কারা বেশি হাসে, পুরুষ নাকি নারী?
হাসি মানুষের একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য হলেও নারী ও পুরুষের হাসির ধরণ এবং হাসানোর ক্ষমতার মধ্যে কিছু চমৎকার পার্থক্য রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যদিও আমরা সবাই হাসতে ভালোবাসি, তবুও কে হাসছেন আর কে হাসাচ্ছেন—এই ক্ষেত্রে লিঙ্গভেদে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
কে বেশি হাসেন?
রবার্ট প্রোভাইন নামক একজন গবেষকের ১২০০টি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ ও নারী উভয়ই হাসলেও নারীরাই বেশি হাসেন। বিশেষ করে যখন দুই বা ততোধিক নারী একত্রে কথা বলেন, তখন হাসির মাত্রা থাকে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, পুরুষরা নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় নারীদের তুলনায় প্রায় অর্ধেক পরিমাণ কম হাসেন। এমনকি নারী-পুরুষের মিশ্র আড্ডায় দেখা গেছে, নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় ১২৬ শতাংশ বেশি হাসেন। সহজ কথায়, পুরুষরা হাসানোর ভূমিকা পালন করেন আর নারীরা সেই হাসির মূল দর্শক হিসেবে আবির্ভূত হন।
হাসানোর কারিগর কে?
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা সাধারণত কৌতুক বা রসিকতার মাধ্যমে অন্যকে হাসাতে বেশি পছন্দ করেন। শৈশবের ‘ক্লাস ক্লাউন’ বা ক্লাসের কৌতুকপ্রিয় ছাত্রটি সাধারণত একজন ছেলেই হয়ে থাকে। সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটও এখানে ভূমিকা রাখে। যেমন: কমেডি শো বা লাইভ সার্কিটগুলোতে পুরুষ কমেডিয়ানদের আধিপত্য বেশি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা রসবোধ সম্পন্ন পুরুষদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন এবং পুরুষরাও এমন নারীদের পছন্দ করেন যারা তাদের রসিকতার প্রশংসা করেন।
মস্তিষ্কের রসায়ন কী বলে?
নারীদের এই বেশি হাসার পেছনে মস্তিষ্কের গঠন ও নিউরোকেমিস্ট্রির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মজার কোনো কার্টুন বা কৌতুক শোনার সময় নারীদের মস্তিষ্কের ‘ডোপামিন’ বা রিওয়ার্ড সেন্টার এবং শব্দ তৈরির অঞ্চলগুলো পুরুষদের তুলনায় বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। জোকসটি যত বেশি মজার হয়, নারীদের মস্তিষ্কের কোষগুলো তত বেশি আনন্দিত হয়। অন্যদিকে, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সক্রিয়তা মাঝারি মানের থাকে। ধারণা করা হয়, নারীরা অনেক বেশি খোলা মনে রসিকতা গ্রহণ করেন, যেখানে পুরুষরা কৌতুক বলার সময় প্রত্যাশার চাপে থাকেন বলে নিজেরা ততটা আনন্দ পান না।
সম্পর্কের সেতুবন্ধনে হাসি
হাসি কেবল বিনোদন নয়, এটি দুজনের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন দম্পতির মধ্যে ৯ জনই মনে করেন সুস্থ সম্পর্কের জন্য রসবোধ অত্যন্ত জরুরি।
সুখী ও দীর্ঘস্থায়ী দম্পতিরা (যারা ৪৫ বছরের বেশি সময় একসাথে আছেন) মনে করেন, তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো একসাথে হাসতে পারা।
মানুষ একা থাকলে কেবল মুচকি হাসে, কিন্তু প্রাণ খুলে হাসার জন্য অন্য একজনের সঙ্গ প্রয়োজন হয়। পরিশেষে বলা যায়, নারী ও পুরুষের হাসির এই বৈচিত্র্য আসলে একে অপরের পরিপূরক। পুরুষরা হাসির খোরাক জোগাতে ভালোবাসেন আর নারীরা সেই হাসিতে মেতে উঠে সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলেন।
তথ্যসূত্র: সাইকোলজি টুডে.কম

আপনার মতামত লিখুন
Array