খুঁজুন
, ,

ইরান যেভাবে ইসলামের অধীনে আসে? জানুন এক নজরে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
ইরান যেভাবে ইসলামের অধীনে আসে? জানুন এক নজরে

ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু অধ্যায় রয়েছে, যা কেবল যুদ্ধ-বিজয়ের কাহিনি নয়, বরং এক সভ্যতার রূপান্তরের গল্প। ইরান বিজয়ের ইতিহাস তেমনই এক অনন্য অধ্যায়, যেখানে অন্ধকারাচ্ছন্ন এক সমাজ ধীরে ধীরে আলোর পথে এগিয়ে আসে ইসলামের সুশীতল ছায়ায়।

শ্রেণিবৈষম্য, জুলুম-নির্যাতন আর নৈতিক অবক্ষয়ে জর্জরিত পারস্যভূমি যখন মানবতার মুক্তির পথ খুঁজছিল, ঠিক তখনই ইসলামের ন্যায়, সাম্য ও ইনসাফভিত্তিক বার্তা সেখানে পৌঁছে যায় সাহাবায়ে কেরামের হাত ধরে।

তাওহিদের আহ্বান, ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মর্যাদার পুনর্জাগরণের মধ্য দিয়ে ইরান হয়ে ওঠে ইসলামি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে তরবারির ঝলকানির পাশাপাশি দাওয়াত, আদর্শ ও নৈতিকতার শক্তিই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়।

ইরানে ইসলামের ভিত্তি

ইসলাম বিজয়ের পূর্ববর্তী সময়ে ইরানে ধর্ম হিসেবে জরথুষ্ট্র মতবাদ ছিল সরকারিভাবে স্বীকৃত। তখন দেশটি শ্রেণিবৈষম্য, অবিচার, দুর্নীতি ও নির্যাতনের আখড়ায় পরিণত এক ভূমি ছিল। সাধারণ জনগণ দেশের স্বীকৃত ধর্মীয় কাঠামো থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল ধীরে ধীরে।

এরই মধ্যে খলিফা আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলে, সাহাবি মুসান্না ইবনে হারিসা (রা.)-এর নেতৃত্বে ইরানে ইসলাম বিজয়ের প্রথম ধাপ সূচিত হয়। তিনি সাওয়াদ অঞ্চলের আশপাশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমি জয় করে ইসলামি পতাকা উড্ডীন করেন, যা ছিল এক বৃহৎ পরিবর্তনের সূচনা।

হজরত উমরের শাসনামলে নতুন গতি

খলিফা উমর (রা.)-এর শাসনামলে ইরানে ইসলামি বিজয় নতুন গতি পায়। সাহাবি আবু উবাইদ আস-সাকাফি (রা.) ১৩ হিজরিতে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে পারস্যে অভিযান শুরু করেন। তিনি সেতুর যুদ্ধে পারস্য সেনাপতি জাবানকে পরাজিত ও বন্দী করেন। এরপর কাসকারে নরসির এবং গ্যালেনের সাথেও সফলভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তবে এক পর্যায়ে পারস্য বাহিনীর আকস্মিক হামলায় মুসলিম বাহিনী চাপে পড়ে। অনেক সৈন্য নিহত ও পানিতে ডুবে যায়, আর এই যুদ্ধেই শহীদ হন আবু উবাইদ আস-সাকাফি (রা.)। (সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা ৪২১)

ইতিহাসের মোড় ঘোরানো যুদ্ধ

১৪ হিজরীতে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ইরান বিজয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করে। ঐতিহাসিক আল-কাদিসিয়া যুদ্ধে পারস্য বাহিনী মুসলমানদের কাছে নির্মমভাবে পরাজিত হয়। এই যুদ্ধ ছিল ইসলামের অন্যতম বড় বিজয়, যা ইরানে ইসলামি শাসনের পথ সুগম করে।

ঐতিহাসিকদের মতে, কাদিসিয়া যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার, আর পারস্য সেনাপতি রুস্তুম নেতৃত্ব দেন প্রায় ৬০ হাজার সৈন্যের। ১৪ হিজরির মহররম মাসের এক সোমবার প্রবল ঝড়ে পারস্য বাহিনীর তাঁবু উড়ে যায়, এমনকি রুস্তুমের বিছানাও ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে। তিনি পালাতে চেষ্টা করলে মুসলিমরা তাকে ধরে হত্যা করে। পারস্য বাহিনীর আরেক নেতা আল-জালানুসও নিহত হন।

এই যুদ্ধে মুসলমানরা পারস্যদের পরাজিত করে। উপর্যুপরি হামলায় তাদের ৩০ হাজার সদস্য নিহত হয়। আর কয়েক দিনে দুই হাজার পাঁচ শ মুসলিম শহীদ হন। এরপর মুসলমানরা পরাজিত পারস্য সেনাদের ধাওয়া করতে করতে মাদায়েন শহরে প্রবেশ করে, যা ছিল পারস্য বাদশাহর রাজধানী এবং খোসরোর প্রাসাদ ‘ইওয়ান’-এর অবস্থান। কাদিসিয়া যুদ্ধে মুসলিমরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও অস্ত্রশস্ত্র লাভ করার পর গনিমতের মাল একত্র করে ভাগ করা হয়, যার এক-পঞ্চমাংশ খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর কাছে সুসংবাদের সঙ্গে পাঠানো হয়। ( আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা ৬৩০)

মুসলিমরা ইরানের ভূখণ্ডে তাদের বিজয়ের ধারা অব্যাহত রেখে দক্ষিণ ইরান দখল করে। ১৮ হিজরিতে জালুলার যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী ও ইয়াজদেগার্দের সেনারা সম্মুখসমরে লড়াই করেন, যেটি ইয়াজদেগার্দ ও তার বাহিনীর পরাজয়ে শেষ হয় এবং তিনি ইসফাহানের দিকে পশ্চাদ গমন করেন।

আল্লামা তাবারি (রহ.) লিখেছেন, ‘সেদিন আল্লাহ এক লাখ সৈন্যকে নিহত করেছেন, যার মৃতদেহ মাঠসহ তার আশপাশ সম্পূর্ণ ঢেকে দিয়েছিল। এ কারণে ওই স্থানটির নাম হয় জালুলা।’ (তারিখুত তাবারি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৬)

বিজয়ের বিজয়

২১ হিজরীতে নাহাওয়ান্দের চূড়ান্ত যুদ্ধে মুসলিমরা ইয়াজদেগারদের পরাজিত করে এক মহা বিজয় অর্জন করে। এর পর সাসানীয় শাসকরা আর কখনও পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। গনিমতের বিপুল সম্পদের কারণে এই যুদ্ধে মুসলিমরা ‘বিজয়ের বিজয়’ নামে সমাদৃত হয়।

বিখ্যাত তাফসিরবিদ ইবনে কাসির (রহ.) লিখেছেন, ‘এই যুদ্ধ ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর। মুসলিমরা এটিকে ‘বিজয়ের বিজয়’ বলে অভিহিত করেছিল’ (আল-বিদায়া ওয়াল-নিহায়া, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১১১)।

দেশটির বিস্তৃতি ও দুর্গমতার কারণে পুরো ইরান নিয়ন্ত্রণে নিতে মুসলমানদের প্রায় এক দশক সময় লেগেছিল। অতঃপর ইসলামের প্রচার-প্রসার সহজ হয় আরব গোত্রের অভিবাসন, বসতি স্থাপন ও ইরানিদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক মিশ্রণের মাধ্যমে।

৯০৬ হিজরিতে শিয়া সাফাভিরা ক্ষমতা গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত প্রায় নয় শতাব্দী ধরে ইরান সুন্নি মতবাদ অনুসরণ করে আসছিল। এটি শুধু সামরিক নয়; বরং এক ঐতিহাসিক বিপ্লব, যার মাধ্যমে ইরান ভৌগলিক, সাংস্কৃতিক ও বিশ্বব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন এনেছিল।

‘ফুটপাতের সেই নারী, যাকে দেখেও কেউ দেখেনি’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
‘ফুটপাতের সেই নারী, যাকে দেখেও কেউ দেখেনি’

সন্ধ্যা পেরিয়ে ঘড়ির কাঁটা রাত আটটার দিকে এগোচ্ছে। ফরিদপুর শহরের জেলা কারাগারের সামনের ব্যস্ত সড়কটি তখনও জেগে আছে। একের পর এক ট্রাক, অটোরিকশা আর মোটরসাইকেল ছুটে যাচ্ছে নিজেদের গন্তব্যে। আকাশ থেকে টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে—এমন বৃষ্টি, যা ভেজায়ও, আবার অদ্ভুত এক বিষণ্নতাও ছড়িয়ে দেয়।

সেই ব্যস্ততার মাঝেই রাস্তার পাশের ফুটপাতে বসে আছেন এক উসকোখুসকো চুলের নারী। বয়স কত, তা বোঝার উপায় নেই। ময়লা কাপড়ে জড়ানো শরীর, ক্লান্ত চোখ, শুকিয়ে যাওয়া মুখ। তিনি ছিন্নমূল, নাকি মানসিক ভারসাম্যহীন—কেউ জানে না। হয়তো জানার প্রয়োজনও মনে করেনি কেউ।

মানুষগুলো পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। কারও হাতে বাজারের ব্যাগ, কারও হাতে অফিসের ফাইল, কেউ আবার মোবাইলের পর্দায় ডুবে আছে। কিন্তু একবারের জন্যও কেউ থেমে জিজ্ঞেস করল না, “মা, আজ কিছু খেয়েছেন?”

নারীটি নিজের সঙ্গেই কথা বলছেন। কখনো হেসে উঠছেন, কখনো আবার অদৃশ্য কাউকে উদ্দেশ করে অভিমান করছেন। মনে হয়, তারও একদিন সংসার ছিল। হয়তো কোনো সন্তানের মুখে তিনি ভাত তুলে দিতেন, হয়তো কেউ তাকে “মা” বলে ডাকত। সময়ের নিষ্ঠুর স্রোতে সব হারিয়ে আজ তিনি শুধু শহরের এক কোণে পড়ে থাকা বিস্মৃত মানুষ।

সড়কের লাইটের মিটিমিটি আলো এসে পড়ছে তার গায়ে। সেই আলো যেন তাকে আলোকিত করছে না, বরং আমাদের অন্ধত্বকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। রাত যত গভীর হবে, ফুটপাতটাই হবে তার বিছানা। আকাশ হবে তার ছাদ, আর বৃষ্টির শব্দ হবে রাতের সঙ্গীত।

আমরা প্রতিদিন অসংখ্য খবর পড়ি, অসংখ্য ঘটনা দেখি। কিন্তু এমন একটি মানুষের নীরব কান্না কোনো শিরোনাম হয় না। কারণ তিনি গুরুত্বপূর্ণ নন; তিনি ভোট নন, ক্ষমতা নন, আলোচনার বিষয়ও নন।

হয়তো আগামীকালও তিনি এখানেই বসে থাকবেন। আবারও হাজার মানুষ তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাবে। কেউ তাকাবে না, কেউ থামবে না। তবু পৃথিবী তখনও দাবি করবে—মানুষ নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে মানবিক প্রাণী।

হয়তো সত্যিকারের মানবতা শুরু হয় না বড় বড় দান দিয়ে; শুরু হয় একটি প্রশ্ন থেকে—”আপনি কি আজ কিছু খেয়েছেন?” কখনো কখনো একটি উষ্ণ দৃষ্টি, একটি শুকনো কাপড়, কিংবা এক প্লেট ভাতই একজন মানুষের কাছে পুরো পৃথিবী হয়ে উঠতে পারে।

লেখক : সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

শিশুর বারবার ঠান্ডা-কাশি কেন হয়? কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

ডা. মো. শাহিনুল ইসলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ
শিশুর বারবার ঠান্ডা-কাশি কেন হয়? কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

“ডাক্তার সাহেব, আমার বাচ্চার ঠান্ডা-কাশি যেন ভালোই হতে চায় না! ওষুধ খেলে কিছুদিন ভালো থাকে, আবার শুরু হয়ে যায়। কেন এমন হচ্ছে?”

চেম্বারে অভিভাবকদের কাছ থেকে এই প্রশ্নটি প্রায়ই শুনা যায়। আসলে শিশুদের বারবার ঠান্ডা-কাশি হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সব শিশুর কারণও এক নয়।

🔹 প্রধান কারণগুলো হলো—

১. বারবার ভাইরাস সংক্রমণ:

ছোট শিশুদের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। স্কুল, ডে-কেয়ার বা অন্য শিশুদের সংস্পর্শে এলে তারা বারবার বিভিন্ন ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তাই বছরে কয়েকবার ঠান্ডা-কাশি হওয়া অনেক শিশুর ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক।

২. অ্যালার্জির প্রবণতা:

যেসব শিশুর নিজের বা পরিবারের সদস্যদের অ্যালার্জি, অ্যাজমা বা একজিমার ইতিহাস আছে, তাদের বারবার নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, নাক বন্ধ ও কাশি হতে পারে।

৩. অ্যাজমা বা বারবার Wheezing হওয়া:

শিশুর কাশির সঙ্গে যদি বুকে বাঁশির মতো শব্দ হয়, শ্বাসকষ্ট হয়, রাতে বা ভোরে কাশি বাড়ে অথবা দৌড়ালে-খেলাধুলা করলে কাশি বেড়ে যায়—তাহলে অ্যাজমা বা wheezing-এর প্রবণতা আছে কি না, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

৪. নাকের অ্যালার্জি ও অ্যাডিনয়েড বড় হওয়া:

শিশুর নাক বন্ধ থাকা, মুখ হাঁ করে ঘুমানো, নাক ডাকা, বারবার সর্দি হওয়া এবং গলায় সর্দি পড়ার কারণে দীর্ঘদিন কাশি থাকতে পারে।

৫. পরিবেশগত কারণ:

ধুলাবালি, ধোঁয়া, সিগারেটের ধোঁয়া, বায়ুদূষণ, তীব্র সুগন্ধি বা অন্যান্য irritant শিশুর শ্বাসনালির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

৬. অপুষ্টি ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা:

শিশুর সুষম পুষ্টির অভাব বা কিছু অন্তর্নিহিত অসুস্থতার কারণে সংক্রমণের প্রবণতা বাড়তে পারে। তবে বারবার ঠান্ডা-কাশি হলেই শিশুর “রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম”—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

৭. কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য রোগ:

দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ, যক্ষ্মা, জন্মগত হৃদ্‌রোগ, ফুসফুসের সমস্যা, খাবার বা অন্য কিছু শ্বাসনালিতে চলে যাওয়া এবং বিরল ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সমস্যার কারণেও বারবার বা দীর্ঘদিন কাশি হতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

শিশুর শ্বাসকষ্ট হলে, বুক দেবে গেলে, ঠোঁট নীলচে হয়ে গেলে, দীর্ঘদিন জ্বর থাকলে, কাশির সঙ্গে রক্ত গেলে, বারবার নিউমোনিয়া হলে, ওজন না বাড়লে বা শিশুকে বারবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হলে অবশ্যই বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।

অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ:

শিশুর বারবার ঠান্ডা-কাশি হলেই ভয় পাবেন না, আবার অবহেলাও করবেন না।

শুধু প্রতিবার কাশির ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোই সমাধান নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো—কেন শিশুর বারবার ঠান্ডা-কাশি হচ্ছে, সেই কারণটি খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও নিয়মিত ফলোআপ করা।

মনে রাখবেন, সঠিক কারণ নির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসা এবং নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে অধিকাংশ শিশুর বারবার ঠান্ডা-কাশির সমস্যা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

লেখক: শিশু বিশেষজ্ঞ, ফরিদপুর

ফরিদপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় দিনদুপুরে এক ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ছত্রকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ব্যবসায়ী সৈয়দ সোহরাব আলী (৪৮) বর্তমানে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সহস্ররাইল বাজারের রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ সোহরাব আলী বুধবার সকালে ব্যবসার প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে আলফাডাঙ্গার দিকে রওনা হন। পথে ছত্রকান্দা এলাকার খালেক মাস্টারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে মুখোশধারী তিন দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে।

এ সময় দুর্বৃত্তরা তার কাছে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় সোহরাব আলীকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আলামত সংগ্রহ করে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, আহত সোহরাব আলীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার বাঁ পায়ে গভীর ক্ষত হওয়ায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম রয়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”