খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ক্ষমতার বিড়ম্বনা ও সুদিনে সংকট

ড. মো. শওকত হোসেন
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ক্ষমতার বিড়ম্বনা ও সুদিনে সংকট

দার্শনিক হবসের ‘লেভিয়াথান’ নামক একটি গ্রন্থ আছে। রাষ্ট্রবিষয়ক নানাবিধ আলোচনার মধ্যে রাষ্ট্র নির্মাণের পেছনের পরিস্থিতির কিছু কাল্পনিক ব্যাখ্যাও তুলে ধরেছেন তিনি এই বিখ্যাত গ্রন্থে। তার মতে, রাষ্ট্র গঠিত হওয়ার পূর্বে প্রকৃতির রাজ্য বিরাজিত ছিল। এই প্রকৃতির রাজ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি দেখিয়েছেন যে, এখানে মানুষ ছিল অবাধভাবে স্বাধীন। সবাই যথেচ্ছা সুযোগের সন্ধানে লিপ্ত ছিল। কোনো প্রতিষ্ঠান বা সুগঠিত কর্তৃপক্ষ কাউকে নিয়ন্ত্রণ করত না; যে যার মত সুযোগ নেওয়ার উন্মত্ত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিল সেই প্রকৃতির রাজ্যে।

তথাপিও যেমন খুশি তেমন ইচ্ছা অবাধ স্বাধীনতার এই জামানা মানুষের জন্য শান্তিময় ছিল না, বরং তা ছিল সংঘাতময়। এর পেছনের মনস্তাত্ত্বিক কারণ হচ্ছে : মানুষের চাহিদা অপরিসীম, মানুষ অল্পে তৃপ্ত হয় না। সুযোগ অবারিত থাকলে যে যার মতো করে সর্বোচ্চ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। আর এই অবস্থা কারো জন্য সুখকর হয় না, এই কারণে যে, কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না। তাই তথাকথিত নিকটজন বলতে কেউ থাকেনা। সবাই সবার সাথে প্রতিযোগিতা করে; আর এই প্রতিযোগিতার এক পর্যায়ে সংঘাত ও সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। প্রকৃতির রাজ্যের অবস্থা ব্যাখ্যায় এক কথায় এই বাস্তবতাকে হবস চিহ্নিত করেছেন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রত্যেকের যুদ্ধ হিসেবে। আসলে অবাধ সুযোগ সংঘাতকেই যেন স্বাগত জানায়।

রাষ্ট্র উৎপত্তির পেছনের ইতিহাস যাই হোক না কেন, আর সেক্ষেত্রে হবসের প্রকল্প সত্য হোক বা মিথ্যা হোক- সে আলোচনা এখন আর খুব দরকারি না। কেননা বাস্তবতা হলো এখন রাষ্ট্র আছে। পৃথিবীময় মানুষ এখন এক একটি রাজনৈতিক সমাজে বসবাস করছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে মানুষের সমাজজীবন পরিচালিত হচ্ছে। তবে সব রাষ্ট্রের বাস্তবতা এক রকম নয়। সরকার ব্যবস্থার ধরন অনুযায়ী অনেকাংশে রাষ্ট্রের প্রকৃতি নির্ভর করে। আর শাসনব্যবস্থার প্রকৃতি নির্ধারণ করে রাষ্ট্রের গতি-প্রকৃতি ও জনগণের সুবিধা-অসুবিধা।

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সাংবিধানিকভাবে এই রাষ্ট্রে জনগণকেই বলা হয় সকল ক্ষমতার অধিকারী। জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। যদিও সেই সরকারে জনগণের কর্তৃত্ব বা অধিকার কতটা সুরক্ষা পায় তাও নির্ভর করে শাসক শ্রেণির মানসিকতা, দক্ষতা ও রাজনৈতিক দর্শনের উপর। সংসদীয় গণতন্ত্রে আসন ভিত্তিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার তারতম অনুযায়ী সরকারের ক্ষমতা নির্ধারিত হয়। ২০২৬- এর নির্বাচনের পরে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এমনকি সংসদে দুই তৃতীয় অংশের বেশি আসন নিয়ে এক নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হয়েছে দলটি। এই বাস্তবতায় সরকারের ক্ষমতা এখন একচ্ছত্র। আর যেহেতু এটি একটি দলীয় সরকার, তাই সরকারি দলের নেতা কর্মী সমর্থক ও সুনজরপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণের সামনে এখন সৃষ্টি হয়েছে অবারিত সুযোগ, অপার সম্ভাবনা। সংগত কারণেই এই বাস্তবতায় এইসব সুযোগধারী বা সম্ভাবনাময়ী ব্যক্তিবর্গের মধ্যেও তৈরি হয়েছে এক ধরনের নিরলস প্রতিযোগিতা। অনেকেই বিরতিহীনভাবে দৌড়াচ্ছেন। কোনটা রেখে কোনটা নেবেন, কোথায় গিয়ে থামবেন-তা কেউ কেউ বুঝে উঠতে পারছেন না।

রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘হেথা নয়- অন্য কোথা, অন্য কোথা— অন্য কোনখানে?’ কেউ পাচ্ছেন, কেউ পাচ্ছেন না, কেউ কম পাচ্ছেন, আবার কেউ যা পাওয়ার কথা তার চেয়েও বেশি পাচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন যে, পেয়ে খুশি হওয়া মানুষের চেয়ে না পেয়ে বা অল্প পেয়ে অখুশি মানুষের সংখ্যাই বেশি। আরো ছোট করে বললে সরকার দলের অসংখ্য চাহিদাওয়ালা মানুষই থেকে যাচ্ছে নাখোশ, এমনকি ক্ষুব্ধ। দলের উপর, দলের কোনো কোনো নেতার উপর, সরকারের উপর, এমনকি সহযোদ্ধা প্রিয়জনদের উপরও অনেকেই হয়ে উঠছেন ক্রমশ আস্থাহীন।

এই বাস্তবতা দার্শনিক হবসের প্রকৃতির রাজ্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এবং সুবিধার সন্ধানে প্রতিদ্বন্দ্বী মানুষের মধ্যে সম্পর্কের বাঁধন বিনষ্ট হয়ে সংঘাত যদি ব্যাপকতার হয়ে ওঠে, তবে তা নিতান্তই অশনি সংকেত। সরকারের বড় পদে গেলে বা সরকার পরিচালনার উচ্চ অবস্থায় অধিষ্ঠিত হলে অনেক সময় এই বাস্তবতাকে টের পাওয়া যায় না। কেননা সবাই তাদের কাছে তোষামোদি করেন, দলের প্রতি দেশের প্রতি তাদের কমিটমেন্ট ও প্রেম দেখানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে তারা যে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে ভিতর থেকে দলের শক্তিকেই খর্ব করে ফেলে তা বাইরে থেকে অনেক সময় বোধগম্য হয় না।

এমন পরিস্থিতিতে বিরুদ্ধ পক্ষ অর্থাৎ সরকারবিরোধীরা, এমনকি দেশবিরোধীরাও সুযোগ করে নেওয়ার বা দলীয়ভাবে সংগঠিত হওয়ার এবং শক্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পায়। সরকারি দলের পক্ষেও সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় সেবা সুচারুভাবে পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনা ব্যাহত হয়। শাসক দলের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দল পরিচালনা এবং দলকে জনবান্ধব হিসেবে ধরে রাখাও ক্রমশ কঠিন হয়ে ওঠে।

ভূমিধস বিজয় নিয়ে গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তাদের অনুসারীদের দৌড় সামলানো, সংঘাত এড়ানো এবং সমন্বিতভাবে সুযোগসমূহের যুক্তিযুক্ত সুনিপুণ বণ্টনের। দল ঠিক রাখতে হলে অনেককেই যেমন অখুশি করা যায় না, তেমনি নানামুখী চাহিদাধারীদের মধ্যে সুসমন্বয় করা একটি জটিল যজ্ঞ। ছোট মাঝারি নেতা কর্মী সমর্থকরা যখন দেখে দুঃসময়ে সকলেই একসাথে ছিল, নির্যাতন নিষ্পেষণ সবকিছু সহ্য করেছে, বিভিন্নভাবে বঞ্চিত হয়েছে, কিন্তু সুসময়ে এসে মুষ্টিমেয় মানুষেরাই শুধু সৌভাগ্যের পরশ পাচ্ছে, তাহলে তাদের মনে না পাওয়ার যন্ত্রণা ক্রমশ বেড়ে চলবে, ক্ষোভ দানা বাঁধবে।

বর্তমান বাস্তবতায় অনেকেই অনেক আলোকিত আলয়ে সৌভাগ্যের সাহচর্য নিতে দেখা যাচ্ছে। আবার কাউকে কাউকে গাড়ির পেছনে দৌড়াতে, নিরাপত্তাকর্মীদের অথবা নিজ দলের অপেক্ষাকৃত বড় কর্তাদের ধাক্কা খেতে দেখা যাচ্ছে। যেসব নেতা অনেক বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে দৈনন্দিন ওঠা-বসা ও যোগাযোগ রাখতেন, তারা কেউ কেউ সৌভাগ্যবান হাওয়ায় ঐসকল পরিচিত জনের ফোন কল পর্যন্ত ইগনোর করছেন। তারা ভীষণ ব্যস্ত- দেশ জাতির বড় বড় দায়িত্ব নিয়ে। আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে এসবের বিরূপ প্রতিফলন হতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই।

সুস্থতা যে কত নিয়ামত এবং অসুখ যে কত যন্ত্রণাময়, তা যেমন সুস্থ অবস্থায় উপলব্ধি করতে হয়; তেমনি অবারিত সুদিন আসলে দুর্দিনের দুরবস্থা এবং অনাহুত অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত আগামীর কথা যথাযথভাবে চেতনায় রাখাটাই জরুরি কাজ হওয়া উচিত।

লেখক : অধ্যাপক (দর্শন বিভাগ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

কেন কিছু লোকের অল্প খেয়েও ওজন বেড়ে যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
কেন কিছু লোকের অল্প খেয়েও ওজন বেড়ে যায়?

শুধু অতিরিক্ত খাওয়ার ফলেই শরীরে মেদ জমে না। চিনি, হরমোন, ঘুম, মানসিক চাপ থেকে শুরু করে জীবনযাত্রা পর্যন্ত—এই সবকিছুই প্রতিদিন সূক্ষ্মভাবে ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরে কেন সহজে চর্বি জমে এবং ওজন বাড়ে, তা বুঝতে হলে প্রথমে আমাদের দেখতে হবে শরীরে কীভাবে চর্বি তৈরি হয়। জাতীয় পুষ্টি ইনস্টিটিউটের প্রাপ্তবয়স্ক পুষ্টি পরীক্ষা ও পরামর্শ বিভাগের প্রধান ড. ত্রান চৌ কুয়েনের মতে, এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ‘ব্যয়ের চেয়ে বেশি গ্রহণ’ করার পরিস্থিতি।

যখন খাবার ও পানীয় থেকে গৃহীত ক্যালোরির পরিমাণ শরীর দ্বারা ব্যয়িত শক্তির চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন অতিরিক্ত ক্যালোরি বিপাকিত হয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়।

চর্বি জমার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আসল সত্য:

ডঃ কুয়েনের মতে, এই প্রক্রিয়ায় চিনির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্রহণ করা চিনি যখন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহৃত হয় না, তখন শরীর সেটিকে ট্রাইগ্লিসারাইডে—যা চর্বির প্রাথমিক রূপ—রূপান্তরিত করে এবং ফ্যাট কোষে জমা রাখে। এ কারণেই অনেকে সুন্দর ত্বকের আশায় প্রচুর ফল খেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ওজন বেড়ে যায়। যদি ফলের মধ্যে থাকা চিনির পরিমাণ শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়, তবে সেই অতিরিক্ত অংশও চর্বিতে রূপান্তরিত হতে পারে।

উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবার, বিশেষ করে যেগুলোতে চিনি ও চর্বির পরিমাণ বেশি, তা শরীরে চর্বি জমাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় এবং উচ্চ-চর্বিযুক্ত নাস্তা গ্রহণের ফলে সময়ের সাথে সাথে শরীরে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত শক্তি জমা হতে থাকে।

এছাড়াও, সারাদিনে খাবার গ্রহণের ধরণও বিপাক ক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত খাওয়া বা গভীর রাতে খাওয়া শরীরের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করতে পারে, বিপাকীয় দক্ষতা কমিয়ে দিতে পারে এবং শরীরে চর্বি জমার কারণ হতে পারে,” বিশেষজ্ঞ বলেছেন।

হরমোনগত কারণগুলোও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি খাবারের পর, শরীর ইনসুলিন নিঃসরণ করে যা কোষগুলোকে গ্লুকোজ শোষণ করতে এবং তা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। যখন কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, তখন গ্লুকোজ দক্ষতার সাথে শোষিত হয় না এবং এর পরিবর্তে তা চর্বিতে রূপান্তরিত হয়ে জমা হয়। এছাড়াও, লেপটিন এবং ঘ্রেলিনের মতো হরমোনগুলো ক্ষুধা এবং তৃপ্তির অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, তবে খাদ্য গ্রহণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যেতে পারে।

অলস জীবনযাপনও এর আরেকটি সাধারণ কারণ। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শক্তি ব্যয় কমে যায়, অথচ ক্যালোরি গ্রহণ অপরিবর্তিত থাকে, যার ফলে শরীরে চর্বি জমতে থাকে।

এছাড়াও, ঘুম এবং মানসিক চাপও এই প্রক্রিয়াটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে। অপর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যার ফলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাওয়া বেড়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় – এই হরমোনটি চর্বি জমার সাথে সম্পর্কিত, বিশেষ করে পেটের অংশে।

ডঃ চৌ কুয়েন মনে করেন যে আচরণগত এবং পরিবেশগত কারণগুলোও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবেগপ্রবণ খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত খাওয়া, অথবা বৈজ্ঞানিক খাদ্যতালিকার উপর আস্থার অভাব সহজেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণের দিকে পরিচালিত করে। অন্যদিকে, সুবিধাজনক দোকান থেকে শুরু করে বাড়িতে ফাস্ট ফুড মজুত করার অভ্যাস পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যাপক সহজলভ্যতা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়াকে আরও কঠিন করে তোলে।

উপরে উল্লিখিত কারণগুলো ছাড়াও, জিনগত কারণও প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরে মেদ জমার প্রবণতাকে প্রভাবিত করে। বিজ্ঞান বিপাকের হার, মেদ বণ্টন এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু জিন শনাক্ত করেছে।

উদাহরণস্বরূপ, FTO জিনের বিভিন্ন রূপ উচ্চ বডি মাস ইনডেক্স (BMI) এবং স্থূলতার ঝুঁকি বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। এছাড়াও, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং পরিবেশগত কারণসমূহ জিনের প্রকাশকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে বিপাক এবং চর্বি সঞ্চয়ও প্রভাবিত হয়।

প্রতিদিন শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শ দিয়েছেন:

অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে শুধু ওজনই বাড়ে না, বরং এটি স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং কিছু ধরণের ক্যান্সারের মতো অসংখ্য স্বাস্থ্য সমস্যার সাথেও জড়িত। তাই, এর প্রতিরোধে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রথমত, ডঃ কুয়েনের মতে, সমস্ত খাদ্য গোষ্ঠীর পর্যাপ্ত পরিমাণ সহ একটি সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে সবুজ শাকসবজি, তাজা ফল, শস্যদানা এবং মাছ, শিম ও বাদাম থেকে প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সাথে, সম্পৃক্ত চর্বি, পরিশোধিত চিনি এবং ফাস্ট ফুড সীমিত করা উচিত। বিচক্ষণতার সাথে খাবার বেছে নিলে তা কেবল ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না, বরং শরীরকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজও সরবরাহ করে।

এর পাশাপাশি, একটি সক্রিয় জীবনধারা বজায় রাখা অপরিহার্য। হাঁটা, সাইকেল চালানো, নাচ বা যোগব্যায়ামের মতো কার্যকলাপ অতিরিক্ত শক্তি পোড়াতে, বিপাকক্রিয়া বাড়াতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে।

“প্রত্যেকেরই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক কার্যকলাপের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যায়ামের সুযোগগুলো কাজে লাগানো উচিত, যেমন—সিঁড়ি ব্যবহার করা, কেনাকাটার সময় হাঁটা, অথবা কাজের বিরতিতে স্ট্রেচিং ও হালকা ব্যায়াম করা,” বলেছেন ড. কুয়েন।

ঘুমও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমালে তা হরমোন নিয়ন্ত্রণে, খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কমাতে এবং শক্তি বিপাকে সহায়তা করে। এছাড়াও, ধ্যান, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস বা অন্যান্য আরামদায়ক কার্যকলাপের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করলে আবেগপ্রবণ হয়ে খাওয়ার প্রবণতা কমে যেতে পারে।

সূত্র: https://znews.vn/vi-sao-an-it-van-beo-can-nang-tang-post1626550.html

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব বিএস ডাঙ্গী অবস্থিত পরিত্যাক্ত জেলখানার একটি ভবনের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি প্রতি দিনের মতন বাড়ির পাশের পরিত্যাক্ত ওই জেলখানার উন্মুক্ত স্থানে খেলা করতে আসে। এ সময় শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে আলতাফ ওরফে আদু (৬৫) তাকে পাশেই পরিত্যাক্ত একটি ভবনের বারান্দায় ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। অভিযুক্ত আদু ওই ভবনের পাশেই একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আদুর বর্তমান স্ত্রী প্রতিবন্ধী। সে পেশায় একজন ভ্যান চালক। শিশুটি মাঝে মধ্যেই আদুর মেয়েদের সাথে খেলা করতে আদুর বাড়ির সামনে আসত।

ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী এক নারী জানান, তিনি ও তার বোন সকালে জেলখানার সামনের ওই স্থান দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তিনি খারাপ কাজ করার দৃশ্য দেখতে পায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন স্বামী স্ত্রী হতে পারে, পরে তিনি আবার তাকিয়ে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে ওই স্থানে এগিয়ে যান।

তিনি বলেন, তাকে দেখে আদু শিশুকে প্যান্ট পরিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টো করে। তখন ওই নারী এগিয়ে গিয়ে আদুকে শাসালে আদু পালিয়ে যায়।পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা নিজেদের সন্তান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

এই ঘটনার বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় শিশুটির নানী বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছেন।

সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পশুর হাট বসিয়ে লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিঁয়াজখালী বাজার এলাকায় এ পশুর হাট বসানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হান্নান চাকলাদার নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করছেন। হাটে আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত খাজনার চাপে পড়ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হান্নান চাকলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ওই বাজারে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে উনারা জেলা প্রশাসকের আবেদন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।