খুঁজুন
, ,

‘সিমতি’কে মনে পড়ে’

সোহানুর রহমান
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ
‘সিমতি’কে মনে পড়ে’

প্রায় পাঁচ বছর আগের কথা। আষাঢ়ের এক বৃষ্টিভেজা দিনে অকারণেই গিয়েছিলাম ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার একটি বাড়িতে। বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি, আর ভেতরে ধোঁয়া ওঠা রং চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে গল্পে মেতে উঠেছিলাম।

হঠাৎ চোখ পড়ল ঘরের আলমারির দিকে। দেখি, একটি ছোট্ট ইঁদুরের বাচ্চা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি গন্ধের ব্যাপারে একটু সংবেদনশীল। শুরু থেকেই ইঁদুরের বিষ্ঠার গন্ধে অস্বস্তি লাগছিল। তাই বাড়ির কর্তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “ইঁদুরের এত উৎপাত কেন?”

তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “এর পেছনে আছে সিমতির গল্প।”

সিমতি—হালকা-পাতলা, ছিপছিপে গড়নের সাদা-কালো ডোরাকাটা একটি মেয়ে বিড়াল। খুব একটা আকর্ষণীয় ছিল না। মাঝে মাঝে রান্নাঘর থেকে মাছ চুরি করত, কখনো বিছানায় প্রসাবও করে ফেলত। তবে একটি ব্যাপারে সে ছিল ব্যতিক্রম—অজায়গায় কখনো বিষ্ঠা ত্যাগ করত না। আর ইঁদুর দেখলে তো কথাই নেই; মুহূর্তেই শিকার ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়ত।

একদিন পাশের বাড়ির একটি বিড়ালছানার সঙ্গে খেলতে গিয়ে খামচি কেটে দেয় সিমতি। এতে বিরক্ত হয়ে বাড়ির কর্তা তার ধারালো নখ কেটে দেন। শুধু তাই নয়, পাথর দিয়ে ঘষে তার সূচালো দাঁতও ভোঁতা করে দেন।

সেদিনের পর থেকেই যেন সিমতি আর আগের সিমতি রইল না।

নখ-দাঁতহীন সিমতি আর পাশের বাড়ির বিড়ালছানার সঙ্গে খেলতে যায় না। বাড়ির সামনে আকাশছোঁয়া শিমুল গাছে আর উঠে না। ইঁদুরের উপস্থিতি টের পেলেও আর শিকারের প্রস্তুতি নেয় না। সারাদিন রান্নাঘরের চুলার পাশে শুয়ে-বসে শুধু ম্যাও ম্যাও করে।

বাড়ির কর্তা একদিন জোর করে তাকে একটি ইঁদুরের সামনে এনে বসিয়েছিলেন। কিন্তু ইঁদুর শিকার করা তো দূরের কথা, ইঁদুরের ভয়ে সিমতিই দৌড়ে পালিয়ে গেল!

একসময় যে বাড়িতে ইঁদুরের কোনো অস্তিত্বই ছিল না, সেখানে এখন যেন ইঁদুরের রাজত্ব। খাবার টেবিলে ইঁদুর, সোফার নিচে ইঁদুর, আলমারির ভেতর ইঁদুর—চারদিকে শুধু ইঁদুর আর ইঁদুর।

বাড়ির কর্তা আক্ষেপ করে বললেন, “এখন বুঝি, কী ভুলটাই না করেছি! কেন যে সিমতির নখ কেটে দিলাম, দাঁত ঘষে ভোঁতা করে দিলাম!”

আমি বললাম, “তাহলে নতুন একটা বিড়াল আনুন।”

তিনি মৃদু হেসে বললেন,“নতুন বিড়াল এনে কী হবে? ইঁদুরগুলোর তো এখন অভ্যাস হয়ে গেছে বিড়ালকে তাড়া করার, বিড়ালকে নিয়ে খেলা করার, এমনকি বিড়ালের মুখের ওপরই হাগু করার!”

কথাটা শুনে আমি কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে রইলাম।

ঠিক তখনই বাইরে মোটরসাইকেলের হর্ন শোনা গেল। একই সঙ্গে ভেসে এল কারও কণ্ঠস্বর—“হ… হ… পুলিশকে আরও দুর্বল কর। তারপর শান্তিতে বসবাস কইরা দেইখো!”

জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখি, হালকা করে চুল ছাঁটা, পেটমোটা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল চালিয়ে দূরে মিলিয়ে গেল।

এরই মধ্যে বৃষ্টিও থেমে গেছে। বাড়ির কর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হলাম।

কিন্তু আজও মাঝে মাঝে সিমতির কথা মনে পড়ে। মনে হয়, যার নখ-দাঁত কেটে তাকে অসহায় করে দেওয়া হয়, সে শুধু নিজের শক্তিই হারায় না—তার সঙ্গে হারিয়ে যায় চারপাশের স্বাভাবিক ভারসাম্যও।

লেখক: পুলিশ কর্মকর্তা

বন্যার পানি দিয়ে অজু বা গোসল করা যাবে কি? ইসলাম যা বলে

মুফতি দিদার হুসাইন
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ
বন্যার পানি দিয়ে অজু বা গোসল করা যাবে কি? ইসলাম যা বলে

ইসলাম পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার ধর্ম। তাই ইবাদতের জন্য শরীর, পোশাক ও স্থান যেমন পবিত্র হওয়া জরুরি, তেমনি পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমও হতে হবে শরিয়তসম্মত। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আকাশ থেকে পবিত্র ও পবিত্রকারী পানি বর্ষণ করেছি। (সুরা আল-ফুরকান: ৪৮)

ইসলামী ফিকহের একটি মৌলিক নীতি হলো, পানি মূলত পবিত্র ও পবিত্রকারী। সুতরাং কোনো পানি অপবিত্র হওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তাকে পবিত্র বলেই গণ্য করা হবে। বন্যার পানি সাধারণত বৃষ্টির পানি ও নদীর পানির সমন্বয়ে গঠিত হয়। এ দুই ধরনের পানিই পবিত্র। তাই কেবল বন্যার পানি হওয়ার কারণে তা অপবিত্র হয়ে যায় না। (আল-হিদায়া, ফাতহুল কাদির: ১/৭৪)

ঘোলা পানি কি অপবিত্র?

বন্যার পানিতে মাটি, বালু, কাদা বা অন্য কোনো পবিত্র বস্তু মিশে পানি ঘোলা হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। এতে পানির রং বা স্বচ্ছতা পরিবর্তিত হলেও শুধু এ কারণেই পানি অপবিত্র হয়ে যায় না। পানির সঙ্গে কোনো পবিত্র বস্তু মিশে রং, ঘ্রাণ বা স্বাদে পরিবর্তন এলেও, যতক্ষণ পানি তার স্বাভাবিক তরলতা বজায় রাখে এবং তাকে ‘পানি’ বলাই যায়, ততক্ষণ তা দিয়ে অজু ও গোসল করা বৈধ। যেমন: বন্যার পানিতে মাটি বা বালু মিশে যাওয়া কিংবা সাবান বা জাফরানের কারণে পানির রং পরিবর্তিত হওয়া। (শারহু মুখতাসার আত-তহাবি, ১/২২৭; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া , ১/৭৩)

তবে যদি কোনো পবিত্র বস্তু এত বেশি মিশে যায় যে, পানির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যই নষ্ট হয়ে যায় এবং তাকে আর সাধারণ পানি বলা না যায়, তাহলে সে পানি নিজে পবিত্র থাকলেও তা দিয়ে অজু বা গোসল করা বৈধ হবে না। (আল হিদায়া, ফাতহুল কাদীর: ১/৭৭)

পানির সঙ্গে নাপাকি মিশে গেলে বিধান কী?

অনেক সময় বন্যার পানির সঙ্গে নর্দমার পানি বা অন্যান্য নাপাক বস্তু মিশে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রেও শরিয়তের বিধান হলো, কেবল নাপাকি মিশলেই পানি অপবিত্র হয়ে যায় না; বরং নাপাকির কারণে যদি পানির রং, ঘ্রাণ বা স্বাদের কোনো একটি পরিবর্তিত হয়ে যায়, তখন সে পানি অপবিত্র বলে গণ্য হবে। কিন্তু এসব বৈশিষ্ট্যে কোনো পরিবর্তন না এলে সেই পানি দিয়ে অজু ও গোসল করা বৈধ। (ফাতাওয়া আলমগিরি: ১/৬৮)

একইভাবে প্রবহমান নদী বা স্রোতের পানিতে নাপাকি পড়লেও যদি পানির রং, ঘ্রাণ বা স্বাদ পরিবর্তিত না হয়, তাহলে সে পানি পবিত্র থাকবে। (ফাতাওয়া আলমগিরি: ১/৬৮)

বড় জলাশয়ের এক পাশে নাপাকি পড়লেও, যদি জলাশয় এত বড় হয় যে এক পাশের নাড়া অন্য পাশে পৌঁছে না, তাহলে দূরের অংশের পানি দিয়ে অজু ও গোসল করা বৈধ। (আল- ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া: ১/৩৬)

পানিতে প্রাণী মারা গেলে

যেসব প্রাণীর দেহে প্রবহমান রক্ত নেই—যেমন মাছি, মশা, ভোমরা বা বিচ্ছু; সেগুলো পানিতে পড়ে মারা গেলে পানি অপবিত্র হয় না। একইভাবে মাছ, কাঁকড়া, ব্যাঙ প্রভৃতি জলজ প্রাণী পানির মধ্যেই মারা গেলেও সে কারণে পানি অপবিত্র হবে না। (শারহু মুখতাসার আত-তহাবি: ১/২৭১)

পবিত্র পানি না পাওয়া গেলে

যদি বন্যার পানি অজু বা গোসলের উপযোগী না থাকে এবং পবিত্র পানিরও কোনো ব্যবস্থা না হয়, তাহলে শরিয়ত তায়াম্মুমের অনুমতি দিয়েছে। মাটি, পাথর, দেয়াল বা এ জাতীয় বস্তু দ্বারা তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করা যাবে। (সুরা আন নিসা: ৪৩, আল ফাতাওয়া আল-হিন্দয়া: ১/৮০)

সারসংক্ষেপ

বন্যার ঘোলা পানি মানেই নাপাক নয়। মাটি, বালু বা অন্য কোনো পবিত্র বস্তু মিশে ঘোলা হলে এবং নাপাকির কারণে পানির রং, ঘ্রাণ বা স্বাদ পরিবর্তিত না হলে সে পানি দিয়ে অজু ও গোসল করা বৈধ। তবে পানির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়ে গেলে অথবা নাপাকির কারণে তার গুণাবলি পরিবর্তিত হলে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন বৈধ হবে না।

লেখক: শরিয়াহ কনসালট্যান্ট

বাড়িতে পানি ঢুকলে সবার আগে যে ৭টি কাজ করবেন? জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
বাড়িতে পানি ঢুকলে সবার আগে যে ৭টি কাজ করবেন? জেনে নিন

টানা বৃষ্টি, উজানের ঢল কিংবা আকস্মিক বন্যায় মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বাড়িঘর। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আতঙ্কে কী করবেন, আর কী করবেন না, তা বুঝে উঠতে পারেন না। অথচ শুরুতেই নেওয়া কয়েকটি সঠিক সিদ্ধান্ত প্রাণহানি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, পানিবাহিত রোগ এবং আর্থিক ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, বাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করলে সবার আগে নিচের সাতটি কাজ করা উচিত।

১. নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন

ঘরের আসবাব, টেলিভিশন বা অন্যান্য মূল্যবান জিনিস বাঁচানোর চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পানি দ্রুত বাড়তে থাকলে বা স্থানীয় প্রশাসন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিলে দেরি না করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের আগে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

২. নিরাপদ হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করুন

বন্যার সময় সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি হলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া। যদি নিরাপদভাবে মূল সুইচে পৌঁছানো সম্ভব হয়, তাহলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করুন। তবে পানিতে দাঁড়িয়ে বা ভেজা অবস্থায় কখনোই সুইচ স্পর্শ করবেন না। একইভাবে গ্যাসের সংযোগও বন্ধ করে দিন। যদি সুইচ পানির নিচে চলে যায়, তাহলে নিজে ঝুঁকি না নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তা নিন।

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ওষুধ নিরাপদ স্থানে রাখুন

জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাসনদ, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ, জমির দলিল, নগদ টাকা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল ফোন, চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক জলরোধী ব্যাগে ভরে উঁচু স্থানে রাখুন। সম্ভব হলে এসব কাগজপত্রের ডিজিটাল কপি আগে থেকেই ক্লাউড বা ই-মেইলে সংরক্ষণ করে রাখুন।

৪. বন্যার পানিকে নিরাপদ ভাববেন না

বন্যার পানিতে নর্দমার ময়লা, জীবাণু, রাসায়নিক পদার্থ, ধারালো বস্তু কিংবা সাপসহ বিভিন্ন প্রাণী থাকতে পারে। তাই অপ্রয়োজনে পানিতে নামবেন না। নামতে হলে বুট বা শক্ত জুতা ব্যবহার করুন। শরীরে কাটা বা ক্ষত থাকলে তা ঢেকে রাখুন।

৫. নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করুন

বন্যার সময় সবচেয়ে বেশি দেখা দেয় পানিবাহিত রোগ। তাই বোতলজাত বা ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি পান করুন। বন্যার পানির সংস্পর্শে আসা খাবার খাবেন না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকা খাবারও পরিহার করুন। প্রয়োজনে ওআরএস, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ আগে থেকেই আলাদা করে রাখুন।

৬. জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখুন

প্রতিটি পরিবারের একটি জরুরি ব্যাগ থাকা উচিত।

এই ব্যাগে রাখতে পারেন—

প্রয়োজনীয় ওষুধ

টর্চলাইট

অতিরিক্ত ব্যাটারি

মোবাইল চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক

শুকনো খাবার

বিশুদ্ধ পানি

প্রয়োজনীয় পোশাক

গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র

নগদ টাকা

বাঁশি বা জরুরি সংকেত দেওয়ার উপকরণ

হঠাৎ বাড়ি ছাড়তে হলে এই ব্যাগই সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে।

৭. পানি নেমে গেলেও তাড়াহুড়া করে ঘরে ফিরবেন না

পানি কমে গেলেই ঘর নিরাপদ হয়ে যায় না। ঘরে ঢোকার আগে দেয়াল, মেঝে, বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাসলাইন এবং ভবনের অবস্থা পরীক্ষা করুন। জানালা-দরজা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজন হলে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে ঘর পরিষ্কার করুন। কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র ভিজে গেলে তা শুকানোর আগে চালু করবেন না।

মনে রাখুন

বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলে এর ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারের সবাইকে আগে থেকেই জরুরি পরিকল্পনা জানিয়ে রাখুন। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকি নেবেন না। দুর্যোগের সময় সামান্য সতর্কতাই বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে।

তথ্যসূত্র : বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিডিসি ও আমেরিকান রেড ক্রস

খেলাধুলায় উৎসাহ, ফরিদপুরে এতিম শিক্ষার্থীদের হাতে বিশ্বকাপের জার্সি

আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
খেলাধুলায় উৎসাহ, ফরিদপুরে এতিম শিক্ষার্থীদের হাতে বিশ্বকাপের জার্সি

ফরিদপুরে এতিম ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “সুস্থ দেহ, সুন্দর মন—গড়ে তুলবো সুন্দর জীবন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশ্বকাপ ফুটবলের বিভিন্ন দলের জার্সি বিতরণ করা হয়েছে। প্রিয় দলের জার্সি হাতে পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ফরিদপুর শহরের উত্তর আলিপুর কুমার নদের তীরে বিল্লালের দোকান সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত মরহুম আব্দুল জলিল দারুল এহসান মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ জার্সি বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মক্তব ও হেফজ বিভাগের ১৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে তাদের নিজ নিজ পছন্দের বিশ্বকাপ ফুটবল দলের জার্সি তুলে দেওয়া হয়। জার্সি পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে। অনেকেই সঙ্গে সঙ্গেই নতুন জার্সি পরে সহপাঠীদের সঙ্গে ছবি তোলে এবং খেলাধুলার প্রতি নিজেদের আগ্রহের কথা জানায়।

আয়োজকরা জানান, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহিত করতে এবং তাদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সুস্থ ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতেও সহায়ক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

জার্সি বিতরণ কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন ফরিদপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রয়াত প্রফেসর সেলু স্যারের পুত্র, স্থপতি প্রকৌশলী তানসিভ জুবায়ের সাম্য। এর আগেও তিনি পরিবারের সহযোগিতায় একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য রাজশাহীর বাগানের ফরমালিনমুক্ত আম দিয়ে ফল উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর এমন অংশগ্রহণ এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে।

জানা যায়, মরহুম আব্দুল জলিল দারুল এহসান মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বর্তমানে সাতজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তাদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে নানা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এ সময় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “ইয়াতিম ও দুঃস্থ ছাত্রদের মুখে হাসি ফোটানোর এই মহতী উদ্যোগে পাশে থাকার জন্য তানসিভ জুবায়ের সাম্য ও তাঁর পরিবারের প্রতি মাদ্রাসা ও এতিমখানার পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।”