খুঁজুন
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১৫ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুর-২ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস, জটিল সমীকরণে ভোটের হিসাব

এহসানুল হক, ফরিদপুর ও মিজানুর রহমান বাবু, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৩ পিএম
ফরিদপুর-২ আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস, জটিল সমীকরণে ভোটের হিসাব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে জমে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও স্থানীয় ভোটারদের বিশ্লেষণ বলছে, চূড়ান্ত লড়াই মূলত দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। নির্বাচনী প্রচারণা, সংগঠনিক শক্তি ও ভোটের সম্ভাব্য সমীকরণ—সবকিছু মিলিয়ে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওয়ায়েদ ইসলাম রিংকু মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (১১ দলীয় জোট) মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ মো. আকরাম আলী ধলা হুজুর। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক কাঠামো, ব্যক্তিগত প্রভাব এবং ভোটের সম্ভাব্য স্থানান্তর—এসব বিবেচনায় এই দুই প্রার্থীর মধ্য থেকেই আগামী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

তবে কেবল এই দুই প্রার্থীই নন, আরও চারজন প্রার্থী রয়েছেন নির্বাচনী দৌড়ে। তারা হলেন—গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের ফারুক ফকির, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকের মো. নাজমুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের শাহ মো. জামাল উদ্দীন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকের মো. আকরামুজ্জামান মিয়া। যদিও স্থানীয়ভাবে তাদের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং সাংগঠনিক উপস্থিতিও কম চোখে পড়ছে।

ভোটার ও কেন্দ্রের পরিসংখ্যান:

ফরিদপুর-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯০৪ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ জন। আসনটিতে মোট ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জটিল সমীকরণে ভোটের হিসাব:

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে ভোটের সমীকরণ অত্যন্ত জটিল। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—এই দুই দলই এ আসনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তাদের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ বিএনপিসহ বিভিন্ন দলে সক্রিয় হয়েছেন। ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোনদিকে যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নগরকান্দা উপজেলার এক ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগের ভোট এবার ছড়িয়ে যেতে পারে। কেউ বিএনপিতে গেছে, কেউ আবার নিরপেক্ষ আছে। শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।”

সালথা উপজেলার এক তরুণ ভোটার সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আমরা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান চাই। শুধু দল নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাও এবার বড় ফ্যাক্টর।”

ধর্মভিত্তিক ভোটের প্রভাব:

ফরিদপুর-২ আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কওমি মাদরাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে আলেম-ওলামা ও ধর্মভিত্তিক ভোটারদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খেলাফত মজলিস প্রার্থীর পক্ষে ধর্মীয় নেতাদের একটি অংশ সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বিএনপিও স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদ-মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করেছে।

নগরকান্দার এক মাদরাসা শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। প্রার্থীদের মধ্যে যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেবে, তাকেই সমর্থন দেব।”

প্রচারণায় কারা এগিয়ে?

মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, বিএনপি প্রার্থী শামা ওয়ায়েদ ইসলাম রিংকু দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রচারণা বেশ সক্রিয়। অন্যদিকে খেলাফত মজলিস প্রার্থী আকরাম আলী ধলা হুজুরও ধর্মীয় সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিকভাবে বিএনপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও ধর্মভিত্তিক ভোটের একীভূত সমর্থন খেলাফত মজলিস প্রার্থীর পক্ষে গেলে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে।

সংঘর্ষের আশঙ্কা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি:

স্থানীয়দের মধ্যে নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কাও রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এবারও প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সালথার এক প্রবীণ ভোটার হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চাই। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।”

জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও মোবাইল টিম প্রস্তুত রাখা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।

শেষ মুহূর্তের কৌশল:

ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরদার হচ্ছে কৌশল নির্ধারণ। প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমর্থন চেয়েছেন। স্থানীয় ইস্যু যেমন—রাস্তা সংস্কার, কৃষি সহায়তা, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন—এসব বিষয় নিয়ে প্রতিশ্রুতির ঝড় তুলেছিলেন তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত কে জিতবেন তা নির্ভর করবে—আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটের গতিপথ, ধর্মভিত্তিক ভোটের সংহতি এবং নির্বাচনের দিন ভোটার উপস্থিতির উপর।

সব মিলিয়ে ফরিদপুর-২ আসনে এবারের নির্বাচন কেবল সংখ্যার লড়াই নয়, বরং কৌশল, জনপ্রিয়তা ও জোট রাজনীতির এক জটিল সমীকরণ। এখন দেখার বিষয়, ৩ লাখের বেশি ভোটারের রায়ে কার কপালে জোটে সংসদ সদস্যের আসন।

সংবাদ প্রকাশের পর চিঠি, তবুও বন্ধ হয়নি নির্মাণ—প্রশ্নে ফরিদপুর পৌরসভার কার্যকারিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম
সংবাদ প্রকাশের পর চিঠি, তবুও বন্ধ হয়নি নির্মাণ—প্রশ্নে ফরিদপুর পৌরসভার কার্যকারিতা

ফরিদপুর শহরের কাঠপট্টি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ওপর অবৈধভাবে তিনতলা নির্মাণের ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফরিদপুর প্রতিদিন-এ সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে লিখিতভাবে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ফরিদপুর পৌরসভা। তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্দেশনার পরও কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কোতয়ালী থানার উত্তর পাশে অবস্থিত মার্কেটের তৃতীয় তলার নির্মাণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্মাণাধীন স্থাপনার ভিত্তি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ করা যাবে না।

এর আগে একই দিন সকালে পৌরসভার পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিনে দেখা যায়, কিছু সময় বন্ধ থাকার পর আবারও শ্রমিকরা কাজ শুরু করে।

স্থানীয়দের দাবি, ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে গোপনে এই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর কোনো প্রকৌশল অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক তলা তোলা হচ্ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

মার্কেটের ব্যবসায়ী ও আশপাশের বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ দখল ও নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে দোকান বরাদ্দ ও জায়গা ভাগাভাগির নামে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।

আইনজীবী ও স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শুধু মৌখিক নির্দেশ নয়, এখন লিখিত নির্দেশনাও উপেক্ষিত হলে তা প্রশাসনিক দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

পৌরসভার চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে। এতে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—লিখিত নির্দেশনার পরও যদি কাজ বন্ধ না হয়, তাহলে আইন প্রয়োগ কোথায়? তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ বন্ধ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বে জোর—ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সে বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৮ পিএম
শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বে জোর—ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সে বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

ফরিদপুর জেলা পুলিশ লাইনস্ মাঠে শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের অনুশীলনে জেলা পুলিশের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড।

রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে আয়োজিত এ প্যারেডে জেলার বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।

প্যারেডে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন। প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণ করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় তিনি প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং সদস্যদের সালাম গ্রহণ করেন।

প্যারেড শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের আরও পেশাদার, দক্ষ ও দায়িত্বশীল হতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের মূল শক্তি।” তিনি সকল সদস্যকে সততা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেন।

মাস্টার প্যারেডে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দিপু, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মো. রোকুনুজ্জামান এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) আজিজুর রহমান খানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়াও বিভিন্ন থানা ও ইউনিটের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য প্যারেডে অংশ নেন। পুরো আয়োজনে ছিল শৃঙ্খলার দৃঢ় প্রতিফলন ও বাহিনীর সক্ষমতার প্রদর্শন।

জেলা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের মাস্টার প্যারেড সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সমন্বয় সাধন এবং দায়িত্ব পালনে মানসিক প্রস্তুতি জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

নতুন ছবিতে যে চমক দিতে আসছেন সালমান খান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:১৭ পিএম
নতুন ছবিতে যে চমক দিতে আসছেন সালমান খান

বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খানের ভক্তদের জন্য সুখবর। বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘মাতৃভূমি’ মুক্তির অপেক্ষার মধ্যেই নতুন প্রজেক্টে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন এই তারকা। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণী প্রযোজক দিল রাজু এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক বংশী পাইডিপল্লীর বিগ বাজেট অ্যাকশন সিনেমার শুটিং শুরু হচ্ছে আগামী ১৪ এপ্রিল।

জানা গেছে, মুম্বাইয়ের গোরেগাঁও এসআরপিএফ গ্রাউন্ডে বড় পরিসরে শুরু হবে সিনেমাটির প্রথম ধাপের কাজ।

সূত্র বলছে, এই সিনেমার জন্য তৈরি করা হচ্ছে বিশাল একটি ‘মিনি সিটি’। সেটটি এমনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে একটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের আবহ ফুটে ওঠে। ছবির প্রয়োজনে সেখানে বড় পরিসরের অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সেট নির্মাণ, অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি ও কাস্টিং—সবকিছুই প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।

এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টে পরিচালক বংশী পাইডিপল্লী সালমান খানকে নতুন এক লুকে দর্শকদের সামনে হাজির করতে যাচ্ছেন।
নাম চূড়ান্ত না হওয়া সিনেমাটিতে বলিউড ও দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকাদের উপস্থিতি থাকবে বলে আভাস মিলেছে। একটি শক্তিশালী অ্যাকশন থ্রিলার গল্পই সালমানকে এই প্রজেক্টে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানা গেছে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ২০২৭ সালে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করছে।

সালমানের বাণিজ্যিক ধারা এবং দক্ষিণী নির্মাণশৈলীর মিশেলে তৈরি এই ছবি বক্স অফিসে সাড়া ফেলবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।