খুঁজুন
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ, ১৪৩২

ক্ষমতা আইনকে অপহরণ করেছে

জিয়াদ মোতালা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
ক্ষমতা আইনকে অপহরণ করেছে

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের কোনো ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। এটিকে সীমান্তের বাইরে বিস্তৃত কোনো বৈধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ বলা যায় না। এটি আসলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নগ্ন শক্তির প্রকাশ। এক ধরনের রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন, যেখানে কোনো আড়াল বা লজ্জা নেই।

এখানে আইনের জায়গা দখল করেছে ক্ষমতা। ন্যায়নীতির বদলে প্রাধান্য পেয়েছে নিজের পছন্দ ও স্বার্থ। বলপ্রয়োগকে দেখানো হচ্ছে নৈতিকতা ও সদগুণ হিসেবে। কিন্তু এটি আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা নয়। বরং নীরবে সেই শৃঙ্খলাকেই হত্যা করা হচ্ছে।

যখন একটি রাষ্ট্র আইনকে অপহরণ করে অন্য একটি রাষ্ট্রের নেতাকে অপহরণের বৈধতা দেখাতে চায়, তখন সে আইন বা শৃঙ্খলা রক্ষা করে না, বরং সে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে তার আইনের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই। এ ধরনের কাজ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে না; উল্টো তা ভেঙে ফেলে এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এটি শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে অন্য একটি দেশের আগ্রাসন নয়। এটি বিশ্বব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা, যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্র চাইলে আইনকে পাশ কাটিয়ে নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারে। আর সেখানেই সবচেয়ে বড় বিপদ লুকিয়ে আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা কোনো দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের কোথাও কোনো ভিত্তি পায় না, একেবারেই না। এটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবেও গ্রহণযোগ্য নয়। আবার এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো পদক্ষেপও নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনেক কিছু হতে পারে, কিন্তু এটি কখনোই এমন কোনো খোলা অনুমতিপত্র নয়, যার মাধ্যমে বড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো অপহরণ করে সরকার পরিবর্তন করার অধিকার পায়।

মানবাধিকার লঙ্ঘন বা মাদক পাচারের অভিযোগ দেখিয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার যে দাবি তোলা হচ্ছে, তা বিশেষভাবে ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক। কারণ, আন্তর্জাতিক আইনে এমন কোনো নিয়মই নেই। কোনো চুক্তিতে নেই, প্রথাগত আইনে নেই, এমনকি কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি ব্যাখ্যা বা বিচারিক সিদ্ধান্তেও নেই।

মানবাধিকার আইন মূলত রাষ্ট্রগুলোকে কিছু আচরণগত মানদণ্ড মেনে চলতে বাধ্য করে। কিন্তু এই আইন কোনো রাষ্ট্রকে একতরফাভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে অন্য দেশের নেতাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় না। যদি এমনটাই নিয়ম হতো, তাহলে বিশ্ব সবসময়ই এক ধরনের ‘আইনসম্মত বিশৃঙ্খলার’ মধ্যে ডুবে থাকত।

আসলে যুক্তরাষ্ট্র যদি এ তথাকথিত নীতির ব্যাপারে সত্যিই আন্তরিক হতো, তাহলে তাদের অবস্থানে ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি ছিল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এ নিয়ে বিস্তৃত নথি রয়েছে এবং গণহত্যার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগও উঠেছে। সেই যুক্তি মানলে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আটক করার পক্ষে আইনগত ও নৈতিক যুক্তি আরও বেশি জোরালো হতো।

এ বাস্তবতা দেখায় যে, এখানে আসলে নীতি বা আইন নয়, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সুবিধাই মুখ্য হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক আইনকে বেছে বেছে ব্যবহার করা হচ্ছে নিজের স্বার্থে। আর এর ফল হচ্ছে এমন এক বিশ্বব্যবস্থা, যেখানে আইন দুর্বলদের জন্য কঠোর, কিন্তু শক্তিশালীদের জন্য প্রায় অকার্যকর। তবুও এ ধরনের কোনো যুক্তি বাস্তবে বিবেচনাই করা হয় না। এর কারণ খুবই স্পষ্ট। এখানে আইন কাজ করছে না; কাজ করছে ক্ষমতা। ক্ষমতাই ঠিক করছে কে লক্ষ্যবস্তু হবে আর কে হবে না।

সরকার পরিবর্তন বা রেজিম চেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘদিনের অভ্যাস, যার পেছনে স্পষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে। ১৯৫৩ সালে ইরান, ১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালা, ১৯৭৩ সালে চিলি এবং ২০০৩ সালে ইরাক। এসব ঘটনাই দেখায় যে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার অন্য দেশের সরকার পরিবর্তনে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত থেকেছে।

কিন্তু কোনো দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানকে অপহরণ করা একেবারেই নতুন এবং আরও ভয়ংকর এক ধাপ। এটি নৈতিক বা রাজনৈতিক দিক থেকে শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং এটি সেই আচরণ, যাকে ঠেকানোর জন্যই ১৯৪৫ সালের পরের আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। বলপ্রয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা কোনো ছোটখাটো নিয়ম নয়, কোনো আনুষ্ঠানিক জটিলতাও নয়। এটি আন্তর্জাতিক আইনের মূল ভিত্তি, তার প্রাণকেন্দ্র।

এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো অনুমোদন ছাড়াই শক্তি প্রয়োগ করার অর্থ হলো, খোলাখুলিভাবে ঘোষণা করা যে, আইন শুধু দুর্বলদের জন্য, শক্তিশালীদের জন্য নয়। এর মাধ্যমে বলা হচ্ছে, নিয়ম মানতে হবে শুধু তাদেরই, যাদের হাতে ক্ষমতা নেই।

যুক্তরাষ্ট্র এ বাস্তবতা খুব ভালো করেই বোঝে। তারা জানে যে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের মূল নীতিগুলো ভেঙে ফেলছে। তবুও তারা তা করছে। আর এ কাজের মধ্য দিয়েই তারা আসলে জাতিসংঘ সনদভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ময়নাতদন্ত চালাচ্ছে। অর্থাৎ, যে ব্যবস্থা বিশ্বকে যুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করার জন্য তৈরি হয়েছিল, সে ব্যবস্থাকেই ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

এ পচন এখানেই থেমে যায়নি। ওয়াশিংটন বহুবার জাতিসংঘ সনদ এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তির অধীনে নিজেদের দায়িত্ব লঙ্ঘন করেছে। যেসব কর্মকর্তা তাদের পছন্দ নয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে। গত বছর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে সরাসরি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে না দেওয়া কোনো কূটনৈতিক ভুল বা সামান্য অসৌজন্য ছিল না। এটি ছিল বিশ্বের প্রধান বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাগতিক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট চুক্তিভঙ্গ।

এ ঘটনার বার্তা ছিল একেবারে পরিষ্কার। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার এবং জাতিসংঘ সনদ মানার বিষয়টি এখন আর সবার জন্য সমান নয়; এটি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের ওপর।

জাতিসংঘ তৈরি করা হয়েছিল ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, ক্ষমতার তোষামোদ করার জন্য নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ সংস্থা ক্রমেই গুরুতর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ভেটো ক্ষমতার কারণে অচল হয়ে পড়া, স্বাগতিক দেশের চাপে নত হওয়া এবং সনদ ভাঙতে সক্ষম সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর দ্বারা উপেক্ষিত হওয়ার ফলে, জাতিসংঘ ধীরে ধীরে আইনের রক্ষক থেকে আইনের ক্ষয়কে বৈধতা দেওয়ার এক ধরনের মঞ্চসজ্জায় পরিণত হয়েছে।

এক সময় সত্য অস্বীকার করা আত্মপ্রবঞ্চনায় পরিণত হয়। এ ব্যবস্থা তার মূল প্রতিশ্রুতিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ এই নয় যে, আন্তর্জাতিক আইন অবাস্তব বা সরল চিন্তার ফল। যে রাষ্ট্র এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী, সে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আইন মানা ঐচ্ছিক।

এ কারণে এখন সে কথাটাই বলার সময় এসেছে, যা এতদিন বলা হয়নি। জাতিসংঘের সদর দপ্তর স্থায়ীভাবে এমন কোনো দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত, যে দেশ চুক্তিগত দায়বদ্ধতাকে বিরক্তিকর বাধা হিসেবে দেখে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি নতুন, বাস্তবসম্মত ও গভীর আলোচনা শুরু করতে হবে এমন একটি বিকল্প বৈশ্বিক কাঠামো নিয়ে, যার কর্তৃত্ব কোনো একটি রাজধানী, একটি ভেটো ক্ষমতা বা একটি মুদ্রার কাছে জিম্মি থাকবে না। প্রয়োজন হলে এমন একটি ব্যবস্থার কথাও ভাবতে হবে, যার ক্ষমতা জাতিসংঘের চেয়েও বেশি। কারণ, জাতিসংঘকে ভেতর থেকে ধীরে ধীরে ফাঁপা করে দেওয়া হয়েছে।

আইন শুধু স্লোগান হয়ে টিকে থাকতে পারে না। হয় এটি সবচেয়ে বেশি শক্তি প্রয়োগকারীদেরও নিয়ন্ত্রণ করবে, নয়তো এটি শুধু দুর্বলদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ফাঁকা বুলি হয়ে থাকবে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে, তা কোনো শৃঙ্খলা রক্ষার উদাহরণ নয়। বরং এটি প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার জায়গা দখল করেছে ক্ষমতাবানদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ। আর পছন্দের কোনো সীমা নেই—কিছুই বেঁধে রাখতে পারে না।

লেখক: হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব লর আইন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন কেপে পরিচালিত তুলনামূলক ও আন্তর্জাতিক আইন কর্মসূচির পরিচালক ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরের বাসিন্দা তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সেই সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আলজাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন আবিদ আজাদ

ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার কিষাণহাটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় মো. আরিফ শেখ (৩৯) নামে এক ভুয়া সাংবাদিককে হাতেনাতে আটক করেছে সেনাবাহিনী। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ আইনে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফরিদপুর সেনা ক্যাম্প।

সেনা ক্যাম্প সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের একটি যৌথ দল কিষাণহাট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মো. আরিফ শেখকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নিজেকে ‘দৈনিক ঘোষণা’ পত্রিকার প্রতিনিধি দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। আটক আরিফ শেখ গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোররাতে সেনাবাহিনীর অভিযানে মো. জহির মোল্যা (৪১) নামে আরেক ভুয়া সাংবাদিককে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

সেনা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক জহির মোল্যা ও আরিফ শেখ ফরিদপুরের একটি ভূঁইফোড় সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

 

ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক অপু ঠাকুরকে অব্যাহতি

ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসিবুর রহমান (অপু ঠাকুর)-কে দলীয় সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় নাগরিক পার্টির দপ্তর সেলের সদস্য মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মো. হাসিবুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি দলীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এলে তদন্ত ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। অব্যাহতির ফলে মো. হাসিবুর রহমান এখন থেকে দলের কোনো সাংগঠনিক পদে বহাল থাকবেন না এবং দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তার কোনো ভূমিকা থাকবে না।

এ বিষয়ে দলীয় একাধিক নেতা জানান, এনসিপি একটি শৃঙ্খলাভিত্তিক রাজনৈতিক দল। এখানে ব্যক্তির চেয়ে দলের নীতি, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কাজ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই দলের অবস্থান।

ফরিদপুর জেলা এনসিপির রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়লেও কেন্দ্রীয় নেতারা আশাবাদী, দ্রুতই সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ করা হবে এবং দলীয় কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাবে।

এদিকে অব্যাহতির বিষয়ে মো. হাসিবুর রহমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে এনসিপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখছেন।

ভাঙ্গার চৌকিঘাটায় মৃত্যু ফাঁদ! ভেঙে পড়া ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষের

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫২ এএম
ভাঙ্গার চৌকিঘাটায় মৃত্যু ফাঁদ! ভেঙে পড়া ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষের

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের চৌকিঘাটা এলাকায় ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের মাঝখান ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প পথ না থাকায় কাঠ ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে পারাপার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌকিঘাটা থেকে ঘারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সহজ পথ হলো এই ব্রিজটি। কয়েক মাস আগে ব্রিজের মাঝখানে ফাটল দেখা দিলে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আংশিক মেরামত করা হলেও তা টেকসই হয়নি। সর্বশেষ গত শনিবার চৌকিঘাটা থেকে ঘারুয়া সড়কের বিটুমিন ঢালাই কাজ চলাকালে রাস্তা সমান করার রোলার ব্রিজের ওপর উঠলে আবারও ব্রিজের মাঝখান ভেঙে যায়। এরপর থেকে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, ব্রিজটি বিশ্বাস বাড়ি ও শেখ বাড়ির মাঝখানে অত্যন্ত সরু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই পাশের জমি ভরাট হয়ে গেলেও ব্রিজটি আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। ফলে ব্রিজটির কার্যকারিতা অনেকটাই হারিয়েছে। ব্রিজটি সরু হওয়ায় একসঙ্গে দুটি যানবাহন চলাচল করতে পারে না। তার ওপর দুই পাশে কোনো রেলিং না থাকায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা লিয়াকত মাতুব্বর বলেন, “প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়েই আমাদের চলাচল। বাচ্চারা স্কুলে যায়, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় এখন প্রাণ হাতে নিয়ে পার হতে হচ্ছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় নেবে কে?”

আরেক বাসিন্দা বাদল হোসেন জানান, “এখানে ব্রিজ না রেখে একটা কালভার্ট করা হলে সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। বারবার মেরামত করে লাভ নেই।”

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোহাম্মদ মালিক নাজমুল হাসান বলেন, “ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমি অবগত। আপাতত কোনো বরাদ্দ না থাকায় বড় কাজ করা সম্ভব নয়। তবে নির্বাচন শেষ হলে বরাদ্দ পেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুতই আমি নিজে সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করব।”

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ্-আবু-জাহের বলেন, “বিষয়টি আগে জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। চৌকিঘাটা মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্রিজের মাঝখান ভেঙে পড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত স্থায়ী সমাধান হিসেবে নতুন কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।