি তোলে। তাদের দাবি ছিল, বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করা হোক। এ বিরোধের জের ধরেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসের নির্দেশে পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ মাঠে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু বলেন, “প্রধান অতিথি নির্ধারণ নিয়েই মূল সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনকে সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে প্রধান অতিথি করার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি এবং খন্দকার নাসীরুল ইসলামকে বিশেষ অতিথি করা হয়। যেহেতু পৌরসভা-১ নবাব শাহ ফুটবল একাদশ আমাদের সভাপতির এলাকার দল, তাই তারা মাঠে যায়নি। প্রশাসন প্রথমে খেলা পরে আয়োজনের কথা বললেও পরে রাতে অপর দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি দিয়েছে। বিষয়টি আমরা সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনা করব।”

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, “একটি দল মাঠে উপস্থিত না হওয়ায় ওয়াকওভার হয়েছে। টুর্নামেন্টের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মাঠে উপস্থিত দলকে বিজয়ী ঘোষণা করে ট্রফি দেওয়া হয়েছে। ওয়াকওভারের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।”

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, খেলাধুলা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হলেও প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে একটি বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত রেখে ক্রীড়ার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানে প্রাণ গেল গৃহবধূর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে পারিবারিক কলহের জেরে বিষপানে প্রাণ গেল গৃহবধূর

ফরিদপুর শহরে পারিবারিক কলহের জেরে অভিমান করে বিষপান করেছেন এক গৃহবধূ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত গৃহবধূর নাম লিলি বেগম (৫০)। তিনি ফরিদপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাড়োকান্দি এলাকার বাসিন্দা এবং মো. ইউনুছ শেখের স্ত্রী।

পরিবারের পক্ষ থেকে কোতয়ালী থানায় দেওয়া লিখিত আবেদনে নিহতের ছেলে মো. জামিল শেখ (৩২) জানান, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে পারিবারিক কলহের কারণে অভিমান করে তার মা পরিবারের অগোচরে নিজ ঘরে গিয়ে ঘাস মারা বিষ পান করেন। কিছুক্ষণ পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লিলি বেগম মারা যান। পরে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
আবেদনে জামিল শেখ আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি নিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পরামর্শ করতে গিয়ে থানায় মৃত্যুর সংবাদ জানাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। পরে তিনি থানায় এসে অপমৃত্যুর বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে ছেলে জামিল শেখ তার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হোটেলকক্ষে গোপন ক্যামেরা? মোবাইল দিয়ে শনাক্ত করবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ
হোটেলকক্ষে গোপন ক্যামেরা? মোবাইল দিয়ে শনাক্ত করবেন যেভাবে

ভ্রমণে বের হলে হোটেলে থাকা অনেকটাই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু হোটেলকক্ষে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষিত রাখা যে কতটা জরুরি, তা সাম্প্রতিক সময়ের নানা ঘটনার পর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন দেশে এমনকি আমাদের দেশেও হোটেল রুমে লুকানো গোপন ক্যামেরা বসিয়ে অতিথিদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত ধারণের ঘটনা সামনে এসেছে। শুধু গোপনীয়তা নয়, এই ধরনের কার্যকলাপ ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে ভ্রমণে নিশ্চিন্তে থাকার আগে সতর্ক থাকা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

অনেকে মনে করেন, এসব গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করতে আলাদা কোনো আধুনিক যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাস্তবে স্মার্টফোনই হতে পারে কার্যকর হাতিয়ার। হাতে থাকা মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট, ক্যামেরা বা বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করেই সহজে গোপন ক্যামেরা চিহ্নিত করা সম্ভব। এমনকি ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও অনেক সময় লুকানো ক্যামেরার খোঁজ পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্রমণে বের হলে সামান্য কিছু সচেতনতা আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করে গোপন ক্যামেরার লেন্স খুঁজে পাওয়া সম্ভব। লুকানো ক্যামেরার লেন্স থেকে আলো প্রতিফলিত হয়। এজন্য কক্ষের সব আলো বন্ধ করে ফ্ল্যাশলাইট চালু করতে হবে। এরপর এয়ার ভেন্ট, ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র, ঘড়ি বা আয়নার মতো জায়গায় আলো ফেলতে হবে। আলোয় যদি ক্ষুদ্র প্রতিফলন বা লেন্সের মতো কিছু দেখা যায়, সেটি সন্দেহজনক হতে পারে।

ক্যামেরার মাধ্যমে ইনফ্রারেড আলো শনাক্ত

গোপন ক্যামেরা থেকে নির্গত অতি লাল বা ইনফ্রারেড আলো খালি চোখে দেখা যায় না। তবে স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে তা শনাক্ত করা যায়। এজন্য কক্ষের আলো নিভিয়ে ফোনের ক্যামেরা চালু করে সন্দেহজনক স্থানগুলো স্ক্যান করতে হবে। ক্যামেরার স্ক্রিনে ক্ষুদ্র আলোকবিন্দু বা ঝলক দেখা গেলে সেটি ইনফ্রারেড আলো হতে পারে, যা গোপন ক্যামেরার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

ক্যামেরা শনাক্তকারী অ্যাপ ব্যবহার

বর্তমানে স্মার্টফোনের জন্য এমন অনেক অ্যাপ রয়েছে, যা দিয়ে গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করা সম্ভব। এসব অ্যাপ ইনফ্রারেড আলো, চৌম্বকক্ষেত্র বা অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করতে পারে। নির্ভরযোগ্য একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে রুমের সন্দেহজনক স্থানে পরীক্ষা করলেই সম্ভাব্য লুকানো ক্যামেরা ধরা পড়তে পারে।

ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সন্দেহজনক ডিভাইস শনাক্ত

অনেক গোপন ক্যামেরা ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে। স্মার্টফোন দিয়ে রুমের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত যন্ত্র শনাক্ত করা সম্ভব। স্মার্টফোনের ওয়াই-ফাই সেটিংসে গিয়ে নেটওয়ার্কে যুক্ত যন্ত্রগুলোর তালিকা দেখতে হবে। তালিকায় যদি অপরিচিত বা সন্দেহজনক নামের ডিভাইস যেমন আইপি ক্যামেরা বা ক্যামেরা দেখা যায়, সেটি নিয়ে সতর্ক হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ভ্রমণের সময় হোটেলে ওঠার পর শুধু আরামের কথা না ভেবে নিরাপত্তার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সামান্য সচেতনতা আপনাকে অস্বস্তিকর এমনকি ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকেও রক্ষা করতে পারে।

তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া