খুঁজুন
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

‘একটি বাড়ির ইতিহাস ও বেদনা’

তন্ময় উদ্দৌলা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
‘একটি বাড়ির ইতিহাস ও বেদনা’

এটা আমার দাদাবাড়ি। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফলিয়া গ্রামের এই বাড়িটি ‘ফলিয়া জমিদার বাড়ি’ নামে পরিচিত। প্রায় এক শতাব্দী আগে আমার প্রপিতামহ, প্রয়াত জমিদার মুন্সী দুদু মিয়া এই বাড়িটি নির্মাণ করেন।

বর্তমানে বাড়িটিতে এখনও তাঁর দুই ছেলে—সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আরকান উদ্দৌলা (বাকা মিয়া) এবং সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম সোজা উদ্দৌলার স্ত্রী-সন্তানরা (আমাদের দাদিরা, বাবা-চাচারা ও তাদের সন্তানেরা) বসবাস করছেন।

এক সময় এই বাড়ি ছিল এলাকার মানুষের জন্য উন্মুক্ত দরজা—আতিথেয়তা, সহায়তা ও সামাজিক বন্ধনের একটি কেন্দ্র। আশেপাশের দুই-তিন উপজেলার এমন মানুষ খুব কমই আছেন, যারা কোনো না কোনোভাবে এই বাড়ির আতিথেয়তা পাননি বা উপকৃত হননি। আশেপাশের উপজেলার অনেক সম্মানিত ও সমৃদ্ধ মানুষের কাছ থেকেই আমি নিজে এই কথাগুলো শুনেছি।

এই বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা জমিদার মরহুম মুন্সী দুদু মিয়া শিক্ষা বিস্তারের জন্য নিজ বাড়ির পাশেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী গ্রাম গঙ্গানন্দপুর (বোয়ালমারী উপজেলায়) একটি মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ নির্মাণ করেন। নড়াইলের জমিদার বাবু বন বিহারীর কাছ থেকে জমিদারির গোড়াপত্তন কেনার পর তিনি নড়াইল জেলা শহরের উন্নয়নের জন্যও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজের জমি দান করেন—যা আজও মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।

জমিদারের বড় ছেলে বাকা মিয়া এবং সোজা মিয়া কেমন মানুষ ছিলেন, তাঁদের চলাফেরা কেমন ছিল, কতটা আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যবোধ তাঁদের মধ্যে ছিল—সেসব গল্প আজও আশেপাশের উপজেলার মুরব্বিদের মুখে শোনা যায়। চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করেও মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। শুধু তাই নয়, বহু গৃহহীন মানুষকে বসবাসের সুযোগ করে দিতে তারা দুই ভাই অনেক জমিও দান করেছেন।

এই বাড়ির তৃতীয় প্রজন্ম (আমাদের বাবা-চাচারা) এবং চতুর্থ প্রজন্ম (আমরা ও আমাদের কাজিনরা) এখন দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে আছি। কেউ আমেরিকায়, কেউ অস্ট্রেলিয়ায়; কেউ দেশের সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন, কেউ জাতীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতা করছে, কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে, কেউ নামকরা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস পড়ছে, আবার কেউ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। সবাই নিজের জায়গা থেকে পরিশ্রম করে নিজেদের গড়ে তোলার চেষ্টা করছে—এটাই আমাদের গর্ব।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের মধ্যেই কেউ কেউ এই বাড়ির সম্মান ধুলোর সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে। উপকার তো দূরের কথা, বর্তমানে এই বাড়ির কিছু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বহু সাধারণ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে—কেউ কেউ প্রায় নিঃস্ব হয়ে পথে বসার উপক্রম। এমনকি এখন এই ঐতিহ্যবাহী বাড়ির ইট খুলে বিক্রি করার চেষ্টাও কেউ কেউ করছে। ইতিমধ্যে তারা বাড়ির ভেতরের কিছু জমিজমা বিক্রি করা শুরু করেছে, যা এই বাড়ির ঐতিহ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

এ কারণেই আমরা চাই, আমাদের পরিবারের ওইসব খারাপ মানুষ যেন তাদের যা কিছু আছে সব বিক্রি করে দিয়ে চিরতরে এই গ্রাম এবং আমাদের পরিবার থেকে সরে যায়। তা না হলে আমাদের পূর্বপুরুষদের নাম ভাঙিয়ে তারা একের পর এক অন্যায় করে যাবে আশেপাশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে, যার দায় শেষ পর্যন্ত আমাদের সবার ওপরই এসে পড়বে।

তাই তাদের অপকর্মের কোনো দায় আমরা নিতে চাই না। বরং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আমরা আমাদের পরিবারকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে চাই।

হয়তো খুব বেশি দিন আর এই বাড়িটি থাকবে না।
তাই বুকভরা কষ্ট নিয়েই, ইতিহাসের এই শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখার জন্য আজ বাড়িটির ছবি প্রকাশ করলাম।

কারণ একটি বাড়ি শুধু ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়—এটি একটি পরিবারের ইতিহাস, স্মৃতি এবং পরিচয়ের অংশ।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদে ভেসে উঠল অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদে ভেসে উঠল অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভুবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অনেকটাই বিবস্ত্র ও অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। নিহত কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ বছর হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার চরকৃষ্ণপুর এলাকার ভুবনেশ্বর নদে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সদরপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে নদীর পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান কয়েকজন জেলে ও এলাকাবাসী। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল মিয়াকে জানানো হলে তিনি থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করে।

সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে ফরেনসিক ও সিআইডি টিম কাজ করছে। এখন পর্যন্ত নিহত কিশোরীর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লন্ডনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ফরিদপুরের শামসুল আজম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
লন্ডনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ফরিদপুরের শামসুল আজম

লন্ডনের মাটিতে লাল-সবুজের আরও একটি গর্বের পতাকা উড়ল। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লন্ডনের মেইজব্রুক ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কৃতী সন্তান এম. এম. শামসুল আজম। বৃটেনের রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে ২০০৩ সালে লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিলেন শামসুল আজম। পড়াশোনা শেষ করার পর লন্ডনেই চাকরি আর ব্যবসার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন সমাজসেবামূলক কাজে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কমিউনিটির উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভ করেন। এবার মেইজব্রুকের বাসিন্দারা ব্যালটের মাধ্যমে তাঁর সেই সেবার প্রতিদান দিলেন।

নির্বাচনে জয়লাভের পর শামসুল আজম বলেন, ‘এই বিজয় আমার একার নয়, এটি মেইজব্রুকের সকল বাসিন্দার বিজয়। আমি আপনাদের সেবা করতে এবং এলাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বিদেশের মাটিতে বড় এই সাফল্যের পরও নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি নবনির্বাচিত এই কাউন্সিলর। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শামসুল আজম বলেন, ‘আমি যেখান থেকে এসেছি—বোয়ালমারী, ফরিদপুর—সেই মাটির প্রতি আমার গভীর মমতা রয়েছে। প্রবাসে থেকেও আমি বাংলাদেশের মান-সম্মান বৃদ্ধিতে কাজ করে যাব।’

শামসুল আজমের এই সাফল্যে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন বার্তায় ভাসছেন তিনি। এদিকে তাঁর এই বড় অর্জনের খবর বোয়ালমারী ও ফরিদপুরে পৌঁছালে সেখানেও মিষ্টি বিতরণ ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। দূর পরবাসে দেশের মুখ উজ্জ্বল করায় তাঁকে নিয়ে গর্ব করছেন এলাকাবাসী।

সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টিভি

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানহা (১৮ মাস) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬২ জন রোগী জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তানহাকে। সে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসানদিয়া গ্রামের দ্বীন ইসলামের মেয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ১৭৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

তিনি আরও বলেন, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।