খুঁজুন
, ,

“গ্রামের সেই দিনগুলি আজও মনে পড়ে”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
“গ্রামের সেই দিনগুলি আজও মনে পড়ে”

শহরের এই কংক্রিটের দেয়ালঘেরা জীবনে বসে মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি যেন নিজের ভেতরের একটা বড় অংশ হারিয়ে ফেলেছি। চারপাশে গাড়ির শব্দ, ব্যস্ত মানুষের ভিড়, সময়ের পেছনে দৌড়—সবকিছুই আছে, কিন্তু নেই সেই শান্তি, নেই সেই মায়া। আর ঠিক তখনই মনটা ফিরে যায় সেই ছোট্ট গ্রামটায়, যেখানে কেটেছিল আমার শৈশবের সোনালি দিনগুলো।

আমাদের গ্রামটা ছিল রাস্তার পাড় ঘেঁষে। বাড়ির সামনে বিশাল একটা মাঠ, তার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু কাঁচা রাস্তা। সেই রাস্তা ধরে হাঁটলেই চোখে পড়ত সবুজ ধানের ক্ষেত, যেখানে হাওয়ায় ঢেউ খেলত সোনালি শীষ। বিকেলের আলো পড়লে পুরো মাঠটা যেন সোনার মতো ঝলমল করত। আমি আর আমার বন্ধুরা তখন ছুটে যেতাম সেই মাঠে, খালি পায়ে দৌড়াতাম, কখনো লুকোচুরি খেলতাম, কখনো ঘুড়ি ওড়াতাম।

আমাদের বাড়িটা ছিল মাটির, ছনের ছাউনি দেওয়া। উঠোনে একটা বড় আমগাছ ছিল। গরমের দুপুরে সেই গাছের ছায়ায় বসে মা আম কেটে দিতেন। আমরা ভাইবোনেরা গোল হয়ে বসে খেতাম, আর হাসতাম। মা মাঝে মাঝে বকতেন, “ধীরে খা, গলায় আটকে যাবে!” কিন্তু আমরা কি আর শুনতাম? সেই টক-মিষ্টি আমের স্বাদ যেন আজও জিভে লেগে আছে।

বাবা ছিলেন খুব সহজ-সরল মানুষ। সকালে উঠে জমিতে কাজ করতে যেতেন। আমিও মাঝে মাঝে বাবার সঙ্গে যেতাম। কাঁদায় পা ডুবিয়ে হাঁটা, গরুর গাড়িতে চড়া—এসব ছিল আমার কাছে একরকম অ্যাডভেঞ্চার। বাবা কাজ করতে করতে গল্প করতেন, “দেখিস, বড় হয়ে তুই অনেক বড় মানুষ হবি।” তখন বুঝতাম না ‘বড় মানুষ’ মানে কী, শুধু বাবার চোখের স্বপ্নটা দেখতাম।

বর্ষাকাল এলে গ্রামটা যেন এক অন্য রূপ নিত। চারদিকে পানি, কচুরিপানায় ভরা খাল, আর মাঝে মাঝে বৃষ্টি। আমরা তখন নৌকা বানাতাম—কাগজের, কখনো কলাগাছের ডাঁটা দিয়ে। সেই নৌকা ভাসিয়ে দিতাম পানিতে, আর দৌড়ে দৌড়ে দেখতাম কার নৌকা কত দূর যায়। বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরলে মা রেগে যেতেন, কিন্তু পরে গরম ভাত আর ডাল দিয়ে খাওয়াতেন। সেই ভাতের স্বাদ যেন পৃথিবীর সব খাবারের চেয়েও বেশি ছিল।

শীতের সকালগুলো ছিল আরও মধুর। কুয়াশা ঢাকা মাঠ, দূরে গরুর ঘণ্টার শব্দ, আর মাটির চুলায় ধোঁয়া উঠছে। মা তখন পিঠা বানাতেন—চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা। আমরা সবাই আগুনের পাশে বসে গরম পিঠা খেতাম। ঠান্ডা বাতাস আর গরম পিঠার সেই মিলন যেন এক অপূর্ব আনন্দ এনে দিত।

স্কুলের দিনগুলোও কম স্মরণীয় ছিল না। আমাদের স্কুলটা ছিল টিনের ছাউনি দেওয়া, চারদিকে গাছপালা। ক্লাসে বসে মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতাম—পাখির ডাক, বাতাসে দুলতে থাকা গাছের পাতা—সবকিছুই মন টানত। শিক্ষকরা ছিলেন কঠোর, কিন্তু ভালোবাসায় ভরা। তারা শুধু পড়াশোনা নয়, জীবনটাকেও শেখাতেন।

আমার সবচেয়ে প্রিয় সময় ছিল বিকেল। তখন সূর্যটা ধীরে ধীরে পশ্চিমে ঢলে পড়ত, আর আকাশ লালচে হয়ে উঠত। আমরা সবাই মাঠে জড়ো হতাম। কেউ ফুটবল খেলত, কেউ ক্রিকেট, কেউবা শুধু গল্প করত। সেই হাসি, সেই চিৎকার—সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত আনন্দ ছিল।

আর ছিল গ্রামের মানুষের আন্তরিকতা। কেউ অসুস্থ হলে সবাই ছুটে যেত, কারো বাড়িতে আনন্দ হলে পুরো গ্রাম মিলে উৎসব করত। ঈদের সময় সবাই নতুন কাপড় পরে একে অপরের বাড়ি যেতাম। সেমাই, পায়েস, নানা রকম খাবার—সবকিছু ভাগাভাগি করে খেতাম। তখন মনে হতো, আমরা সবাই একটা বড় পরিবারের অংশ।

কিন্তু সময় তো থেমে থাকে না। পড়াশোনার জন্য একসময় আমাকে শহরে চলে আসতে হলো। প্রথমদিকে খুব কষ্ট হতো। রাতে ঘুমোতে গেলে গ্রামের কথা মনে পড়ত, মায়ের মুখ, বাবার হাসি, বন্ধুদের সাথে কাটানো সময়—সবকিছু চোখের সামনে ভেসে উঠত। শহরের এই ব্যস্ততা, এই যান্ত্রিক জীবন আমার কাছে অপরিচিত লাগত।

ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম, কিন্তু মনের ভেতরের সেই শূন্যতা আর ভরাট হলো না। মাঝে মাঝে ছুটিতে গ্রামে যাই। কিন্তু এখন আর আগের মতো লাগে না। অনেক কিছু বদলে গেছে। সেই মাঠে এখন আধা-পাকা বাড়ি উঠেছে, কাঁচা রাস্তা পাকা হয়েছে, অনেক পুরনো মানুষ আর নেই।

আমাদের সেই আমগাছটাও আর নেই—ঝড়ে ভেঙে গেছে। উঠোনটা এখন ছোট হয়ে গেছে, চারপাশে নতুন দেয়াল উঠেছে। বন্ধুরাও সবাই ছড়িয়ে গেছে—কেউ শহরে, কেউ বিদেশে।

তবুও যখন গ্রামের পথে হাঁটি, তখন মনে হয়—এখানেই তো আমার শিকড়। এই মাটির সঙ্গেই আমার সম্পর্ক। বাতাসে এখনো যেন শৈশবের গন্ধ পাই। দূরে কোথাও কারো হাঁকডাক, গরুর ঘণ্টার শব্দ, কিংবা সন্ধ্যার আজানের ধ্বনি—সবকিছু আমাকে আবার সেই ছোট্ট ছেলেটায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

একদিন বিকেলে নদীর পাড়ে গিয়ে বসেছিলাম। সূর্যটা ধীরে ধীরে ডুবছিল, ঠিক যেমনটা দেখতাম ছোটবেলায়। সেই দৃশ্যটা দেখে চোখে পানি চলে এসেছিল। মনে হচ্ছিল, সময়টা যদি আবার ফিরে পাওয়া যেত! যদি আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারতাম!

কিন্তু জীবন তো সামনে এগিয়ে চলে। অতীত শুধু স্মৃতি হয়ে থাকে। তবুও সেই স্মৃতিগুলোই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, আমাদের শক্তি দেয়।

আজ যখন শহরের ব্যস্ততার মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তখন চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই—সবুজ মাঠ, নদীর পাড়, মাটির ঘর, মায়ের ডাক, বাবার হাসি। মনে হয়, আমি আবার ফিরে গেছি সেই গ্রামে, সেই দিনগুলোর মাঝে।

হয়তো আর কোনোদিন সেই দিনগুলো ফিরে আসবে না। কিন্তু আমার হৃদয়ের গভীরে তারা চিরকাল বেঁচে থাকবে।
কারণ সত্যিই—গ্রামের সেই দিনগুলি আজও মনে পড়ে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

ফ্যাটি লিভার বা যকৃতের চর্বি কাটাতে আসলেই কি ‘বিটরুট’ কার্যকর?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১১ পূর্বাহ্ণ
ফ্যাটি লিভার বা যকৃতের চর্বি কাটাতে আসলেই কি ‘বিটরুট’ কার্যকর?

আধুনিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ এবং অলস জীবনযাত্রার কারণে বর্তমান নগর জীবনে বড় যে স্বাস্থ্য সংকটটি দেখা দিয়েছে, তা হল যকৃৎ বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা— যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ফ্যাটি লিভার’ বা ‘এনএএফএলডি’ বলা হয়।

লিভারে মেদ জমলে তা অলক্ষ্যেই শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিপাক ক্রিয়াকে অবশ করে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

ফ্যাটি লিভার সমস্যায় ঘরোয়া নিরাময় হিসেবে, ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও রূপচর্চার বাজারে গাঢ় লাল রংয়ের ‘বিটরুট’ বা বিটের জুস পানের প্রচারণা দেখা যায়।

‘হেলথ ডটকম’ ও ‘হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং’-এর প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদেরা জানিয়েছেন, বিটের জুস সরাসরি কোনো জাদুকরী ওষুধ নয়; তবে এতে থাকা বিশেষ খনিজ উপাদান লিভারের চর্বি গলিয়ে কোষে নতুন করে প্রাণ ফেরাতে ভূমিকা রাখে।

‘বেটেইন’ ও লিভারের চর্বি কাটার বিজ্ঞান

মার্কিন পুষ্টিবিদ জিলিয়ান কুবাল্লা বলেন, “বিটরুটের গাঢ় লাল রংয়ের প্রধান উৎস হল, এর ভেতরে থাকা ‘বেটেইন’ নামক শক্তিশালী ‘নাইট্রোজেনাস’ যৌগ। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, এই বেটেইন উপাদান লিভারের কোষগুলোতে অতিরিক্ত লিপিড বা চর্বি জমা হওয়ার প্রক্রিয়াকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করে।”

এটি লিভারের ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ কমিয়ে ফ্রি-র‌্যাডিক্যাল ধ্বংস করার পাশাপাশি ধমনী থেকে ক্ষতিকর চর্বি বের করে দিয়ে লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

‘নাইট্রেট’ এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি

বিজ্ঞান বলছে, বিটের জুসে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ‘নাইট্রেট’ থাকে, যা চিবানো বা পানের পর মানুষের মুখের লালার সঙ্গে মিশে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ গ্যাসে রূপান্তরিত হয়।

এই নাইট্রিক অক্সাইড মূলত লিভারের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোকে শিথিল বা ‘রিল্যাক্সড’ করে দেয়, ফলে যকৃতে রক্ত ও অক্সিজেনের সঞ্চালন বেড়ে যায়।

লিভারের উন্নত রক্ত সঞ্চালন, এর অভ্যন্তরীণ প্রদাহ শান্ত করতে এবং ‘হেপাটিক স্টিয়াটোসিস’ বা চর্বির মাত্রা কমাতে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

লিভার এনজাইম স্বাভাবিক করা

জিলিয়ান কুবাল্লা বলেন ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ‘হেপাটোলজি’ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যখন একটানা ১২ সপ্তাহ বা ৩ মাস নিয়মিত, পরিমিত পরিমাণে বিটের রস বা নির্যাস গ্রহণ করেছেন, তখন তাদের রক্ত পরীক্ষায় লিভারের ক্ষতিকর এনজাইম, যেমন- ‘এএলটি’ এবং ‘এএসটি’-এর মাত্রা নাটকীয়ভাবে স্বাভাবিক সীমারেখায় নেমে এসেছে।”

এটি লিভারের কোষের অকাল ক্ষয় সরাসরি রোধ করতে সহায়তা করে।

বিটের রস তৈরির বৈজ্ঞানিক নিয়ম ও পরিমাণ

বিটের সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ বজায় রাখার পাশাপাশি এর সিট্রাস উপাদান অক্ষুণ্ণ রাখতে চিকিৎসকেরা একটি বিশেষ পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন।

রেসিপি ও মেশানোর পদ্ধতি: ১টি মাঝারি আকারের কাঁচা বিটরুট ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করে নিতে হবে। এবার বেন্ডারে সামান্য বিশুদ্ধ পানি এবং সঙ্গে ১ চা-চামচ তাজা লেবুর রস ও সামান্য আদা কুচি দিয়ে ব্লেন্ড করতে হবে।

লেবুর ভিটামিন-সি বিটের আয়রন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টকে মস্তিস্ক ও লিভারে সহজে শোষণ হতে সাহায্য করে।

পরিমাপ: লিভারের সুরক্ষায় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ দিন সকালে খালি পেটে বা নাস্তার সঙ্গে ১ গ্লাস (প্রায় ২০০ মিলি) তাজা বিটের জুস পান করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

বিট জুসের সঙ্গে লেবু ও আদার মিশ্রণের উপকারিতা

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু বিটের রসের চেয়ে এর সঙ্গে তাজা লেবুর রস এবং আদা কুচি মিশিয়ে গ্রহণ করলে লিভার, ধমনী এবং মেটাবলিজমের ওপর ‘সিনার্জিস্টিক’ বা সম্মিলিত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালের ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদ ডা. এলিজাবেথ রবিনসন এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষকেরা এই মিশ্রণের ৩টি বড় বৈজ্ঞানিক সুফল এবং ২টি ক্ষতিকর অপকারিতা বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন।

আয়রন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের শোষণ

ডা. এলিজাবেথ রবিনসন ব্যাখ্যা করেন, “বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ্জ আয়রন বা ‘নন-হেম আয়রন’ এবং ‘বেটালাইন’ নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে।”

মানুষের শরীর প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভিজ্জ আয়রন, সহজে শুষে নিতে পারে না। তবে বিটের রসের সঙ্গে যখন লেবুর তাজা রস মেশানো হয়, তখন লেবুর উচ্চ মাত্রার ভিটামিন-সি বিটের নন-হেম আয়রনের রাসায়নিক রূপ পরিবর্তন করে তাকে ‘ফেরাস’ আয়রনে রূপান্তর করে।

এই ফেরাস রূপটি মানুষের পরিপাকতন্ত্রে চার গুণ দ্রুত ও সহজে শোষিত হয়, যা রক্তস্বল্পতা নিমেষেই দূর করে।

ফ্যাটি লিভারের প্রদাহ ও পিত্তরসের ক্ষরণ দ্বিগুণ নিঃসরণ

পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, আদার ভেতরে থাকা প্রধান সক্রিয় বায়ো-অ্যাক্টিভ যৌগ ‘জিঞ্জেরল’ এবং লেবুর ‘সিট্রিক অ্যাসিড’ লিভারে গিয়ে পিত্তরস বা বাইল জুস নিঃসরণের গতি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়।

এই পিত্তরস ধমনী ও লিভারের কোষে জমে থাকা শক্ত চর্বির কণাগুলোকে ভেঙে তরল করে শরীর থেকে ছেঁকে বের করে দেয়। ফলে ফ্যাটি লিভারের রোগীদের লিভার এনজাইম সাধারণের চেয়ে অনেক দ্রুত স্বাভাবিক সীমারেখায় নেমে আসে।

রক্তনালী পরিষ্কার ও ধমনীর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

বিটের নিজস্ব নাইট্রেট মুখের লালার সঙ্গে মিশে যে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ তৈরি করে, সেটার সঙ্গে লেবুর পটাসিয়াম এবং আদার প্রদাহরোধী উপাদান মিশে আরও বেশি সময় সচল রাখতে সাহায্য করে।

এটি রক্তনালীর দেয়ালগুলোকে পরিষ্কার রাখে এবং স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়, যার ফলে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

কড়া অপকারিতা ও চিকিৎসকদের বিশেষ সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের হেপাটোলজিস্ট (লিভার বিশেষজ্ঞ) ডা. ক্রিস্টিনা ক্যাটালানো বলেন, “মিশ্রণটি সুস্থ মানুষের জন্য আশীর্বাদ হলেও, কিছু সুনির্দিষ্ট শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”

তীব্র গ্যাস্ট্রিক ও দাঁতের এনামেল ক্ষয়: বিটের রসের তীব্র ক্ষার এবং লেবুর রসের কড়া অ্যাসিডের মেলবন্ধনে যাদের পরিপাকতন্ত্র দুর্বল, তাদের খালি পেটে এটি পানের পর তীব্র বুক জ্বালাপোড়া, পেট মোচড়ানো কিংবা অ্যাসিড রিফ্লাক্স হতে পারে।

তাছাড়া নিয়মিত সরাসরি সিট্রাস জুস পানে দাঁতের প্রতিরক্ষামূলক সাদা এনামেল স্তর চিরতরে ক্ষয়ে যেতে পারে; তাই এই জুস সবসময় স্ট্র দিয়ে পান করা এবং পানের পর সাধারণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা আবশ্যক।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গ্লুকোজ স্পাইক: বিটরুটে প্রাকৃতিকভাবেই শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। এর সঙ্গে যদি স্বাদের জন্য আপেল বা গাজরের রস মেশানো হয়, তবে এর আঁশ নষ্ট হয়ে তরল ফ্রুক্টোজ রক্তে মিশে ডায়াবেটিসের রোগীদের রক্তের শর্করার মাত্রা হঠাৎ বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে দিতে পারে।

রক্ত পাতলা করার ওষুধের সঙ্গে ক্ষতিকর প্রভাব: আদা প্রাকৃতিকভাবেই রক্তকে কিছুটা পাতলা করতে সাহায্য করে। যারা স্ট্রোক বা হার্টের ব্লকের কারণে আগে থেকেই চিকিৎসকের দেওয়া ‘অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট’ থেরাপির ওষুধ খাচ্ছেন, তারা অতিরিক্ত আদা-বিটের জুস খেলে রক্ত অতিরিক্ত পাতলা হয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অক্সালেট ও কিডনি পাথরের ঝুঁকি

ডা. ক্রিস্টিনা ক্যাটালানো কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, “বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে ‘অক্সালেট’ থাকে। তাই যাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেশি বা যাদের কিডনিতে পাথর বা ‘স্টোন’ হওয়ার পূর্ব ইতিহাস রয়েছে, তাদের জন্য বিটের জুস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”

রক্তে সুগারের হঠাৎ বৃদ্ধি: বিটে প্রাকৃতিকভাবেই শর্করার পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে, তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা কড়া মিষ্টি উপাদান বা মধু না মিশিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত খেতে হবে।

রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া: যারা উচ্চ রক্তচাপের নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন, তারা অতিরিক্ত বিটের জুস খেলে এর নাইট্রিক অক্সাইড রক্তচাপকে হুট করে বিপজ্জনক মাত্রায় নামিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি লিভারের টক্সিন প্রস্রাবের মাধ্যমে সহজে ছেঁকে বের করতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক।

মনে রাখতে হবে

কোনো পানীয়ই রাতারাতি ফ্যাটি লিভার সারাতে পারে না, যদি না দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে প্রক্রিয়াজাত চিনি, ডালডা, তেল ও অতিরিক্ত ফাস্টফুড পুরোপুরি বর্জন করা হয়।

আমেরিকান লিভার ফাউন্ডেশনের চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা, সঠিক সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং পরিমিত বিটের জুস পানের মিলিত সমন্বয়ে লিভারকে চর্বিমুক্ত ও রোগমুক্ত রাখা সম্ভব।

সূত্র : বিডিনিউজ২৪

ভাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রির দায় ৫ ফার্মেসিকে জরিমানা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১১ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রির দায় ৫ ফার্মেসিকে জরিমানা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ বিক্রির দায়ে ৫টি ফার্মেসিকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​সোমবার (২৪ আগস্ট) ভাঙ্গা বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদরুল আলম সিয়াম।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওষুধ ও কসমেটিক আইন ২০২৩ অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভাঙ্গা বাজারের রায় ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা, ন্যাশনাল মেডিকোকে ১০ হাজার টাকা, বৃষ্টি ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা, পদ্মা ড্রাগ হাউসকে ৮ হাজার টাকা এবং একতা ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

​আদায় করা জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ওষুধগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

​অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে আতঙ্কে ভাঙ্গা বাজার এলাকার প্রায় অর্ধশত ওষুধের দোকান বন্ধ করে সটকে পড়েন ব্যবসায়ীরা।

​অভিযানের সময় ফরিদপুর জেলা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হাসান এবং ভাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

​ভাঙ্গার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদরুল আলম সিয়াম জানান, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাজারে ওষুধের অনিয়ম বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে অজ্ঞাতনামা গাড়ির ধাক্কায় সালাউদ্দিন মোল্লা (২২) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই আরোহী।

​সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত সালাউদ্দিন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কুমারদিয়া গ্রামের আদম মোল্লার ছেলে। দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন একই এলাকার সাব্বির শেখ (১৮) ও তামিম হোসেন (২৮)। তাঁরা নিহত সালাউদ্দিনের বন্ধু।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা থেকে এক মোটরসাইকেলে তিন বন্ধু ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকাগামী লেন দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত গাড়ি তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সালাউদ্দিনের মৃত্যু হয় এবং অপর দুই বন্ধু মারাত্মক আহত হন।

​পরে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত সালাউদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে এবং গুরুতর আহত সাব্বির ও তামিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবচর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও লাশ উদ্ধার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।